কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় বালতিতে রাখা গরুর দুধ মুরগি ফেলে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সুমাইয়া ইসলাম রুমিকে (২১) পেটে লাথি মেরে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইমতিয়াজ আহমেদ বায়েজিদকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বুড়িচং থানায় হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান।
সুমাইয়া ইসলাম রুমি শ্রীমন্তপুর গ্রামের প্রবাসফেরত ইমতিয়াজ আহমেদ বায়েজিদের স্ত্রী। তাদের ১৯ মাস বয়সী বারিহা আক্তার নামে কন্যাসন্তান রয়েছে। রুমির বাবার বাড়ি একই উপজেলার রাজাপুর উত্তরপাড়ায়। তিনি এলাকার নুরুল ইসলাম হুজুরের মেয়ে।
২০২৩ সালে শ্রীমন্তপুর গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে ইমতিয়াজ আহমেদ বায়েজিদের সঙ্গে সুমাইয়া ইসলাম রুমির বিয়ে হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুমাইয়া ইসলাম রুমিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন।
নিহতের মামা সোলেমান জানান, রোববার রাত ৯টার দিকে রুমি তার মা রিনা বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় বালতিতে রাখা গরুর দুধ মুরগি ফেলে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর স্বামী ইমতিয়াজ ক্ষিপ্ত হয়ে অন্তঃসত্ত্বা রুমির পেটে লাথি মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে রুমির মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর স্বামী ও শাশুড়ি জোহুরা খাতুন ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচারের চেষ্টা করেন। পরে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়।
খবর পেয়ে বুড়িচং থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ আহমেদ বায়েজিদকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
লুৎফুর রহমান বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামীকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা/মামলা নেওয়া হবে।’’
কেকে/এমএ