বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিয়েছে নয়াদিল্লি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ সম্মতি দেওয়া হয় বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার মধ্যেই এ নিয়োগের অনুমোদন দিল ভারত।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগ দেওয়া পেশাদার কূটনীতিক আসাদ আলম সিয়াম আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নয়াদিল্লিতে বর্তমান হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন। রিয়াজ হামিদুল্লাহকে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে জেনেভায় জাতিসংঘ মিশনে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সিয়ামের নিয়োগের বিষয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক সম্মতিপত্র (অ্যাগ্রিমা) ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় ভারতের পক্ষ থেকে অ্যাগ্রিমা আটকে রাখা হয়েছিল—এমন জল্পনারও অবসান হয়েছে।
সিয়ামের স্থলাভিষিক্ত হয়ে বাংলাদেশের পরবর্তী পররাষ্ট্রসচিব হতে পারেন জাতিসংঘে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নির্বাচনে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে চৌধুরীকে এ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।
আসাদ আলম সিয়াম বাংলাদেশ ও বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালের জুনে পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি এক বছরেরও কম সময় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০২৩-২৪ সময়ে তিনি অস্ট্রিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া তিনি ইতালির মিলানে বাংলাদেশের প্রথম কনসাল জেনারেল, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সহকারী হাইকমিশনার এবং ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকায় তিনি প্রধান প্রটোকল কর্মকর্তা, ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নবিষয়ক উইংয়ের মহাপরিচালক এবং পররাষ্ট্রসচিবের দপ্তরের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ভারতের পক্ষ থেকে সাবেক মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত দিনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর পরিপ্রেক্ষিতে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
কেকে/সাশ