ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সংস্কারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক সরকার এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমঝোতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তার মতে, রাজনৈতিক সরকার সংস্কারের মালিকানা গ্রহণ করায় এসব উদ্যোগ টেকসই হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। এ সংস্কারের রূপরেখা সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে। নির্বাচনে জনগণের রায় পাওয়ার মধ্য দিয়ে সংস্কার বাস্তবায়নের রাজনৈতিক ম্যান্ডেটও এসেছে। সেই ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে পঞ্চবার্ষিকী অর্থনৈতিক কৌশলে সংস্কারের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা তিনটি ধাপে সাজানো হয়েছে। এগুলো হলো—পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সমৃদ্ধির পথে যাত্রা। এটি সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের রাজনৈতিকভাবে গৃহীত দিকনির্দেশনা।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সংস্কারের বিষয়টি কোনো পক্ষ-বিপক্ষের বিতর্ক নয়। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা জরুরি। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে সরকারের সংস্কারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সমঝোতা রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক সরকারের মালিকানায় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে তা টেকসই হবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিভিন্ন সংস্কার দেখতে চায়। অন্যদিকে, দেশের মানুষের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় কর আদায় বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানো।
এ ছাড়া শিল্পায়ন সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করাও দেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিতুমীর বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রত্যাশার সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার মিল রয়েছে। দেশের উদ্যোক্তারাও অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা চান। ফলে দেশীয় সংস্কারের লক্ষ্য এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের প্রত্যাশার মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক সরকারের নেতৃত্ব ও মালিকানায় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।
কেকে/সাশ