দীর্ঘ বিরতির পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন ব্যবস্থায় অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেরাই চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ ও কর্মী নির্বাচন করতে পারবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সরকারি ছাড়পত্রের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং একক মেডিকেল সেন্টারের নিয়ন্ত্রণ এড়ানোর কথা জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়া বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মীরা বিদেশ যাওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যও অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। কোনো একটি নির্দিষ্ট মেডিকেল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে না।
মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য, কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখা, যাতে কর্মীরা একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের মুখে না পড়েন।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া চারটি প্রধান ধাপে পরিচালিত হবে।
কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার থেকে নিজেদের উদ্যোগে জব অর্ডার (Job Order) বা ডিমান্ড (Demand) সংগ্রহ করতে পারবে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে কর্মী নির্বাচন করতে হবে। যে এজেন্সি জব অর্ডার (Job Order) সংগ্রহ করবে, সেই এজেন্সি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করে নিজের কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। অর্থাৎ, কর্মী সংগ্রহ ও নির্বাচন করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির নিজের কাছেই থাকবে।
এ ছাড়া তৃতীয় ধাপে মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক প্রসেসিং কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। যেখানে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রশাসনিক প্রসেসিং প্রয়োজন হবে, যেমন কলিং ভিসা (Calling Visa), ই-ভিসা (e-Visa) এবং অন্যান্য নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া, সেখানে সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডসহ (বোয়েসেল) তালিকাভুক্ত অপর ২৫টি প্রসেসিং সার্ভিস এজেন্সি (Processing Service Agency) প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।
এরপর চতুর্থ ধাপে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স (BMET Clearance) সম্পন্ন হবে। এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার প্রয়োজনীয় প্রসেসিং সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিটি বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি তার নিজের রিক্রুটিং লাইসেন্সের মাধ্যমেই তার নিজস্ব কর্মীদের বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স (BMET Clearance) সম্পন্ন করতে পারবে। অর্থাৎ, জব অর্ডার (Job Order) যে এজেন্সি সংগ্রহ করবে এবং কর্মী যে এজেন্সি নির্বাচন করবে, সেই এজেন্সি নিজের লাইসেন্সের অধীনেই তার কর্মীদের বাংলাদেশের সরকারি ক্লিয়ারেন্স (Clearance) সম্পন্ন করতে পারবে।
অন্যদিকে সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং অপর ২৫টি প্রসেসিং/সার্ভিস এজেন্সি (Processing/Service Agency) প্রশাসনিক প্রসেসিংয়ের কাজ করবে। বিএমইটির (BMET) ছাড়পত্রের জন্য তারা অনুমোদিত এজেন্সিকে অনাপত্তিপত্র এনওসি (NOC) দিতে পারবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সির নিজস্ব দায়িত্ব, জবাবদিহিতা এবং ব্যবসায়িক স্বাধীনতা বজায় থাকবে।
কেকে/ এআই