বাংলা বিকল্প ধারার ব্যান্ড মিউজিকের অঙ্গনে গভীর ও মননশীল যাত্রার নাম ‘দ্য রোভার’। লেড জেপলিনের বিখ্যাত অ্যালবাম ও গান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আত্মপ্রকাশ করা এই ব্যান্ডটি কেবল গতানুগতিক ধারার সুর সৃষ্টির গণ্ডিতে নিজেদের আটকে রাখেনি; বরং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সঙ্গীতরীতির মেলবন্ধনে তারা তৈরি করেছে এক স্বতন্ত্র সঙ্গীতধারা। বাউল ও লোকায়ত দর্শন, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের শেকড়, সুফি ভাবধারা এবং সাইকেডেলিক বা হেভি রকের মোটিফকে জুড়ে দিয়েছে সমকালীন শহুরে জীবনের নানা জিজ্ঞাসা, অস্তিত্ববাদী সংকট এবং উত্তর-আধুনিক বোধের সাথে। মানুষের ভেতরের আত্মোপলব্ধি এবং জীবনের বহুমুখী রূপ বন্দি করেছে তাদের সুরে ও কথায়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৭টি গান নিয়ে বের হয় তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘সমধর্মিতা’। ব্যান্ডটি এবার হাজির হয়েছে তাদের দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘আয়না’ নিয়ে। যেখানে ‘সমধর্মিতা’ অ্যালবামের ৭টি গানের পাশাপাশি আরও ৯টি নতুন গান এবং ২টি ট্রিবিউট গানসহ মোট ১৮টি গান স্থান পেয়েছে। তাদের দ্বিতীয় অ্যালবাম আয়না নিয়ে ‘দ্য রোভার’ টিমের সাথে আলাপ করেছেন খোলা কাগজের সহসম্পাদক ফরহাদ নাইয়া।
খোলা কাগজ : প্রথমেই জানতে চাই ‘আয়না’ অ্যালবামে আগের অ্যালবাম ‘সমধর্মিতা’র ৭টি গান রাখার কারণ কী?
দ্য রোভার : সমধর্মিতা আমাদের জন্য একটি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অধ্যায় ছিল। তবে, সংগীতাঙ্গনে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমাদের বিবর্তনের সাথে সাথে সেই গানগুলোও আমাদের সাথেই বড় হয়ে উঠেছে। আমাদের মনে হয়েছিল, সেগুলোকে আমাদের বর্তমান সুর ও অনুভূতির দৃষ্টিতে নতুন করে দেখা প্রয়োজন। গানগুলোকে ‘আয়না’ অ্যালবামে নিয়ে আসা আমাদের অতীত ও বর্তমানের মাঝে—আমাদের শুরুর দিকের অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে আজকের দিনটির মাঝে—একটি সাঁকো তৈরি করে। এটি শ্রোতাদের সেই পরিচিত আবেগগুলোকে একটি উন্নত পরিপক্কতা, লাইভ পারফর্ম্যান্সের প্রাণবন্ত শক্তি এবং মার্জিত প্রোডাকশনের মাধ্যমে নতুনভাবে অনুভব করার সুযোগ দেয়, যা ‘দি রোভার’-এর এই নতুন যুগকে সংজ্ঞায়িত করে।
ছবি: খোলা কাগজ
খোলা কাগজ : বিশেষ করে মিউজিক্যাল ফর্ম এবং সূক্ষ্মতার (নুয়ান্স) দিক থেকে ‘সমধর্মিতা’ এবং ‘আয়না’-র মধ্যে পার্থক্য কী কী?
দ্য রোভার : সমধর্মিতা যদি আমাদের যৌথ ভিত্তি খুঁজে পাওয়া এবং আমাদের ভেতরের কাঁচা মিলগুলোকে অন্বেষণ করার বিষয় হয়ে থাকে, তবে ‘আয়না’ গভীরভাবে প্রতিফলনশীল এবং বিস্তৃত। মিউজিক্যাল ফর্মের দিক থেকে ‘আয়না’ অনেক বেশি সুসংগঠিত এবং পরীক্ষামূলক। আমরা আমাদের যন্ত্রানুষঙ্গের সীমানাকে আরও প্রসারিত করেছি; যেখানে জটিল প্রাচ্যের ছন্দ, সুর এবং কণ্ঠের টেক্সচারের সাথে পশ্চিমা রক সুরের মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। এখানে সূক্ষ্মতার ভাব আরও গূঢ়; বিষাদময়তা আরও স্পষ্ট এবং সাউন্ডস্কেপগুলোকে এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে তা শ্রোতাকে কেবল বাইরের কোনো গল্প শোনানোর পরিবর্তে নিজের ভেতরের দিকে টেনে নিয়ে যায়।
খোলা কাগজ : ‘আয়না’ নামকরণের পেছনে আপনাদের কোনো নির্দিষ্ট চিন্তা আছে কি? আয়না আমাদের দেখে, নাকি আমরা আয়না দেখি? এই দ্বিধার ভেদ কীভাবে করতে চান?
দ্য রোভার : বাঙালি আধ্যাত্মিকতায় ‘আয়না’ একটি অতি গূঢ় রূপক; অনেকটাই লালনের ‘আরশিনগর’ বা নজরুল সাদেকপুরীর ‘দয়াল বাবা আয়নার কারিগর’-এর মতো। আমরা এর নাম ‘আয়না’ রেখেছি। কারণ এই গানগুলো ঠিক সেই কাজটিই করে। যখন আপনার সামনে একটি আয়না রাখা হয়, তখন আপনি হয় নিজের মুখোমুখি হতে, নিজেকে প্রশ্ন করতে বা নিজের সম্পর্কে চিন্তা করতে বাধ্য হন; অথবা আপনি আয়নার প্রতিফলনকে এড়িয়ে গিয়ে দৈনন্দিন অন্যান্য কাজকর্মে মনোযোগ দেন, যেন আয়নায় প্রতিফলিত মানুষটি স্রেফ একজন অচেনা কেউ যাকে আপনি চেনেনই না। এর মাঝে অন্য কোনো উপায় নেই। আমাদের গানগুলো আত্মপ্রতিফলন, আত্মোপলব্ধি এবং আমাদের অন্তরে কী লুকিয়ে আছে তা জানার কৌতূহলের কথা বলে। কিন্তু আপনার উল্লেখিত এই দ্বিধাটি ইচ্ছাকৃত। কখনো কখনো আমরা শিল্পকে উপভোগ করি, আবার কখনো কখনো শিল্প আমাদের গ্রাস করে এবং পর্যবেক্ষণ করে—আমাদের লুকিয়ে রাখা সত্যগুলোকে উন্মোচিত করে দেয়। আমরা এই দ্বিধার কোনো চূড়ান্ত সমাধান করতে চাই না; এমনকি এর সুনির্দিষ্ট উত্তর আমাদেরও জানা নেই, এটি একটি যাত্রা এবং আমরা সবসময় সেই পরম উত্তরটি খুঁজে পাওয়ার শিক্ষা নিয়ে চলছি। বরং, আমরা চাই শ্রোতারা আত্মপ্রতিফলনের সেই কখনো কিছুটা অস্বস্তিকর, আবার কখনো অপরূপ সুন্দর মনোজগতে বসে একই প্রশ্ন ভাবুক—‘আমি দেখি কি আয়নায় আমায়? নাকি আয়না দেখে কি আমায়?’
ছবি: খোলা কাগজ
খোলা কাগজ : আপনাদের গানে উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী চিন্তা ও দর্শনের যেমন উপস্থিতি রয়েছে, তেমনি সমকালীন শহুরে জীবনের জিজ্ঞাসা ও বিষাদের এক স্পষ্ট উপস্থিতি দেখা যায়। এই দুইটি উপাদান কীভাবে একসাথে মিশে গেল?
দ্য রোভার : কারণ আমরা তো এমন একটি পরিবেশ বা সংস্কৃতিতেই বেড়ে উঠেছি, তাই নয় কি? আমরা পুরনো ধাঁচের গান যতটাই পছন্দ করি বা পুরনো ঐতিহ্যকে যতটাই অনুধাবন করি না কেন, আমরা কিন্তু এই বর্তমান এবং আধুনিক পৃথিবীরই অংশ। আমরা যা করি, তা দিয়েই আমাদের বর্তমান গড়ে ওঠে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং আধুনিক সমাজের অফার করা অন্যান্য সুবিধাগুলোর সাথে জীবনযাপন করতে আমরা সত্যিই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তা সত্ত্বেও, আমরা যখন প্রথম এই পৃথিবীতে এসেছি, সেই শুরুর দিক থেকেই আপনি যেসব চিন্তাভাবনা এবং দর্শনের কথা উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর সাথে আমরা প্রত্যেকেই খুব পরিচিত। তা আমাদের সংস্কৃতি, বাবা-মা, পরিবার, শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধব, প্রবীণদের মাধ্যমেই হোক কিংবা ঐতিহ্যবাহী গান ও কবিতার মাধ্যমেই হোক। আমরা ব্যক্তিগতভাবে বা সম্মিলিতভাবে সেই শিক্ষাগুলো আসলে কী নিয়ে ছিল তা অনুধাবন করাটা কেবল সময়ের ব্যাপার ছিল। এবং এটি বোঝার বিষয় ছিল যে, পথ আলাদা হলেও প্রত্যেকেই একই যাত্রা ও অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই দু্ইটি উপাদান সবসময়ই সেখানে ছিল, তাই আমাদের কাজের মাধ্যমেও এগুলো দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
খোলা কাগজ : শূন্যতা, জন্মান্তরবাদ কিংবা ‘যা দেখি, তা-ই কি দেখা’ ধরনের ভাবনা আপনাদের গানে যেভাবে এসেছে, তেমনি কিছু গানের মধ্যে উত্তর-আধুনিক হাইপাররিয়ালিটিরও প্রয়োগ দেখা যায়। এগুলো কি আপনারা সচেতনভাবে প্রয়োগ করেছেন?
দ্য রোভার : এগুলো একসাথে মিশে যায় কারণ এগুলো নির্দেশ করে যে আমরা আসলে কে। আমরা শহুরে জীবনের ইট-পাথরের বাস্তবতায় বাস করে আসছি; নেভিগেট করছি নাগরিক জীবনের বিশৃঙ্খলা, ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতা এবং দ্রুতগতির শহুরে বিষাদগ্রস্ততাকে। তবে আমাদের শিকড় কিন্তু উপমহাদেশের কালজয়ী দর্শনের জ্ঞানের ভেতরেই প্রোথিত। আমরা যখন গান লিখি, তখন আমরা মূলত এক একজন আধুনিক নাগরিক যারা প্রাচীন আধ্যাত্মিকতার শান্তি খুঁজে ফিরছি। এটি আমাদের মনে ভেসে ওঠা একগুচ্ছ প্রশ্ন এবং যেসব উত্তর আমরা ক্রমাগত খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছি—তারই এক ভ্রমণ। বাইরের কোলাহলপূর্ণ শহর আর ভেতরের আধ্যাত্মিক তৃষ্ণার মধ্যকার এই যে টানাপোড়েন, সেটাই 'দি রোভার'-এর মিউজিক বা সুরের জন্ম দেয়।
খোলা কাগজ : ‘দ্য রোভার’ নিজেদের কোথায় দেখতে চায়? বাংলা গানের পরিসরে নিজেদের জন্য কী ধরনের জায়গা তৈরি করতে চান?
দ্য রোভার : আসলে মিউজিশিয়ান হিসেবে আমাদের সকলেরই প্রাইমারি চাওয়াটা হচ্ছে, যেন মানুষ আমাদের গান শুনুক। নিজেদেরকে ওমনই একটা পজিশনে নিতে চাই যেখানে আমরা সব ধরনের এবং সব প্রান্তের মানুষকে আমাদের গান শোনাতে পারছি আর সেই সাথে আমরা এমন এক ইমার্সিভ অর্থাৎ ধ্যানমগ্ন ও থট প্রোভোকিং অভিজ্ঞতা তৈরি করতে যেটা প্রমাণ করবে যে, বাংলাদেশি ব্যান্ড মিউজিক নিজেদের রুট বা শেকড়ের সাথে যুক্ত থেকেও ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে রিকগনাইজড ও রেজোনেটেড হওয়ার যোগ্য।
খোলা কাগজ : আপনাদের কোনো নির্দিষ্ট টার্গেট অডিয়েন্স আছে কি?
দ্য রোভার : আমাদের মিউজিক আসলে সবার জন্য, স্পেসিফিক টার্গেট অডিয়েন্স বলে আসলে আমরা কোনো প্ল্যান বা—অ্যাজ প্রিভিয়াসলি সেইড—আমরা চাই যেন সব প্রান্তের ধরনের মানুষ আমাদের গান শুনুক; সেটা অন্যান্য মিউজিশিয়ান, মিউজিক এনথুজিয়াস্ট থেকে শুরু করে সব ধরনের চাকরিজীবী হতে দিনমজুর অথবা যারা বাংলা ভাষাও হয়তো বোঝেনা, সকলের কাছে যেন আমাদের গান পৌঁছায়। হয়তো কিছু মানুষ পছন্দ করবে, হয়তো কিছু মানুষ করবে না এবং হয়তো কিছু মানুষ একদমই অপছন্দ করবে। তাও আমরা চাই সকলে একনলেজ করুক, এবং ভাবতে শুরু করুক, কোয়েশ্চেন করতে শুরু করুক। বলা যায়, আওয়ার মিউজিক ইজ ফর দ্য সিকার্স। হুএভার ইট বি।
খোলা কাগজ : বাংলা গানে ‘দ্য রোভার’ কী কী নতুন সংযোজন করছে বলে আপনাদের মনে হয়?
দ্য রোভার : আমাদের এই পুরো বাংলায় অনেক ধরনের মিউজিক হয়ে আসছে এবং অনেক উঁচু লেভেলের কাজও হয়ে আসছে। অনেক ভালো ব্যান্ডস অথবা আর্টিস্টস এসেছেন, গান করে গেছেন বা করছেন যারা ওয়েস্টার্ন মিউজিক ধারা ফলো করে এই দেশে, ও পুরো বাংলায় একটা নতুন ধরনের ক্রেজ বা মাত্রা দিয়েছে। যুগ যুগ ধরে অনেক ধরনের বাউল/ফোক অথবা সুফি বা মাইজভাণ্ডারী মিউজিকও হয়ে আসছে। তেমনি ট্র্যাডিশনাল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের প্র্যাকটিস এবং ক্রিয়েশনসও হয়ে আসছে। আমরা এই বাংলার নাম করে যেমন সোলস, ফিডব্যাক, মাইলস, এলআরবি, ফিলিংস এবং অনেক বড় বড় ব্যান্ডের কথা বলতে পারি, সাথেই লালন শাহ, কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শাহ আব্দুল করিম, কিশোর কুমার, শচীন দেব বর্মন, উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, উস্তাদ আকবর আলী খান, পণ্ডিত রবি শঙ্করদেরও নাম নিতে পারি। আসলে নাম বলে শেষ হবে না, কিন্তু বাংলার এই যুগ যুগ ধরে নার্চার করা এনরিচড মিউজিক কালচারটাই আমাদের অনেক অনুপ্রেরণা আর সাহস দেয় এবং দ্য রোভারও বাংলা মিউজিকের জন্য এক্স্যাক্টলি সেই অ্যাপ্রোচটাই দেখাতে চায় নিজেদের ওয়েতে। এই ওভার সিমুলেশন অথবা সিঙ্গেল ট্র্যাকের যুগে যেখানে অনেক সময় মিউজিকটা কমার্স বেসড প্লান্ড প্রোডাক্ট হিসেবে প্রিসিজলি প্রডিউস, রিলিজ ও মার্কেট করা হয় (যদিও আমরা সেটাকেও একটা নতুন ধরনের অভিমুখ হিসেবে রিকগনাইজ করি), সেই সময়ে আমরা ১৮টা গানের এমন একটা কনসেপ্টুয়াল জার্নি নিয়ে আসছি; যার পুরোটাই লাইভ টেকে রেকর্ড করা। আমরা খুব গভীর দার্শনিক আলোচনা ও ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিকতার সাথে আধুনিক, অ্যাটমোস্ফেরিক এবং অনেক ক্ষেত্রে বেশ হেভি রক বেসড সাউন্ডস্কেপকে এক সুতোয় গাঁথছি। এটাই বলব বাংলা মিউজিকে আমাদের নতুন সংযোজন।
খোলা কাগজ : একটি ক্যানভাসে ১৮টি গান রাখার পেছনে আপনাদের কী চিন্তা ছিল? এতগুলো গানকে একই অ্যালবামে রাখার প্রয়োজনীয়তা কীভাবে অনুভব করলেন?
দ্য রোভার : লাইফ আর তার উপলব্ধি বা দর্শন চাইলে মাঝে মাঝে ছোট বা সংক্ষেপে এক্সপ্রেস করা যায় না। ‘আয়না’ আসলে আমাদের লাইফ থেকে পাওয়া, শেখা বা রিয়ালাইজেশন হওয়াোগুলোর কালেক্টিভ কনশাসনেসের একটা সংকলন, এখানে আমরা আসলে অ্যালবামের ট্র্যাকলিস্ট কমানোর কোনো প্ল্যান বা চেষ্টারও করিনি, ইনফ্যাক্ট আমাদের এই উপলব্ধি হয়েছে যে আমাদের গানগুলোর সব কথা ও সুরগুলোকে পরিপূর্ণ করতে চাইলে আমাদের আগের অ্যালবামের গানগুলোকেও নতুন এবং স্ট্রঙ্গার রূপে বলতে হবে, নাহলে যেন বইয়ের মাঝখানের কিছু পাতা মিসিং থাকার মতো মনে হয়। এটা একটা জার্নি যেখানে আমরাও সময়ের সাথে সাথে শিখেছি, বুঝেছি, বুঝতে চেয়েছি, তাই সেভাবেই লাইফ ও সময়ের সাথে সাথেই লিখেছি। সেগুলোকে মানুষের কাছে ওই বই বা পেইন্টেড ক্যানভাস আকারে পৌঁছানোর জন্যই একসাথে ১৮টা গান করার ডিসিশনটা হয়।
খোলা কাগজ : যে দুইটি গানকে ট্রিবিউট করেছেন, সেই দুইটি গানই কেন বেছে নিয়েছেন? এই গান দুইটির সঙ্গে আপনাদের সম্পর্কটা কী?
দ্য রোভার : এই দুইটা গান, আমরা আমাদের তিনজনেরই মিউজিক্যাল আপব্রিংইংয়ের একটা ভিত্তি হিসেবে রিকগনাইজ করি। এই দুইটা স্পেসিফিক ট্র্যাক আমাদের ইন্ডিভিজুয়াল লাইফের বিভিন্ন সময়ে এসে শিখিয়েছে যে, কীভাবে আসলে মিউজিক ব্যাপারটাকে অনুভব ও অনুধাবন করতে হয়, সেটা এই ব্যান্ডটা বা ব্যান্ড মেম্বারদের একসাথে হওয়ারও আগে থেকে এবং একসাথে হয়ে সিমিলার টেস্টের মিউজিক করার একটা বিশেষ কারণ। আর আমাদের ব্যান্ডটার সাউন্ড তৈরি হওয়ার পিছনেও এই গান বা আর্টিস্টগুলোর অনেক বড় ইনফ্লুয়েন্স আছে বলে আমরা মনে করি। অ্যান্ড এই গানগুলো ট্রিবিউট করার মাধ্যমে আমরা মূলত আমাদের সেই ইন্সপিরেশনগুলোকে একনলেজ করতে চেয়েছি এবং সাথে সেই সকল মিউজিক্যাল মাস্টারদেরকে শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছি যাদের কারণে আমরা আমাদের এই নিজেদের মতন একটা ফিউশন সাউন্ড তৈরি করার অনেক অনুপ্রেরণা পেয়েছি।
খোলা কাগজ : ‘সহজ পথটা দেখাও মাওলা’ এই লাইনটি যখন শুনি, তখন বাংলার স্পিরিচুয়াল ভাবধারার একটা দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা মনে পড়ে। এই গানটির মধ্য দিয়ে বাংলার আধ্যাত্মিক সংগীতের সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে আপনারা কীভাবে যুক্ত হতে চেয়েছেন?
দ্য রোভার : এই গানটার সাথে আসলে বাংলার ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত হইছি আমরা পরের দিকে গিয়ে। গানটার নাম মূলত ‘ইনতিফাদা’। তো ইনতিফাদা আমরা সবাই জানি, এটা হলো প্যালেস্টাইন ইসরাইলের বিপক্ষে দুই দফায় রুখে দাঁড়ানোর গল্প। একটা ১৯৮৭ সালের দিকে পরেরটা ২০০০ সালের দিকে... তো এই ইনতিফাদা গুলা যেমন হলো যে একটা কঠিন অপোনেন্টের কাছে হার না স্বীকার করা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া তেমনি এই ইন্তিফাদাকে আমি বা আমরা নফসের সাথে কানেক্ট করার চেষ্টা করছি যে, মানুষের সবচেয়ে বড় অপোনেন্ট তো তার নফস। তো এই এই যে আপনার রিপুগুলো আছে, এই রিপুগুলোর সাথে মানুষ যেভাবে ডিল করে, যেভাবে ফাইট করে, এই ফাইটটা নিয়েই আসলে গানটা মূলত। তো এর মধ্যে এই প্রসংগক্রমে গানটা ধীরে ধীরে যখন আসে, তখন একটা পয়েন্টে বাংলার... যারা মাজারপন্থী বা স্পিরিচুয়াল অথবা যারা স্পিরিচুয়াল প্র্যাকটিসের ভেতর আছে তাদের সহজিয়া যে ভাবটা সেইটা ধরতে চাইছি আমরা। এই লাইনটা বলা—সঠিক পথটা দেখাও মওলা। এইটা ঐতিহ্যের সাথে অফকোর্স কানেক্ট করছে, কারণ এটা আমরা আমাদের আশেপাশেই দেখি—এই ল্যাঙ্গুয়েজটা, এই ফ্রেজটা সবসময় দেখি। আর ওই... মানে, যদি আমি লাইফ... মানে, কীভাবে কানেক্ট করছি যদি বলি, তাইলে আশেপাশে যে আমরা বাউল সাধক বা স্পিরিচুয়াল মহাজনদের দেখছি বাংলার কনটেক্সটে, তাদের ল্যাঙ্গুয়েজগুলোও দেখছি যে, এইরকমই। সো, এইভাবে গানটা আসলে বাঁধা—মানে ওই এক্সেন্টে, আমি যদি এভাবে বলি।
খোলা কাগজ : ‘কেমন আছ’-এর মতো নরম, কোমল গান যেমন আছে, তেমনি ‘আয়না’র মতো বিমূর্ত ও চিন্তা উদ্রেককারী গানও আছে, আছে বিভিন্ন মহাজনদের নিজের আলাপের মত কোলাজ একটা গান। একই অ্যালবামে এই বৈচিত্র্যময় গানের সহাবস্থান কীভাবে ঘটল?
দ্য রোভার : আচ্ছা, একই অ্যালবামে এই বৈচিত্র্যময় গানের... ‘কজ লাইফ’, ইউ নো! লাইফ তো আসলে বৈচিত্র্যময়। তো এগুলা সব ১৮টা গানই আসলে ১৮টা ইমোশন থেকে, লাইফের স্টেজ থেকে, এক্সপেরিয়েন্স থেকে আমরা নিছি। তো এই ১৮টা গান—জীবনে ১৮টা গল্প বলে আসলে। তো এই কারণেই আসলে এগুলা... মানে একসাথে থাকছে, কারণ এটা আমাদের সো ফার একসাথে পথ চলার একটা... মানে, অনুধাবন বলতে পারেন বা একটা যেটা আমরা এক্সপেরিয়েন্স করছি বলতে পারেন। তো এই একেকটা এক্সপেরিয়েন্সকে একেকটা গানে প্রকাশ করা আর কি। মানে এটাই। আমরা আমাদের মাধ্যমটা, এই মিডিয়ামটাই এইটা। আমরা পেইন্টার হইলে হয়তো আমরা 'কেমন আছো' ওইরকম জলরঙে আঁকতাম। আমরা আয়না হয়তো অয়েল পেইন্টিংয়ে যাইতাম। কিন্তু আমরা যেহেতু মিউজিশিয়ান, তাই আমরা একটা একটু সফট বা ওই টেস্টের দিছি যেহেতু এটা একটা নস্টালজিয়ার কথা বলে। আর আয়না যেমন হইলো যে একটা—একটা মানে কোয়েশ্চেন, একটা কনফিউশন। বাট হইলো যে, এ্যাট দি সেইম টাইম এটা একটা সলিড স্টেটমেন্টও।
খোলা কাগজ : দ্য রোভারের সংগীতে বাউল, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত, সাইকেডেলিক রক ও রক অ্যান্ড রোলের প্রভাব একসঙ্গে দেখা যায়। এই ভিন্ন ভিন্ন সংগীতধারা আপনাদের কাছে কীভাবে এসে এক জায়গায় মিলেছে?
দ্য রোভার : বিভিন্ন রকম গান শুনতে শুনতে আই গেস, কারণ আমাদের তিনজনেরই এই মিউজিক টেস্ট খুবই কাছাকাছি। ধরেন আমাদের টেস্টের একটা গান কেউ ছাড়লে, আমরা তিনজনই মনোযোগ দিয়ে শুনি। থাকে না যে, এবং ওই টেস্টটা একটু... আমি বলব না ডিফারেন্ট, কিন্তু আমাদের তিনজনের মতন একটা গ্রাউন্ডওয়ার্ক আমরা করছি, যেই গ্রাউন্ডওয়ার্কটা আসলে আমাদের টেস্টটাকে ডেভেলপ করছে। ওইখানে অবশ্যই এটা একটা ভেন ডায়াগ্রামের মতন যে, রাতুল বৃত্তটা হলো যে—এই এই জিনিস পছন্দ করে, আমি এই জিনিস পছন্দ করি, তুরান এই জিনিস পছন্দ করে তার একটা ইন্টারসেক্ট আর কি। তিনটা বৃত্ত আসলে একসাথে মিলে যেই কমন জায়গাটুক, ওইটুক আসলে আমাদের মিউজিক্যাল টেস্ট এবং ওইটুকুই আমরা। দেখা গেছে ওইখানে—কিছু স্পেসিফিক সাউন্ড বা মিউজিক আছে যেগুলো আমরা প্র্যাকটিস করছি এবং পরে গিয়ে ওইটার মতন কিছু করার চেষ্টা করছি আমাদের নিজেদের ভাষায়। তো এতগুলা—ওই যে—ওই বিভিন্ন টেস্ট, কিন্তু কমন জায়গায় গিয়া মিলছে, কারণ এটা আমাদের তিনজনেরই পছন্দ। ওইখান থেকে আই থিংক এক্সপেরিমেন্ট করার—আইডিয়াজগুলো আসছে। এই আর কি। এবং আমরা শিখছি। মানে আজকে আমরা যেই জনরায় আছি, আই বিলিভ যে, এই জনরাটাই আমাদের—মানে একটা স্টেটমেন্ট, বাট দিস ইজ নট দি—মানে কি বলব ফুলফিলমেন্ট—মানে ফুলেস্ট অফ আস, আমি এটা বলব আর কি। আমরা যত মিউজিক করব, প্র্যাকটিস করব, আই গেস আমরা নিজেদের ততটাই ভাঙতে পারব এবং ওই কাছাকাছি যেতে পারব।
খোলা কাগজ : নির্দিষ্ট শিল্পী বা ব্যান্ডের কথা যদি বলেন, আপনাদের সংগীত চিন্তাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছেন কারা? আপনাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত মিউজিক্যাল ইনফ্লুয়েন্স কি আলাদা?
দ্য রোভার : না, এই যে এইমাত্রই বললাম, আমাদের নির্দিষ্ট কিছু শিল্পীর কথা বলতে গেলে প্রথমেই ধরেন লেড জেপলিনের কথা বলতে হবে। কারণ লেড জেপলিনের ফিজিক্যাল গ্রাফিতি অ্যালবামের ‘দ্য রোভার’ গানের নাম থেকে আমরা আমাদের ব্যান্ডের নাম রাখি—‘দ্য রোভার।’ আর তাছাড়া বিটলস, ডোর্স, পিংক ফ্লয়েড—এদের তো কথা বলতেই হবে। আমাদের মানে—এইটা গেল ওয়েস্টের কথা। ইস্টে ধরেন—যত রকম শাস্ত্রীয় সংগীত প্লেয়াররা আছেন, তাদের কথা বলতে হবে। ধরেন, যদি মোটা দাগে বলি, রবিশঙ্কর আছেন, আলী আকবর খান আছেন, তা—সরি, আমজাদ আলী খান আছেন, আলী আকবর আছেন, তারপর হলো যে—অনেকেই, হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া থেকে শুরু করে—মানে, সানতুর প্লেয়ার—ওনার নাম কী জানি? আরে! ওনার নাম ভুলে গেছি, যাই হোক। আমি নাম নিতে গেলে আজকে—পুরা ইন্টারভিউটা শুধু নাম নেওয়াই শেষ হবে না, কারণ—অলসো আমরা পাকিস্তানি মিউজিক থেকেও অনেক ইন্সপায়ার্ড। এটাও একটা জিনিস। তো— এই যে—অনেক হরেক রকমের—ওয়েস্টের ইস্টের মিক্সচারের টেস্টটা আর কি! মানে, আমি কমনলি বলছি আর কি। বা আমি যদি নিজের জায়গা থেকেও বলি, তাহলে হয়তো দুইজনের সাথেও অনেকটুকু কমন পড়বে। যদিও আমাদের আশেপাশের মানুষজনের টেস্টের থেকে আমাদের টেস্টটা একটু আলাদা। আলাদা বলব না, মানে হয়তো একটু ওল্ড স্কুল আসলে। একটু বেশি সেকেলে। নতুন মিউজিক দেখা যায় একটু কমই শোনা হয় আমাদের—মানে সচরাচর। কিন্তু—একসাথে বড় হওয়ার কারণে যেসব হয়তো ওই টাইমে রেডিওতে চলছে, টিভিতে চলছে, ইন্টারনেটে চলছে—ওগুলাই বেশি আমাদের শোনা হয়েছে। এবং ওইখান থেকে হয়তো নিজেদের টেস্টফুল মিউজিক আরও খুঁজে পাওয়া হয়েছে। যেমন, তুরান অনেক ব্ল্যাক মেটাল বা এক্সট্রিম মেটাল মিউজিকের ফ্যান। হ্যাঁ, এইটার—এবং হিপহপ মিউজিকের একসাথে, হিপহপ মিউজিকেরও ফ্যান। এটার বুজ আমার আর রাতুলের একটু কম আছে, কিন্তু ও এটার থেকে যেই ইন্সপায়ারেশনস বা যেই ফিলোসফিগুলো আমাদের সাথে শেয়ার করে, ওখান থেকে আমরা ইন্সপায়ার্ড হয়ে ওগুলা থেকে আমরা মিউজিক বানাই। নট নেসেসারিলি সেইম জনরা, কিন্তু সেইম মোটিফ আর কি।
খোলা কাগজ : আপনাদের গানে পূর্ব ও পশ্চিমের সংগীতভাষার যে মিশ্রণ দেখা যায়, সেটা কি শুরু থেকেই দ্য রোভারের সচেতন নান্দনিক অবস্থান ছিল, নাকি গান করতে করতে নিজেদের স্বতন্ত্র সাউন্ডটা তৈরি হয়েছে?
দ্য রোভার : এইটা আসলে শুরু থেকেই নান্দনিক অবস্থান ছিল, কারণ—আমাদের রাতুল অনেক দুর্দান্ত—ইস্টার্ন ক্লাসিক্যাল বাজাতে পারে এবং তুরান ওইটার সাথে তবলার মতন করে ড্রামস বাজাইতে পারে। তো—মানে বাংলা একটা প্যাটার্ন অনেক আগে থেকেই আমাদের সাউন্ডের মধ্যে ছিল। যেটার উপরে পরে আসলে কথা বসানো হইছে। সো, এইটা এই ডিসিশন অনেকটা কনশাসলি নেওয়া। বাট হ্যাঁ, সাবকনশাসলি এটা ডেভেলপ করছে। এই ডিসিশনটা যে আমরা একদম খুবই—স্ট্র্রিক্ট ছিলাম, এরকম কিছু না। এটা—মোটামুটি—যত টাইম গেছে, এইটা হইলো যে আমরা ধীরে ধীরে ডেভেলপ করছি।
খোলা কাগজ : সবগুলা গানের লাইভ টেক রেকর্ডিং করার পেছনের কারণটা কী?
দ্য রোভার : লাইভ টেক করার পেছনে কারণ ছিল প্রথমত— এই এআই-এর যুগে সবাই হইলো আসলে খুব বেশি পারফেকশনিস্ট হইতে চাই না আমরা। তাই আমরা একটু ভুল রাখছি আমাদের গানে। আমরা এরকমই আসলে। মানে একটু—পারফেক্ট না, ইমপারফেক্ট। এটাই হয়তো আমাদের—আমাদের সৌন্দর্য। সো, আমরা লাইভ রেকর্ডিংটাকে ভয় পাই নাই আসলে। করে ফেলছি। আর করতে গিয়ে যেটা হইছে যে—একটা ইনভিজিবল গ্লু আমাদের মিউজিকের মধ্যে ছিল—প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত। আসলে আমাদের গানগুলো শুনলে ওই সময়টাকে বোঝা যায়, আচ্ছা, সেদিন বৃষ্টি পড়ছিল। সেদিন হয়তো—এরকম একটা কিছু—মানে একটা—একটা মোমেন্টকে ক্যাপচার করা গেছে আর কি। সো, যেটা স্টুডিও ওয়ার্ক করতে গেলে সেটা একটু কঠিন হয়ে যায়। ওইটাও— আমি বলব না যে একবারে মোমেন্টটাকে ধরে না। ওইটা হয়তো আরো গ্র্যান্ডভাবে ধরে। কিন্তু এই যে—মাঝে মাঝে থাকে না যে— কিছু—কী বলব? অ্যাক্সিডেন্টাল কিছু ভুল, যেটা হইলো এটাই সুন্দর লাগে। হ্যাঁ, ওই মোমেন্টে।—মানে ধরেন একটা ছবি, একটা ছবিতে একটা কোনো ফ্রেন্ড সার্কেলের কারো বার্থডে, কেক কাটতেছে, ঠিক আছে? একটা ছবি তুলতে গেছে, কারও মুখে কেক লাগা, কারও চুল এলোমেলো, তাতে কী হইছে? এটা একটা অ্যাক্সিডেন্টাল ঘটনা, যেটা সবার মনে থাকবে। তো, এটাই আমাদের মেইন কারণ ছিল যে, আমাদের তিনজনের এই এক্সপেরিয়েন্সটা মনে থাকতে হবে যে, আমরা একবার লাইভ রেকর্ড করছিলাম। সবাই একসাথে বসে জাস্ট রেকর্ড বাটনটা অন হইছে, আমরা একসাথে বাজায় গেছি। পজ হইছে। গান শেষ। সো, এই ফিলিংটা আমাদের দরকার ছিল। এটাও আরেকটা কারণ আসলে। এখন তো খুব ভালো লাগছে যে, মানুষ আমাদের এই ভুলগুলোকেও সুন্দরভাবে নিতেছে। মানে—এখনো গালি কম খাইতেছি আর কি। এটাই। কিন্তু খাবো হয়তো সামনে যেহেতু ভুল আছে অনেক। তো, অবশ্যই এটা নিয়ে আমরা খুব বেশি বদার্ড না, কারণ এরকমই আমরা—মানে এটাই আমরা আর কি। এটা খুবই রিয়েল, র। সো, দ্যাটস দেয়ার।
খোলা কাগজ : শেষ করতে চাই—তারে পাওয়া যাবে নাকি ইন্দ্রিয় আর প্রকৃতিতে?
দ্য রোভার : ইন্দ্রিয় আর প্রকৃতিতেই তো সে থাকে। কিন্তু আমরা কি দেখি কি না, এটা হইলো যে একটা কোয়েশ্চেন আর কি। আমি আপনারে আবার করলাম। সো, এই আর কি। আমার মনে হয় এরকম, হয়তো আমি ভুল, কিন্তু এটা আমার কাছে এ রকমই মনে হয় যে— সে তো ইন্দ্রিয় আর প্রকৃতিতেই থাকে। কিন্তু আমরা দেখতে পাইতেছি কি না।