সরকারি দপ্তরের অনিয়মের বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়ায় মাগুরায় এক সাংবাদিককে পা কেটে নেওয়া ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে মাগুরা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন দৈনিক মানবকণ্ঠ ও এশিয়ান টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি এস এম শিমুল রানা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মাগুরা সদর থানায় জিডিটি করা হয়। অভিযুক্ত মো. রেজাউল ইসলাম পিৎজা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরে কর্মরত। তিনি মাগুরা সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের জয়েন উদ্দিনের ছেলে।
জিডি সূত্রে জানা যায়, পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা একটি অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন সাংবাদিক শিমুল রানা। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য না দিয়ে রেজাউল ইসলাম অশালীন ও আক্রমণাত্মক আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি গালিগালাজ করে সাংবাদিকের পা কেটে নেওয়াসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি ও মামলা দেওয়ার হুমকি দেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিক এস এম শিমুল রানা বলেন, “তথ্য সংগ্রহ করা সাংবাদিকতার মূল কাজ। একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার পা কেটে নেওয়ার হুমকি দেন। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. রেজাউল ইসলাম পিৎজার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো। মাগুরা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. ইউনুছ আলী বলেন, তথ্য জানতে চাওয়ায় সাংবাদিককে হুমকি ও গালিগালাজ স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত। তিনি ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খাইরুল ইসলাম জানান, সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/সাশ