তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ জনগণের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলন করলে স্বৈরাচার ফিরে আসবে এমন হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বগুড়া সার্কিট হাউস মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষ যখন তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে কষ্ট পাচ্ছে, তখন বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংকট সমাধানে টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের নিয়ে একটি টিম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। সংসদের ভেতরে বারবার বিষয়টি তুলে ধরেও সমাধান না হওয়ায় তারা রাজপথে নেমেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের বিপ্লবের পর জনগণ দেশের আমূল সংস্কার চেয়েছিল। সংস্কারের লক্ষ্যে গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেনি।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘দেশের যেখানেই অসংগতি দেখা যাবে, সেখানেই তারা কথা বলবেন। বগুড়া দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বঞ্চিত। বগুড়া যেন তার ন্যায্য পাওনা পায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ৫৫ বছর অতিক্রম করেছে। একটি জাতির জন্য এ সময় কম নয়। অথচ একই সময়ে মালয়েশিয়া বিশ্বে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। সঠিক পরিকল্পনা, সংস্কার ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশও এগিয়ে যেতে পারে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বগুড়ার উন্নয়নের জন্য যে ন্যায্য দাবি, সেই দাবি আমরা করব। বগুড়াকে আর অবহেলিত-বঞ্চিত করে রাখা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মানুষ কর্মহীন হচ্ছে, অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সংকটের দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। বিদ্যুতের তার নিয়ে মন্ত্রীর যে ধরনের অবান্তর কথাবার্তা, তা দিয়ে তো দেশের বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান হবে না। বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিয়ে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে হবে।’
কেকে/এআই