বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: নানামুখী সংকটে বাড়ছে অসন্তোষ      আসিফ মাহমুদসহ চারজনের দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে দুদক      প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় বাংলাদেশই ঠিক করবে : চিফ হুইপ      নেপালের দুর্যোগে মানবিক সহায়তার ঘোষণা বাংলাদেশের      ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সুযোগ ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত      আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু      ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পাল্টা জবাব তেহরানের      
খোলাকাগজ স্পেশাল
ফের সক্রিয় বটবাহিনী
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৬ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মাঠ গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছে রাজনৈতিক দলগুলো। এরমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বটচক্র। বিরোধীমত ঘায়েল করতে তৎপর হয়ে উঠেছে এ চক্রটি। জাতীয় নির্বাচনের আগেও বটচেক্রর এমন তৎপরতা দেখা গেছে। 

সংশ্লিষ্টদের দাবি— নির্বাচন ঘিরে জনমত প্রভাবিত করতে নতুন কৌশলে অনলাইন প্রচারণা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সংগঠিত এ চক্রটি। এরই মধ্যে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনায় দেওয়া হচ্ছে বড় অংকের অর্থের জোগান। বিশেষ করে সরকারকে চাপে ফেলতে বিভিন্ন ধরণের ন্যারেটিভ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কাজ নিয়েও জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। তবে এসব বটবাহিনী নিয়ন্ত্রণে সরকারের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই বলেও মনে করছেন তারা। 

তাদের ভাষ্য— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের বক্তব্য, পোস্ট ও মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলের পক্ষে-বিপক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। আগের মতো শুধু ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার নয়, এবার তুলনামূলকভাবে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় এমন প্রোফাইল, বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপকে কাজে লাগানোর কৌশল নিয়েছে। এতে স্থানীয় নির্বাচনে এ ধরনের তৎপরতা ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। 

বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ— স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের বিরুদ্ধে অনলাইন প্রচারণা পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্টদের একটি অংশকে অর্থের জোগান দেওয়া হচ্ছে। যা দিয়ে এখন থেকে বিএনপি ও সরকারের বিরুদ্ধে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। 

তাদের দাবি— গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও আক্রমণাত্মক প্রচারণার অভিযোগ ওঠার পরও বিএনপি এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। যার ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ফের একই ধরনের অনলাইন তৎপরতা চলছে।

এদিকে বট নিয়ে আলোচনা গাড়িয়েছে জাতীয় সংসদ অধিবেশনেও। বিরোধী দলের এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন বিএনপি কোনো বট-বাহিনী পরিচালনা করে না। যার ফলে দলটির বিরুদ্ধে বট ব্যবহারের তথ্য তুলনামূলকভাবে কম। 

একইসঙ্গে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে ম্যানুয়াল ফ্যাক্ট চেকিংয়ের পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য যাচাইয়ের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। গতকাল বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে শেরপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুলের সম্পূরক প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কোনও বট-বাহিনী চালায় না। যার কারণে বিএনপির ছয় মাসের ৬০টি।  অন্যান্য দলের যেই তথ্য দেওয়া হয়েছে। তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিরপেক্ষভাবে করি এবং ফ্যাক্ট চেকিংয়ের জন্য শুধু ম্যানুয়াল নয়, আমরা অটোমেটেডভাবে ফ্যাক্ট চেকিং করার জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। অচিরেই এই বিষয়ে আমরা সংসদকে অবহিত করতে পারব বলে আশা করি।’

এর আগে বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।  তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী প্রিন্ট মিডিয়ায় ছাপানো অপতথ্য বা বিভ্রান্তিমূলক নিউজের বিরুদ্ধে কেবলমাত্র অভিযোগ করা যায়। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রিন্ট মিডিয়া যারা চালায়, তারা অনলাইন মিডিয়ার দিকে আক্রমণ করে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য ছড়ালেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। যেহেতু কেবল প্রিন্ট মিডিয়ায় ছাপানোর ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’

তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন, এই বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিল যেটি রয়েছে, সেটিকে যুগোপযোগী করা হবে কি না? এবং অনলাইন ভার্সনে কাউকে যদি ব্যক্তি আক্রমণ করা হয়, যেমন আমি এই সংসদে বসুন্ধরা মিডিয়ার বিরুদ্ধে তথ্যমূলক কথা বলার পরে ৪৮ ঘণ্টায় আমার বিরুদ্ধে ১০৯টি উদ্দেশ্যমূলক নিউজ করানো হয়েছে। 

এখন প্রেস কাউন্সিলে সেটি নিয়ে অভিযোগ দেওয়া যায়নি। কারণ এগুলো যেহেতু প্রিন্ট মিডিয়ায় আসেনি। তো আজকে আপনার কাছে প্রশ্ন, বিরোধী দলকে টার্গেট করে এভাবে যে অপতথ্য সব সময় করে যাওয়া হয়, সেগুলোর বিরুদ্ধে আমরা প্রেস কাউন্সিলে কীভাবে ব্যবস্থা নিতে পারি এবং এই আইনটি সংশোধন করা হবে কি না।’

জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিস্তারিত বলতে গেলে একটি নোটিসের প্রয়োজন। তারপরও আমি একটু বলতে চাই, যদি শুধু বিরোধীদলীয় সদস্যদের আক্রমণ করা হচ্ছে তা কিন্তু নয়। বাংলাদেশের মা-বোনদেরকেও আক্রমণ করা হচ্ছে। আক্রমণ করা হচ্ছে বিভিন্ন সরকারি দলের সদস্যদেরও এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে আক্রমণ করা হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। প্রেস কাউন্সিল আমরা রিভ্যাম্প করছি। সুন্দরভাবে প্রেস কাউন্সিল গঠন করা হবে এবং আপনি যেই অনলাইনের কথা বলেছেন, সেটাও আমাদের বিবেচনার মধ্যে আছে। আমরা এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে।’

অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে মিসইনফরমেশন এবং ডিসইনফরমেশন কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, কীভাবে বন্ধ করা যায়, সেই বিষয়ে অন্যান্য দেশে কী কী পদক্ষেপ তারা গ্রহণ করেছে, বিষয়টি আমরাও বিবেচনা করছি। আমরা এ বিষয়ে কনসালটেশন করছি। আমরা একটি সুন্দর কাঠামো দাঁড় করাতে পারব বলে বিশ্বাস করি।’

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  সক্রিয়   বটবাহিনী  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close