কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগের জমিতে প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চললেও বিষয়টি জানতেন না বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের উখিয়া রেঞ্জের সদর বিটের ফলিয়াপাড়া ঘোনারপাড়া এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমির একটি অংশে পাকা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই একর বনভূমি দখল করে স্থাপনাটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবনের প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে। বাকি অংশে ইটের গাঁথুনির কাজ চলছে। ঘটনাস্থলে ইট, বালু ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীও রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে জাফর আলম ওরফে রইশ্যা বর জাফরের ছেলে মিজান ওই স্থাপনা নির্মাণ করছেন। তবে নির্মাণকাজ চললেও বিষয়টি বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানা ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সদর বনবিটের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বনভূমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, পাহাড় কাটা, গাছ নিধন ও ছড়া থেকে বালু উত্তোলন চলছে। এতে বনভূমি ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে বনভূমি দখলে সহায়তা করছেন। তবে বন বিভাগের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
পরিচয় গোপন রেখে নির্মাণকারী মিজানের সঙ্গে কথা বললে তিনি দাবি করেন, বনভূমিতে স্থাপনা নির্মাণের জন্য স্থানীয় কয়েকজন হেডম্যানের মাধ্যমে বন বিভাগকে টাকা দিয়ে কাজ করতে হয়। সাংবাদিকদেরও ম্যানেজ করতে হয় বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, এ পর্যন্ত এ ধরনের কাজে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সদর বিট কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, “এখানে বাড়িঘর নির্মাণের বিষয়টি আমি জানতাম না। তবে কয়েকজন ব্যক্তি হেডম্যান পরিচয়ে বন বিভাগের কথা বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নেন—এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বন বিভাগের কেউ এর সঙ্গে জড়িত নেই।”
তিনি আরও বলেন, “কথিত হেডম্যান ইব্রাহীম ও কথিত ভিলেজার ছৈয়দ আকবর ওরফে কালাসোনা বন বিভাগের কথা বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি বন বিভাগের নজরে এসেছে। এখন যেহেতু নির্মাণকাজের বিষয়টি জানা গেছে, স্থাপনাটি উচ্ছেদ করে মামলা করাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শাহিনুর ইসলামকেও অবহিত করা হলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, শুধু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেই হবে না। বনভূমি দখল ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল বন্ধ করা কঠিন হবে।
কেকে/সাশ