সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন,‘সরকার ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশ রেলওয়ের আমূল পরিবর্তন এনে যাত্রীবান্ধব করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এটি আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার। রেলযাত্রার ঐতিহ্য ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এ খাতের পরিসর আরও বাড়ানো দরকার।’
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ সব কথা বলেন।
রেলমন্ত্রী বলেন, ‘রেলওয়ের দুটি কারখানাকে কীভাবে এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায়, তা দেখতে সৈয়দপুরে এসেছি। পরিদর্শনে কারখানার সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে জেনেছি। কিছু যন্ত্রাংশ তৈরি সরাসরি দেখে সেগুলোর মানও পরীক্ষা করেছি।’
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার অতীত ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘একসময় এ কারখানা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে। ১৮৬২-১৮৭০ সালের মধ্যে এখানে কারখানা গড়ে ওঠে। তখন যে প্রয়োজনে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই প্রয়োজন এখনো রয়েছে, বরং বেড়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী কারখানাটির উন্নয়ন হয় নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোচ মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক যন্ত্রাংশ এ কারখানায় তৈরি করা সম্ভব। এক সময় এখানে প্রায় ১২ হাজার ধরনের পার্টস তৈরি হতো। এখন তা কমে ৬৫৪-৬৫৫টিতে দাঁড়িয়েছে। ফলে এ সব যন্ত্রাংশের অনেকগুলো আমদানি করতে হচ্ছে। কারখানাটিতে আরও বেশি যন্ত্রাংশ তৈরির সুযোগ রয়েছে।’
কারখানায় কোচ মেরামতের মান আরও উন্নত করা প্রয়োজন উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কিছু পুরোনো মেশিন রয়েছে, যেগুলো মানসম্পন্ন। পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে মিলিয়ে প্রায় ৪০০টি কোচ মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। এ সব কোচ মেরামত করে পুনরায় সচল করতে দক্ষ কারিগর নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।’
রেলওয়ের দখল হওয়া জমি চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘রেলওয়ের প্রায় ৬০-৭০ একর জমি পৌরসভার দখলে রয়েছে। এ সব জমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভার মধ্যে বিরোধ রয়েছে, যা অনেকটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। বিষয়টি নিয়ে আজকের সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রথমে রেলের প্রয়োজনে, পরে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এ সব জমি ব্যবহার করতে চাই। জমিগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। রেলওয়ের যে সব জমি দখলে রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করা হবে।’
রেলওয়ের পুরোনো আবাসনের কথায় তিনি বলেন, ‘সৈয়দপুরে রেলওয়ের প্রায় ২ হাজার ৪০০টি আবাসন রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০০টিতে লোকজন থাকেন। আবাসনের সংকট নেই। পুরোনো ভবনের জন্য যে হারে ভাড়া কাটা হয়, তার চেয়ে কম টাকায় বাইরে ভালো বাসা ভাড়া পাওয়া যায়। এ কারণে অনেকে রেলওয়ের আবাসনে থাকতে আগ্রহী নন।’
রেলওয়ে হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রেলওয়ের পক্ষে হাসপাতাল পরিচালনা এবং চিকিৎসক-নার্সের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দেশের প্রায় নয়টি রেলওয়ে হাসপাতাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
এর আগে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম কারখানার ক্যারেজ, ফাউন্ড্রিসহ বিভিন্ন শপ ঘুরে উৎপাদন প্রক্রিয়া প্রক্রিয়া পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তা, শ্রমিকও কর্মচারীরাদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সচিব ফাহিমুল ইসলাম, মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনেরর নেতৃবৃন্দ।
কেকে/এআই