মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১৪ বছর বয়সী কিশোরীকে অপহরণের পর রাতভর আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৯(৩) ধারায় মামলা (মামলা নং- ৪১) দায়ের করেছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— শ্রীমঙ্গলের ইছবপুর এলাকার বাসিন্দা দুলাল মিয় (৩১), হবিগঞ্জ সদরের চানপুর গ্রামের বাসিন্দা ও শ্রীঙ্গলের মিশন রোডের ভাড়াটিয়া মো. জুয়েল মিয়া ওরফে সোহেল (২৬) এবং হবিগঞ্জ সদরের রিটি গ্রামের বাসিন্দা ও শ্রীমঙ্গলের সোনার বাংলা রোডের ভাড়াটিয়া আল আমিন ইসলাম (২০)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার উকিল বাড়ি রোড এলাকায় কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিল ওই কিশোরী। পথিমধ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে অভিযুক্তরা তার গতিরোধ করে এবং জোরপূর্বক তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
পরবর্তী আসামিরা কিশোরীকে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের ইছবপুর এলাকায় অভিযুক্ত দুলাল মিয়ার ভাড়া বাসায় আটকে রাখে। সেখানে ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে পরদিন রোববার সকাল ৭টা পর্যন্ত আসামিরা তাকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। নির্যাতন শেষে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে তাকে গুররুতর আহত অবস্থায় শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা রেল স্টেশন থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কিশোরীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ভুক্তভোগী বর্তমানে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন দৈনিক খোলা কাগজ বলেন, ‘গণধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরেই তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’
কেকে/এআই