জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় সৈয়দ আলী হত্যা মামলার তিন আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে গ্রামে ফেরায় আতঙ্কে রয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। ২০২৩ সালে বৃদ্ধ সৈয়দ আলী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা তিন আসামি সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। আসামিরা গ্রামে ফিরে আসায় ফের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর কালাইয়ের পুনট ইউনিয়নের শিকটা গ্রামে নিজ বাড়িতে খুন হন বৃদ্ধ সৈয়দ আলী। হত্যাকারীরা সে সময় নগদ অর্থ ও জমির দলিল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে নাজমুল হোসেন বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ একই গ্রামের সুজন চৌকিদার, হারুন ও মোস্তাফিজুরকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন আসামিরা। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে।
মামলার বাদী ও নিহতের মেজো ছেলে নাজমুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আসামিরা পরিকল্পিতভাবে আমার বাবাকে হত্যা করেছে। হাইকোর্ট থেকেও তারা জামিন পায়নি। অথচ বিচার চলাকালে দ্বিতীয় কোর্টের ভারপ্রাপ্ত বিচারক কীভাবে তাদের জামিন দিলেন তা আমাদের বোধগম্য নয়।’
স্থানীয় বাসিন্দা রায়হান মণ্ডল, এমদাদুল হক, আইতাহান বেগম ও আমিরুল ইসলাম জানান, যারা হত্যার কথা স্বীকার করেছে, তারা এভাবে ছাড়া পেলে বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের কোনো আস্থা থাকবে না। আসামিরা গ্রামে আসায় সাধারণ মানুষ এখন হুমকির মুখে বলেও দাবি করেন তারা।
জানা গেছে, মামলাটি জয়পুরহাট অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ আদালতে বিচারাধীন। ওই আদালতের মূল বিচারক অসুস্থতাজনিত কারণে ১৫ দিনের ছুটিতে থাকায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অতিরিক্ত দায়রা জজ-২ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক তাসরুপ জামানের কাছে জামিন আবেদন (পুট-আপ) করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী জামিন শুনানির তারিখ ধার্য করার কথা থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষকে না জানিয়ে একতরফাভাবে গত ১২ আগস্ট ওই দিনই আসামিদের জামিন মঞ্জুর করা হয়।’
আসামিপক্ষ আদালতকে ভুল তথ্য দিয়ে বেআইনিভাবে এই আদেশ হাসিল করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম জনি বলেন, ‘৩০২ ধারার চার্জশিটভুক্ত মামলায় একই দিনে পুট-আপ দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের অনুপস্থিতিতে জামিন দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক এবং বিচারিক অনিয়মের মধ্যে পড়ে।’
এ ধরনের ঘটনা আদালতে ইতিপূর্বে কখনো ঘটেনি বলেও জানান তিনি।
কেকে/এমএ