সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলি-সংক্রান্ত নীতিমালা ও কমিটি গঠনের নির্দেশনা জারির পরও রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ১৭ জন শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করে এখন পর্যন্ত সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়ে আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তি না করায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগ করেছেন আবেদনকারী শিক্ষকরা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২১ জুন ২০২৬ তারিখের এক আদেশে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন এবং কর্মরত শিক্ষকদের বদলি-সংক্রান্ত কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে জাতীয়, আন্তঃবিভাগ এবং আন্তঃউপজেলা/থানা পর্যায়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওই আদেশে সংশ্লিষ্ট কমিটিকে প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
এরপর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ২০ জুলাই পৃথক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো গঠন করে দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেয়। বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে শিক্ষকদের বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয় ওই নির্দেশনায়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব নির্দেশনা জারির পর গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে বদলির জন্য আবেদন করা ১৭ জন শিক্ষকের আবেদনের বিষয়ে যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে নিয়ম মেনে আবেদন করেও তারা বদলির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এদিকে গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশে বদলি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবেদনকারী শিক্ষকদের মধ্যে নতুন করে হতাশা দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তি করা হলে তারা বদলির সুযোগ পেতেন। কিন্তু উপজেলা শিক্ষা অফিসের কার্যক্রমে বিলম্বের কারণে এখন বদলি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাদের আবেদন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আবেদনকারী শিক্ষক বলেন, “আমরা নিয়ম মেনে বদলির জন্য আবেদন করেছি। আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির জন্য যথেষ্ট সময় থাকলেও আমাদের আবেদনের বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন বদলি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা চরম হতাশায় পড়েছি। সময়মতো আবেদন নিষ্পত্তি করা হলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।”
গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চাঁন বলেন, “শিক্ষকদের বদলি একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। যারা নির্ধারিত নিয়ম মেনে আবেদন করেছেন, তাদের আবেদন যথাসময়ে যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। কোনো প্রশাসনিক জটিলতা বা বিলম্বের কারণে আবেদনকারীরা যেন তাদের প্রাপ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।”
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “বদলি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আবার শুরু হলে নিয়ম অনুযায়ী বদলি কার্যক্রম শুরু করা হবে।”
কেকে/সাশ