পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেড়া এলাকায় ক্বারী মো. আব্দুর রউফ মুন্সি নামে এক লিচু ব্যবসায়ীকে পথরোধ করে গাছে বেঁধে মারধর এবং তার কাছে থাকা ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে।
একই সঙ্গে দেশীয় অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী নিয়ে অপপ্রচার চালানোর মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও করা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের মাগুরমারি চৌরাস্তায় তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড় জাতীয় মহাসড়কে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ভুক্তভোগী আব্দুর রউফ বাড়ি ফেরার পথে চক্রের সদস্যরা তার পথরোধ করেন। এ সময় তাকে মারধর করে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা ব্যবসায়িক ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে নারীসংক্রান্ত অপপ্রচার ও হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার পঞ্চগড় সদর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন ভুক্তভোগী আব্দুর রউফ। মানববন্ধনে বক্তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
ভুক্তভোগী আব্দুর রউফ অভিযোগ করে বলেন, “রাতে তারা আমাকে আটক করে মারধর করে। আমার কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। একই সঙ্গে একজন নারীকে এনে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। তানভীর মোহাম্মদ সাকিবসহ বিভিন্ন নামের ফেসবুক পেজে আমাকে ব্ল্যাকমেইল ও সম্মানহানি করা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি মামলা দায়ের করেছি। ভুক্তভোগী হিসেবে এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পঞ্চগড় সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর চন্দ কুমার রায় বলেন, “মামলা দায়েরের পর বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
কেকে/সাশ