গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের সাতটি ইউনিয়নের সদস্যদের নিয়ে গড়ে ওঠা শুভেচ্ছা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে সভাপতি আবুল হাসেম উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সমিতির হাজারো সদস্য।
সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সমিতির সদস্য সংখ্যা ছিল ৪৯৬ জন। বর্তমানে এ সংখ্যা প্রায় এক হাজার। ১৫ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে সমিতিতে জমা রেখেছিলেন অনেক সদস্য।
তাদের দাবি, সমিতিটির মূলধন বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি টাকা।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর আবুল হাসেম সমিতির অফিসে তালা দিয়ে চলে যাওয়ার পর থেকে সেটি বন্ধ রয়েছে। ফলে নিজেদের জমা টাকা ফেরত পেতে প্রতিদিন অফিসে এসে অপেক্ষা করছেন সদস্যরা। এরই মধ্যে দুইজন সদস্য থানায় ও আদালতে মামলা করেছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে কাপাসিয়ার রাওনাট বাজারে সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তিনতলা ভবনের নিচের দোকানপাট ও ওপরের তলায় থাকা সমিতির অফিসসহ সবকিছু তালাবদ্ধ। ভবনটির কোথাও সমিতির কার্যক্রম চলার কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি।
সমবায় অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে ১০৯৮ নম্বর নিবন্ধনের মাধ্যমে সমিতিটির কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর আশপাশের সাতটি ইউনিয়নের বহু মানুষকে সদস্য করা হয়। ১৫ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার কথা বলে সদস্যদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সমিতিটির মূলধন বাড়ানো হয় বলে সদস্যরা জানান।
সমিতির বর্তমান সভাপতি আবুল হাসেম (৪৬) কাপাসিয়া থানার দড়িমেরুন গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে।
রাওনাট বাজার সমিতির সভাপতি সফিকুল আলম বলেন, ‘আবুল হাসেম পালিয়ে গেছেন। বর্তমানে সমিতির সদস্যরা টাকার জন্য পাগলের মতো ঘুরছেন। বহু নারী-পুরুষ বাজারে এসে সারাদিন সমিতির সামনে অপেক্ষা করছেন জীবনের শেষ সম্বলটুকু উদ্ধারের জন্য।’
সমিতির সদস্য স্থানীয় বরুন গ্রামের সালমা বেগম ও সুবর্ণা আক্তার জানান, তারা দুজন মিলে সমিতিতে এক লাখ আট হাজার টাকা রেখেছিলেন। তাদের অভিযোগ, সভাপতি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন চাপাত মাঝিবাড়ি গ্রামের নিখিল দাস। তিনি জানান, সমিতিতে তার দুই লাখ ১০ হাজার টাকা জমা ছিল।
ফুলবাড়িয়া গ্রামের আ. হকের মেয়ে জানান, তিনি সমিতিতে ছয় লাখ টাকা রেখেছেন। টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি এখন পাগলপ্রায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও দুজন সদস্য অভিযোগ করেন, গাজীপুর জেলা সমবায় অফিসের অধীন সমিতিগুলোতে পরিদর্শন ও নির্বাচন করার কথা থাকলেও করছেন না, একই সাথে বিভিন্ন বিষয়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।
তিন কোটি টাকা নিয়ে সভাপতি উধাও হওয়ার বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা সমবায় অফিসার মাহফুজুল আমিন খোলা কাগজকে বলেন, ‘এ সমিতির সভাপতি আবুল হাসেম। গ্রাহকদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি কীভাবে অফিস খোলা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যরা থানায় ও গাজীপুর আদালতে দুটি মামলা করেছেন। আমরাও তদন্ত করছি।’
গত বছর সমিতির সদস্য সংখ্যা ৪৯৬ জন ছিল জানিয়ে বলেন, ‘এবার সদস্য সংখ্যা কত, তা বলতে পারছি না। তবে ১৪ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করতেন।’
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা সমবায় অফিসার আরিফা সুলতানা শিপা খোলা কাগজকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ওই সমিতির কতজন সদস্য, মূলধন কত, জরিপ বা অডিট হয় কিনা সেটাও জানা নেই।’
ঢাকা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক মো. আব্দুল ওয়াহেদ খোলা কাগজকে বলেন, ‘এ রকম ঘটনা ঘটার পর যদি জেলা সমবায় অফিসার কিছু জানেন না বলে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। পুরো বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
সমিতির সভাপতি আবুল হাসেমকে মুঠোফোন একাধিক বার ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।
কেকে/এআই