সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে ভাইভা পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত নম্বর বাড়ানো এবং লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমানোর বিষয়ে বিধিমালা পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে মিছিলটি বের করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
মিছিলে উপস্থিত ছিলেন ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ শতাধিক নেতাকর্মী। এ সময় তারা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘ইসলামী ছাত্রশিবির, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘দিকে দিকে খবর দাও, ভাইভা প্রথার কবর দাও’, ‘ভাইভার নামে প্রহসন, চলবে না চলবে না’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘কোটা গেছে দিল্লিতে, ভাইভা যাবে লন্ডনে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, “বর্তমান সরকার সব জায়গায় দলীয়করণ করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ভাইভাতে অস্বাভাবিক আকারে মার্কস বৃদ্ধি করেছে। তারা এভাবে ভাইভার মাধ্যমে দলীয় কোটায় নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে চাকরির লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটাকে একটি সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।”
তিনি আরও বলেন, “এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখতে পেয়েছি। গত পাঁচ তারিখে এলাকার স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসীকে চাকরির লোভ দেখিয়ে সন্ত্রাসবাদ কায়েম করতে চেয়েছিল। তাদের এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যে সমস্ত সন্ত্রাসী অস্ত্র হাতে ক্যাম্পাসে এসেছিল, তাদের সবাইকে অতি দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি বলেন, “ছাত্রশিবিরের একবিন্দু রক্ত থাকা অবস্থায় কোনো অনিয়ম আমরা সহ্য করব না। ১০০ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং স্বচ্ছ নিয়োগ দিতে হবে। আপনারা যে প্রলোভন দেখিয়ে সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসার পাঁয়তারা করছেন, আরেকবার চিন্তা করবেন। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে কী পরিণতি হবে, সেই কথা চিন্তা করে আপনারা সিদ্ধান্ত নেবেন।”
কেকে/সাশ