বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬,
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৫ জনের প্রাণহানি      ● নতুন করে ৪ মৃত্যু, হাম ও উপসর্গে মোট প্রাণহানি ১১৪৪      ● ১৫ বছরের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড      ● নানক-তাপসসহ ২৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাল      ● ডিসেম্বরের আগে গঙ্গা চুক্তি, মার্চে দৃশ্যমান হবে পদ্মা ব্যারেজ      ● ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে যোগদান প্রধানমন্ত্রীর       ● ভারতের কাছে পানির ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী      
ফিচার
হারিয়ে যাওয়া দেশীয় খাবার ফিরছে রান্নাঘরে
ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৭ পিএম আপডেট: ০৮.১০.২০২৬ ৫:১২ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

একসময় গ্রামবাংলার দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের পরিচিত খাবার ছিল কলার মোচা ও কলার থোড়। সহজলভ্য ও কম দামের কারণে অনেক পরিবারেই নিয়মিত রান্না হতো এ সব সবজি। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফাস্টফুড, প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের দাপটে ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যায় পুষ্টিকর এ দেশীয় খাবার।

অনেকেই আবার কলার মোচা ও থোড়কে অপ্রয়োজনীয় অংশ মনে করে ফেলে দিতেন। অথচ পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এ সব খাবার এখন নতুন করে জায়গা করে নিচ্ছে মানুষের খাদ্য তালিকায়। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসচেতন ও শৌখিন ভোজনরসিকদের মধ্যে কলার মোচা ও থোড়ের চাহিদা বাড়ছে।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে কলার মোচা ও থোড়। স্থানীয় সবজি বিক্রেতাদের দোকানে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি বেশ গুরুত্ব দিয়েই রাখা হচ্ছে এ সব দেশীয় খাবার। আকার ও মানভেদে প্রতি পিস কলার মোচা ও থোড় বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০-৪০ টাকায়। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ক্রেতারাও সহজেই কিনতে পারছেন।

বাজারে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, ছোটবেলায় বাড়িতে কলার মোচা ও থোড়ের বিভিন্ন পদ খাওয়ার অভ্যাস ছিল। সময়ের সঙ্গে এ সব খাবার অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছিল। এখন বাজারে সহজে পাওয়া যাওয়ায় আবারও রান্নাঘরে ফিরছে পুরোনো দিনের এ খাবার।

কলার মোচা দিয়ে ভর্তা, ভাজি, তরকারি কিংবা বিভিন্ন মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা যায়। অন্যদিকে কলার থোড় দিয়েও তৈরি হয় সুস্বাদু নানা পদ। স্বাদে আলাদা এবং রান্নায় বৈচিত্র্য থাকায় অনেকেই এখন এ সব খাবারের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

পুষ্টিবিদদের মতে, দেশীয় শাকসবজি ও উদ্ভিদজ খাবার খাদ্য তালিকায় রাখা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কলার মোচা ও থোড়ও আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য সংস্কৃতির অংশ। আধুনিক ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মৌসুমি ও দেশীয় সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

সবজি বিক্রেতারা বলছেন, আগে কলার মোচা ও থোড়ের চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল। এখন অনেক ক্রেতাই নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী এ সব কিনছেন। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও স্বাস্থ্যসচেতন ক্রেতাদের মধ্যে এর চাহিদা চোখে পড়ার মতো।

কৃষি ও গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা কলার মোচা ও থোড় শুধু খাবার নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিরও অংশ। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা এ দেশীয় খাবার আবারও বাজারে ফিরছে—এ যেন পুরোনো স্বাদের নতুন করে ফিরে আসার গল্প।

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  হারিয়ে যাওয়া   দেশীয়   খাবার   রান্না   টেবিলে  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

ফিচার- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close