শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২০ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল সংসদে      রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করলো মিয়ানমার      বেনজীরের অবস্থান জানতে ইন্টারপোলে ফের চিঠি      আসিফ মাহমুদের দেয়া সব নিয়োগ-পদোন্নতির নথি তলব দুদকের      আগস্টে মব সহিংসতায় নিহত ২৮, নদী-খাল-জঙ্গলে হত্যাকাণ্ডের শিকার ৮৭      সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ, উদ্ধার ১৩ হাজার ৬৭৯       ডেঙ্গুতে আরও চার মৃত্যু, নতুন রোগী ১২৫২      
খোলাকাগজ স্পেশাল
নিত্যপণ্যের দামে ‘চিড়েচ্যাপ্টা’
খোলা কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২০ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

চাল-ডাল-তেল থেকে শুরু করে সব ধরনের শাকসবজি ও রান্নার উপাদানের ঊর্ধ্বমুখী দামে পিষ্ট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, উৎপাদন ও সরবরাহ খাতে ধারাবাহিক চাপ এবং জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাবে খুচরা বাজারে বেশিরভাগ পণ্যের দাম চড়া থাকায় সীমিত আয়ের মানুষের পকেটে টান পড়েছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে চরম সংকটে ফেলে দিয়েছে।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যায় বিস্তীর্ণ জনপদের ফসল, সবজি, মাছ, মুরগি ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি কৃষক। ফলে বাইরে থেকে আসা পণ্যের বড় একটি অংশের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে শহরের মানুষকে। যে কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই কাঁচাবাজারগুলোতে পণ্যের দাম তুলনামূলক চড়া। 

৫০ টাকার নিচে মিলছে মাত্র ২ ধরনের সবজি : 

টানা বৃষ্টি, জ্বালানি সংকটের মধ্যে সবজির দামে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও বাজারে চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ সবজি। তবে এখন বাজারে পাওয়া ২১ ধরনের সবজির মধ্যে শুধুমাত্র পেঁপে ও বড় করলা মিলছে ৫০ টাকার নিচে। এছাড়া কোনো কোনো সবজির দাম ১০০ টাকা বা তার বেশি। 
 
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিএনপি বাজার, হাতিরপুল ও মোহাম্মদপুরের টাউন হল কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। 

দেখা গেছে, কয়েক ধরনের সবজির সরবরাহ আগের চেয়ে বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পটোল, শসা, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও চালকুমড়া। এসব সবজির কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা। পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। বেগুন ৮০ টাকা এবং শিম ১৮০ টাকা দামে বেচাকেনা হচ্ছে। 

এদিকে মাছের মধ্যে তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৫০, রুই-কাতলা ৩৫০ থেকে ৪০০, চিংড়ি এক হাজার থেকে এক হাজর ৩০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মৃগেল ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা, আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

ছোট আকারের, অর্থাৎ ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ৯০০ টাকা, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম প্রায় এক হাজার টাকা ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি থেকে দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশের দাম কেজি দুই হাজার ৫০০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা। এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বাজারভেদে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারভেদে এই দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমবেশি হয়ে থাকে। 

খুচরা ও পাইকারি বাজারে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। মোটা চালের (স্বর্ণা) কেজি ৫১-৫২ টাকা ছিল। এখন তা ৫৬-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের চালের মধ্যে (পাইজাম ও বিআর-২৮) কেজি প্রতি ৭০-৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে জাত ও মানভেদে চিকন চাল নাজিরশাইল চাল ৮২ থেকে ৮৫ টাকা, মিনিকেট চাল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের বিআর ২৮ ও ২৯ নম্বর চাল ৬২ থেকে ৬৫ টাকা এবং গুটি, চায়না ইরিসহ মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। 

কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা রাজিব হোসেন বলেন, ‘বন্যার কারণে জিনিসপত্রের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছিল। তবে এখন সরবরাহ বাড়ছে। ফলে দাম কমে আসছে। দাম যেভাবে বেড়েছিল, সেভাবে কমছে না।’ 

ব্যবসায়ীরা জানান, বৃষ্টির মৌসুমে কচুর লতি, কাঁকরোল, ঢ্যাঁড়স, পটল, ধুন্দল, কচুর মুখির মতো সবজির সরবরাহ সাধারণত বাড়ে। এ কারণে এখন এসব সবজির দাম তুলনামূলক কম থাকার কথা। তবে বাজারে এসব সবজির দাম ৫০ টাকার ওপরে। 

বিএনপি বাজারে সবজি বিক্রি করেন রাজন মিয়া। তিনি বলেন, সবজির দাম আগের মতোই, কয়েকটির কমেছে। আবার কয়েকটির দাম বেড়েছে। তবে বেশিরভাগ সবজির দামই অপরিবর্তিত। মুঠি কচু, চিচিঙ্গা, ঢ্যাঁড়সের দাম কিছুটা কমেছে। রাজিব হোসেন নামের আরেক বিক্রেতা বলেন, চাষাবাদ কম, ঝড়-বৃষ্টিসহ নানান কারণে সবজির দাম চড়া। পাইকারিতেই দাম বেশি, ফলে খুচরাতেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। 

মুরগি ও ডিমের দামও এখনো চড়া। ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৫০ টাকা। কমেনি মাছের দামও। প্রতিকেজি বাইন মাছ ৮০০ টাকা, মান ভেদে প্রতিকেজি চিংড়ি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০- ২৫০ টাকা, রুই-কাতল ৩৫০- ৪২০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে। আকার ভেদে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। 

চড়া দামে ক্রেতারাও রয়েছেন অস্বস্তিতে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধিতে পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কার কথা জানান ক্রেতারা। হাতিরপুল বাজারে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সবুর আহম্মেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, মাছ ও মাংসের দাম দীর্ঘদিন ধরেই বেশি। কিন্তু এই মৌসুমে সবজির দামও অনেক বেশি। এটা আসলে উদ্বেগজনক। নিয়মিত মনিটরিং হলে বাজারে স্বস্তি আসবে। 

নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে : 

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা ও মনিটরিং করা হচ্ছে। গতকাল জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগমের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়মিত বাজার তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুতদারি, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে আমদানি সহজীকরণ, প্রয়োজন অনুযায়ী শুল্ক ও করসংক্রান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারে পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষার লক্ষ্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে ভর্তুকিমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি। 

মন্ত্রী আরও বলেন, ভোজ্যতেল, চিনি, আটা, ডাল, মসলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং এসব পণ্যের মূল্য সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে সরকার সাপ্লাই চেইন (সরবরাহ ব্যবস্থা) স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এ লক্ষ্যে উৎপাদক, আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী পর্যায়ে পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে বাজার তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  নিত্যপণ্য   দাম   চিড়েচ্যাপ্টা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close