প্রায় এক বছর ধরে দুর্বল ও অস্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যায় ভুগছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ছাত্রী আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা। বারবার অভিযোগ জানিয়েও সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি। এর ফলে অনলাইন ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, ভার্চুয়াল মিটিংসহ বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবাসিক হলগুলোতে কয়েক মাস আগেই উন্নত ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা।
আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রী হলের ওয়াইফাই সংযোগ এতটাই দুর্বল ও অনিয়মিত যে অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করাও সম্ভব হয় না। সমস্যার কারণে অ্যাকাডেমিক কাজের জন্য বাধ্য হয়ে অনেককে ব্যক্তিগত মোবাইল ডাটা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপও তৈরি হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এনায়েত হাসান বলেন, ‘বিজয়-২৪ হলে প্রায় ছয় মাস আগে ভালো মানের ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শেরে বাংলা হলেও প্রায় তিন মাস আগে ইন্টারনেট সংযোগের উন্নয়ন করা হয়েছে।’
তবে ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবাসিক হলগুলোতে ইন্টারনেট সমস্যার সমাধান হলেও তাদের হলে দীর্ঘদিনেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তাপসী রাবেয়া বসরী হলের আবাসিক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের হলের ইন্টারনেটের অবস্থা নিয়ে এতবার অভিযোগ করার পরও কোনো অগ্রগতি নেই। ইন্টারনেটের স্পিড ও সংযোগের এমন অবস্থা প্রতিদিন মেনে নেওয়া খুবই সমস্যাদায়ক।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনলাইন ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, মিটিংসহ বিভিন্ন কাজের জন্য আমরা গুরুতরভাবে ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রতিদিন যদি ইন্টারনেটের এমন অবস্থা থাকে, তাহলে কোনো কাজই ঠিকভাবে করা সম্ভব হয় না। ক্লাস করা, কথা বলা কিংবা ভিডিও দেখা—সব ক্ষেত্রেই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।’
ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, সমস্যাটি কোনো নির্দিষ্ট কক্ষ বা রাউটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হলের রিডিং রুম, কমন রুম, আশপাশের বিভিন্ন কক্ষ এবং উপরের তলার অধিকাংশ কক্ষেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় ইন্টারনেট সংযোগের কারণে অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে অনলাইনে আলোচনা করাও সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়ে শুধু টেক্সটের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হয়। ছেলেদের হলগুলোতে অনেক আগেই ইন্টারনেট সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। অথচ আমাদের এতদিনেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন সুফিয়া কামাল হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘হলের ইন্টারনেট ব্যবহারই করা যায় না। ফলে ব্যক্তিগতভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে বড় অঙ্কের টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী হিসেবে এ অতিরিক্ত খরচ আমাদের জন্য আরও বেশি চাপের।’
শিক্ষার্থীদের দাবি, সমস্যাটির বিষয়ে তারা একাধিকবার হল কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছেন। তবে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। বরং প্রতিবারই বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি দপ্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে তাপসী রাবেয়া বসরী হলের প্রভোস্ট জানান, ছাত্রীদের দুইটি আবাসিক হলের ইন্টারনেট সংযোগ দ্রুততর ও উন্নত করার কাজ শিগগিরই শুরু হবে বলে তাকে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি দপ্তর।
তবে প্রায় এক বছর ধরে চলমান এ সমস্যার দ্রুত সমাধান চান ছাত্রী হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রম ইন্টারনেট নির্ভর হওয়ায় আবাসিক হলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্রী আবাসিক হলের ইন্টারনেট সুবিধার পার্থক্য দূর করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কেকে/এআই