সৌদি আরবের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং হুথি বিদ্রোহীদের সম্ভাব্য হামলার আতঙ্কে বিমান চলাচলে অনিশ্চয়তা কাটছে না। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে সৌদি আরবের দাম্মাম ও রিয়াগামী ফ্লাইট চলাচল আগামী রোববার (১৮ অক্টোবর) পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সৌদি আরবগামী ও দেশটি থেকে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা হাজারো যাত্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পর্যন্ত সৌদি আরবের পরিস্থিতির কারণে মোট ১০৩টি ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। এতে প্রায় ১৮ হাজার যাত্রী ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অনেক যাত্রীর যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কর্মস্থলে যোগ দিতে যাওয়া প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে না পারলে চাকরি হারানো কিংবা কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে নানা জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।
বিমান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন নতুন কর্মভিসা নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কর্মীরা। অনেকের ভিসার মেয়াদ, নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তি এবং কর্মস্থলে যোগদানের নির্ধারিত সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ছুটিতে দেশে এসে আটকে পড়া প্রবাসীরাও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারার আশঙ্কায় রয়েছেন।
যাত্রীদের অভিযোগ, ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় তাদের যাতায়াত পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে। কেউ কেউ অতিরিক্ত থাকা-খাওয়ার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। আবার অনেকে টিকিটের অর্থ ফেরত পাওয়া কিংবা বিকল্প ফ্লাইটে যাওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
সৌদি আরবের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার কারণে বিমান চলাচলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এর প্রভাব পড়ছে প্রবাসী কর্মী ও সাধারণ যাত্রীদের জীবনে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে।
এ অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীরা দ্রুত ফ্লাইট চালুর বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা, বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা এবং টিকিট পুনর্নির্ধারণে সহযোগিতা চান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের প্রত্যাশা, পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত জানানো এবং যাত্রীদের আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওযযা।
অন্যদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দেয়া তথ্যানুযায়ী, বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিল হওয়া বিমানের সংখ্যা ছিল ১০০, বৃহস্পতিবার সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৩-এ, ভুক্তভোগীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৮ হাজার হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নতুন তিনটি ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগ।
কেকে/এমএ