ম্যানচেস্টার সিটিতে এনজো ফার্নান্দেজের যোগ দেওয়ার ঘটনা শুধু আরেকটি বড় দলবদলের খবর নয়। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের জন্য এটি পুরোনো এক পরিচিত কোচের অধীনে নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ। এনজো মারেসকা এমন একজন কোচ, যিনি ফার্নান্দেজের সামর্থ্য ও খেলার ধরন সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত।
সিটির সঙ্গে চুক্তির পর ফুটবল ইতিহাসে দলবদল থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ আয়ের খেলোয়াড়দের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছেন ফার্নান্দেজ। বিভিন্ন ক্লাবের দলবদল মিলিয়ে তার ট্রান্সফার ফি এখন ৩১০ মিলিয়ন ইউরো। এই তালিকায় তার ওপরে রয়েছেন নেইমার ও রোমেলু লুকাকু। তাদের ক্ষেত্রে অঙ্কটি যথাক্রমে ৪০০ ও ৩৭৫ মিলিয়ন ইউরো।
ফার্নান্দেজ ও মারেসকার সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। চেলসিতে মারেসকার দায়িত্ব পালনের সময়ই দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ পেশাদার সম্পর্ক তৈরি হয়। মাঠের কৌশলগত বিষয় থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পর্যায়েও তাদের বোঝাপড়া ছিল ভালো। তাই চেলসি ছাড়ার পর মারেসকার ভবিষ্যৎ যেমন আলোচনায় আসে, তেমনি ফার্নান্দেজেরও পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
সেই সময়ে ফার্নান্দেজের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে আলোচনায় আসে রিয়াল মাদ্রিদের নাম। কিন্তু স্প্যানিশ জায়ান্টদের কাছ থেকে নিজের প্রত্যাশিত সাড়া পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে অন্যভাবে এবং ম্যানচেস্টার সিটির পথেই এগিয়ে যান আর্জেন্টাইন তারকা।
ফার্নান্দেজকে দলে পাওয়ার ব্যাপারে মারেসকার আগ্রহই ছিল বড় অনুঘটক। খেলোয়াড়টির সক্ষমতা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা থাকা এই কোচ তাকে আবার নিজের অধীনে চেয়েছিলেন। এরপর ক্লাব কর্তৃপক্ষও চুক্তিটি সম্পন্ন করে। ‘এএস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফার্নান্দেজকে পেতে সিটি খরচ করেছে ১৪৫ মিলিয়ন ইউরো।
সিটিতে এসে ফার্নান্দেজ পেয়েছেন এমন এক কোচের সমর্থন, যা রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি পাননি। মারেসকা শুরু থেকেই তার ওপর আস্থা দেখিয়েছেন। তার প্রমাণও দ্রুত মিলেছে। কোভেন্ট্রি সিটির বিপক্ষে প্রত্যাশার বাইরে একাদশে সুযোগ পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ফার্নান্দেজ। তার বানানো সুযোগ থেকেই এরলিং হালান্ডের জয়সূচক গোল আসে।
ফার্নান্দেজের এই দলবদলের আরেকটি দিকও বেশ আলোচিত। ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডে তাকে দলে নেয় সিটি, যা ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফির রেকর্ডের সমান। নতুন ক্লাবে মারেসকার পরিকল্পনায় মাঝমাঠকে আরও শক্তিশালী করার দায়িত্বও তার কাঁধে থাকবে। কারণ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড়কে হারিয়ে সিটির মিডফিল্ডে তৈরি হয়েছে শূন্যতা।
রিয়াল মাদ্রিদের দরজা তার প্রত্যাশামতো খোলেনি। তবে ম্যানচেস্টার সিটিতে এসে ফার্নান্দেজ পেয়েছেন এমন একজন কোচকে, যিনি তার সামর্থ্য জানেন, তাকে বিশ্বাস করেন এবং দলের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখতে চান। এখন সেই আস্থার প্রতিদান মাঠের পারফরম্যান্সে দিতে পারলেই বিশাল ট্রান্সফার মূল্যের যথার্থতা প্রমাণের সুযোগ থাকবে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের সামনে।
সূত্র: গোলডটকম
কেকে/সাশ