রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি বিলে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন আইনের ফলে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপে ট্রাম্পের ক্ষমতা বাড়ল। বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রভাব তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
আইন অনুযায়ী, রুশ অপরিশোধিত তেল বা গ্যাসের সবচেয়ে বড় পাঁচ ক্রেতার দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যে ৩০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে হবে। একই ব্যবস্থা নেওয়া যাবে এমন কোনো দেশের বিরুদ্ধেও, যারা আইন কার্যকর হওয়ার ৩০ দিন পর জেনেশুনে রাশিয়ার কাছ থেকে নতুন করে তেল বা গ্যাস কিনবে অথবা রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তাকারী শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকায় থাকবে।
রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতাদের মধ্যে চীন ও ভারত রয়েছে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, আইনে লক্ষ্যবস্তু দেশ নির্ধারণের সুস্পষ্ট তালিকা বা হিসাবের পদ্ধতি না থাকায় মার্কিন প্রশাসন আরও বিস্তৃত পরিসরে দেশ বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
ব্রায়ান কেইভ লেইটন পেইসনারের আইনজীবী লরা ব্র্যাঙ্ক বলেন, প্রেসিডেন্টকে দেওয়া এই বিবেচনাধিকার অপব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প ৮০টির বেশি দেশের পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন। তবে এসবের অনেকগুলোই সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছে। আদালতের মতে, ওই ক্ষেত্রে ট্রাম্প তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছিলেন।
নতুন আইনের ক্ষেত্রে আইনি চ্যালেঞ্জের বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে। কারণ এবার কংগ্রেসের পাস করা আইনেই শুল্ক আরোপের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। তবে ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডন বেয়ার মনে করেন, ট্রাম্প নতুন আইনও নিজের নীতিগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে একইভাবে ব্যবহার করতে পারেন। হোয়াইট হাউস অবশ্য বাণিজ্য আইন অপব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আইনটি কংগ্রেসে পাস হওয়ার পর এর মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত এবং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর ওপরও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থের জোগান কমানো।
তবে কোন কোন দেশ শেষ পর্যন্ত মার্কিন শুল্কের আওতায় পড়তে পারে, তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই। ন্যাশনাল ফরেন ট্রেড কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জিনেট চু বলেন, বিভিন্ন পক্ষ সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু দেশ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা করছে। সম্ভাব্য দেশ হিসেবে ব্রাজিল, ভারত, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশের নাম আলোচনায় রয়েছে।
চীন বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি ছাড়া এ ধরনের ‘দূরপ্রসারী এখতিয়ার’-এর তারা বিরোধী। ভারতও সতর্ক করে বলেছে, নতুন শুল্ক দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে নির্বাচনের সময়ও নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক দিন আগে নতুন শুল্ক ঘোষণা করতে হলে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোটারদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।
তবে আইনটিতে জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও বিস্তৃত ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। সাবেক মার্কিন ট্রেজারি কর্মকর্তা বেন হ্যারিসের মতে, আইনের বিভিন্ন সংজ্ঞা অস্পষ্ট এবং শুল্ক আরোপ বা ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের হাতে উল্লেখযোগ্য বিবেচনাধিকার রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
কেকে/সাশ