কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোতে ব্যাপক বিনিয়োগের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশে ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
জর্জিয়েভা বলেন, এআই খাতে বিনিয়োগের এই প্রবণতা এশিয়ার বিভিন্ন অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের সুফল বয়ে আনছে। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তির হার্ডওয়্যার সরবরাহকারী দেশগুলো এ থেকে বেশি লাভবান হচ্ছে।
তিনি বলেন, এআই খাতে বিনিয়োগের উত্থান বিশ্ব অর্থনীতিতে চাহিদা ও বিনিয়োগের নতুন ধাক্কা তৈরি করেছে। এর ফলে এশিয়ার উন্নত অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে। অন্যদিকে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে শূন্য দশমিক ২ থেকে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট।
আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, জ্বালানি সরবরাহের ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে নিচের দিকে টানছে। তবে এআই অবকাঠামোতে বিনিয়োগ অর্থনীতিকে বাড়তি গতি দিচ্ছে। এই দুই বিপরীতমুখী প্রভাবের মধ্যে এআই খাতের বিনিয়োগ বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশে ধরে রাখতে সহায়তা করছে।
এআই প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে চিপ, সার্ভার ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের চাহিদা বাড়ছে। ফলে এসব পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত এশিয়ার দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। থাইল্যান্ডও এ ধরনের সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন জর্জিয়েভা।
বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ও এআই খাতে বিনিয়োগের দ্রুত সম্প্রসারণ বর্তমানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। একদিকে জ্বালানির সংকট ও সরবরাহের ধাক্কা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ তৈরি করছে, অন্যদিকে প্রযুক্তি অবকাঠামোতে বিনিয়োগ নতুন চাহিদা ও প্রবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করছে।
ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি, বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন অঞ্চলের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এআই খাতে বিনিয়োগের প্রভাবও এবারের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কেকে/ এমএস