পাবনার ফরিদপুর উপজেলার দেওভোগ-দহপাড়া গ্রামে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুতে ওঠার জন্য নেই কোনো সংযোগ সড়ক। ফলে বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো বেয়ে সেতুতে উঠতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১ কোটি ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খালেদা কনস্ট্রাকশন।
প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা সংশোধন করে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী সেতুর উভয় পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কথা ছিল। তবে সেতুর মূল নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল তুলে নিয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো এর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন একটি সেতু। কিন্তু সেতুর দুই পাশে নেই ওঠানামার উপযোগী কোনো সড়ক। পাশেই রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে দহপাড়া, দেওভোগ, বাঙ্গাবাড়িয়া ও লক্ষীকোল গ্রামের মানুষের চলাচলে তৈরি হয়েছে চরম দুর্ভোগ।
সেতুতে ওঠার জন্য স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেছেন। প্রতিদিন সেই সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে সেতুতে উঠছেন এবং খাল পারাপার হচ্ছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে শিশু, শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও রোগীদের চলাচলে বেশি সমস্যা হচ্ছে।
বৃলাহিড়ীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রিপন বলেন, “ব্রিজের দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। জনস্বার্থে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করা দরকার।”
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মানিকুজ্জামান বলেন, “ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।”
স্থানীয়দের দাবি, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির সুফল পেতে দ্রুত দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ শেষ করতে হবে। অন্যথায় গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি থাকলেও মানুষের দুর্ভোগ থেকেই যাবে।
কেকে/সাশ