মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের মিতৃংঙ্গা চা বাগানের পাঁচ নৈশপ্রহরীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মো. রেজাউল হায়াত খান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে বাগানের ২৬ নম্বর সেকশনের সীমানা গেটসংলগ্ন চৌকিদারদের ঘরে হামলা চালানো হয়। অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের একটি দল বাঁশের লাঠি, কাঠের রুল, লোহার রড ও ধারালো দা নিয়ে সেকশন ঘরে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে সুবল মুন্ডা ও রাজেশ হাজংয়ের মাথা ও শরীরে গুরুতর কাটা জখম হয়। সুমন গড়ের বাম হাত ভেঙে যায় এবং ফুল চাঁন ও রতন উড়াংকে রড ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। শ্রমিকদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বাগান হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হামলায় আহত শ্রমিকেরা হলেন— সুবল মুন্ডা (৩০), রাজেশ হাজং (২৫), সুমন গড় (৩০), ফুল চাঁন উড়াং (৫৮) ও রতন উড়াং (৪০)। তারা সবাই চা বাগানের স্থায়ী শ্রমিক এবং সেকশন চৌকিদার (নৈশপ্রহরী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মো. রেজাউল হায়াত খান বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমর উদ্দিন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।’
এদিকে রাতের আঁধারে পাহারারত শ্রমিকদের ওপর এমন হামলায় বাগানের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
কেকে/এআই