ঢাকার ধামরাইয়ে পরিকল্পিত ও মডেল টাউন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ।
তিনি বলেছেন, “নারীরা ঘর-সংসার সামলানোর পাশাপাশি রাস্তা নির্মাণ, মাটি ভরাটসহ বিভিন্ন কাজ করতে পারেন। কোনো কাজই ছোট নয়, এসব কাজ করতে নারীদের লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই; বরং এটি গর্বের বিষয়।”
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ধামরাইয়ে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সুলতানা আহমেদ।
তিনি বলেন, “নারীদের উন্নয়নের জন্য আমি প্রথম রাস্তার কাজ দিয়েছি। তাদের বলেছি, তোমরা মাটি ভরাটের কাজ করো, ইটের কাজ করো। কোনো কাজই ছোট নয়। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, কোনো কাজ ছোট নয়।”
নারীদের কর্মক্ষেত্রে আরও বেশি অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “মহিলারা রান্না করবেন, ঘর সামলাবেন, সন্তান সামলাবেন, আবার মাটি কাটার কাজও করবেন—অসুবিধা কী আছে? এখানে কোনো লজ্জা-শরমের ব্যাপার নেই। আমি মনে করি, এটা আমাদের গর্বের বিষয়।”
ধামরাইয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, “এলাকাটিকে আরও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।” আগামী দিনে ধামরাইকে একটি মডেল টাউন হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে বিএনপির রাজনীতি ও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও কথা বলেন সুলতানা আহমেদ। তিনি বলেন, “জাতীয়তাবাদী দল ঐক্যের দল এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করতে দলীয় নেতৃত্ব নির্দেশনা দিয়েছেন।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে সুলতানা আহমেদ বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী বান্ধব প্রধানমন্ত্রী। তিনি জনগণের প্রধানমন্ত্রী। ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে সারা বাংলাদেশের নারীদের গর্বিত করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।” দেশের অগ্রগতির জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ধামরাইয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে সুলতানা আহমেদ বলেন, “এলাকায় দুইজন সংসদ সদস্য রয়েছেন এবং তারা সমানভাবে উন্নয়নকাজ করে যাচ্ছেন।” তার দাবি, ইতিমধ্যে ধামরাইয়ে বিভিন্ন সড়কের কাজ হয়েছে। বিভিন্ন বরাদ্দ ও অনুদান সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হচ্ছে।
দেশের পরিবেশ ও সবুজায়ন নিয়েও কথা বলেন তিনি। সুলতানা আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশকে সবুজ রাখতে বিভিন্ন জায়গায় গাছ লাগানো হচ্ছে।” ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও এগিয়ে যাবে এবং দেশকে আরও সুন্দরভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা খন্দকার, ধামরাই উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক লিপা আক্তার, পৌর মহিলা দলের সুমাইয়াসহ বিএনপি, মহিলা দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
কেকে/সাশ