সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬,
১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: দিল্লিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে সেমিনার পুলিশের বাধায় বাতিল      মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কোনো ঝুঁকি দেখছে না ঢাকা : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী      সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিন আহমেদকে তলব দুদকের      সাগর-রুনি হত্যায় একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের ‘কানেকশন মিলেছে’ : চিফ প্রসিকিউটর      ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে মাইলফলক হবে লালদিয়া টার্মিনাল : অর্থমন্ত্রী      হামের উপসর্গে আরও চার শিশুর প্রাণহানি      ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে: রাষ্ট্রপতি      
খোলাকাগজ স্পেশাল
সীমান্তে আগ্রাসী বিএসএফ
রবিউল ইসলাম
প্রকাশ: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৮ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিবর্ষণ ও বাংলাদেশি নাগরিক নিহতের ঘটনা দীর্ঘদিনের একটি সংবেদনশীল সমস্যা। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত বৈঠকে বারবার সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনা এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার কিছুই মানে না বিএসএফ। এর কোনো স্থায়ী সমাধানও দেখা যাচ্ছে না। সীমান্তে প্রতিমাসেই কেউ না কেউ বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছেন। 

সবশেষ রোববার হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে সোহাগ মিয়া (২০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।

উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, অনুপ্রবেশ বা সীমান্ত সমস্যা থাকলেও তার প্রতিকারে বিএসএফ কোনোভাবেই প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে না। এর নিয়মও নেই। কিন্তু তারা তা মানে না। এ পরিস্থিতি বন্ধ করতে বাংলাদেশকে প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে। একইসঙ্গে বিজিবি-বিএসএফের নিয়মিত সমন্বয় ও উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

গত ৮ আগস্ট মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের মাগুরুলি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে তারা মিয়া (২০) নামে এক বাংলাদেশি তরুণ নিহত হন। গত ১০ আগস্ট চাতলাপুর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারা মিয়া কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তি এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে।

গত ১২ জুন একই উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন মুজিব আলী (২০)। ১৪ মে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার আমঝোল সীমান্তে খাদেমুল হক (২৫) নামে এক যুবক এবং ৮ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হন।

আট মাসে অন্তত ১৪ জন বাংলাদেশি নিহত :

এদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের চলতি আগস্ট মাসের এই আট মাসে অন্তত ১৪ জন বাংলাদেশিকে গুলি করে ও নির্যাতন করে হত্যা করেছে বিএসএফ। ২০২৫ সালে বিএসএফের হাতে ৩৪ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুলিতে ২৪ এবং শারীরিক নির্যাতনে ১০ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে সীমান্তে নিহত হন ৩০ জন, ২০২৩ সালে ৩১, ২০২২ সালে ২৩ এবং ২০২১ সালে ১৮ জন।

সীমান্ত হত্যা নিয়ে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রাণহানিতে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের দাবিও হচ্ছে, কেউ সীমান্ত আইন ভাঙলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, গুলি কিংবা নির্যাতন করে হত্যা করা হবে কেন?

বারবার বৈঠক হলেও কমছে না হত্যা :

অন্যদিকে সীমান্তে পুশইন ঠেকানোসহ হত্যা বন্ধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বৈঠক এবং প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ঘটছেই। সর্বশেষ ১৭ আগস্ট পুশইনের চেষ্টা, মাদক চোরাচালান ও সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে ফেনীর বিলোনিয়া জিরো পয়েন্টে মুখোমুখি বৈঠক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। 

বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল এমএম জিল্লুর রহমান জানান, নিয়মিত সূচির অংশ হিসেবে এ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে সীমান্তের নানা বিষয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার কথা হয়েছে। পুশইন বন্ধের বিষয়েও তাদের বলা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া এসেছে।

এছাড়া গত ২৯ জুলাই নীলফামারী সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের অধিনায়ক পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সীমান্তে কোনো ধরনের পুশইন না করা এবং নিরীহ-নিরস্ত্র ব্যক্তিদের ওপর গুলি চালানো থেকে বিরত থাকতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) প্রতি আহ্বান জানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সেইসঙ্গে মাদকসহ সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে উভয় বাহিনীর যৌথ উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় বৈঠকে।

জোরালো প্রতিবাদ অব্যাহত রাখা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সীমান্তে বিএসএফের হাতে নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ বিষয়ে জোরালো প্রতিবাদ অব্যাহত রাখা হবে। প্রাণঘাতী অস্ত্রের পরিবর্তে ‘নন-লিথাল’ বা অমরণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএসএফ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্ত হত্যার ঘটনা কমাতে ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ নৈশ টহল বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তে যে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটলে কোম্পানি বা ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে দ্রুত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রায় প্রতি মাসেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোনোভাবেই একটি স্বাভাবিক সীমান্ত-নিরাপত্তা পরিস্থিতি হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। বারবার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও যদি কার্যকর তদন্ত, জবাবদিহি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত না হয়, তাহলে দায়মুক্তির একটি সংস্কৃতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

পরামর্শ দিয়ে এই মানবাধিকার কর্মী বলেন, এ পরিস্থিতি বন্ধ করতে বাংলাদেশকে প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে। একইসঙ্গে বিজিবি-বিএসএফের নিয়মিত সমন্বয় ও উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  সীমান্ত   আগ্রাসী   বিএসএফ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close