কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের মালিক তানভীরসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং বাকি ১৯ জন অজ্ঞাতনামা আসামি। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার রিসোর্ট ম্যানেজার সুমনকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শনিবারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে পুড়ে যাওয়া রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপে নতুন করে তল্লাশি শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ দল। স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১১ জন নিখোঁজের মধ্যে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো একজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার জানান, অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে শনিবার ধ্বংসস্তূপের সব জায়গায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি চালানো সম্ভব হয়নি। রিসোর্টটির ওপরের তলাগুলো কাঠের তৈরি হওয়ায় আগুনে সেগুলো ভেঙে নিচতলায় পড়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো আগুনে সম্পূর্ণ বিকৃত হয়ে যাওয়ায় ফরেনসিক পরীক্ষা ছাড়া নিহতের সংখ্যা ও পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন। পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, নিখোঁজ ব্যক্তি অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টের ভেতরে ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং রিসোর্টটির নির্মাণ ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির পরিধি বাড়িয়ে সাত সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে তদন্ত কমিটির প্রধান ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানের নেতৃত্বে সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে তাসনীম জাহান সাংবাদিকদের জানান, রিসোর্টটি নির্মাণের সময় পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি রিসোর্টে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, নির্মাণকাজে কোনো ত্রুটি ছিল কি না এবং ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী নিরাপদ ছিল কি না, সেসব বিষয়ও তদন্ত করা হবে।
তিনি আরও জানান, নিহতদের স্বজনদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার পর মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অবহেলা ও নিরাপত্তাজনিত ত্রুটির অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে মামলা করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি রিসোর্টের মালিক তানভীরসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য ১৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার পর গ্রেপ্তার হওয়া রিসোর্ট ম্যানেজার সুমনকে রোববার দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
এদিকে, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে মেরিন ড্রাইভ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার অবস্থা এবং নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান—সব মিলিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তদন্ত প্রতিবেদন ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
কেকে/সাশ