সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)। পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, যজ্ঞ ও প্রসাদ বিতরণসহ নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় দিনটি উদ্যাপন করবেন ভক্তরা। তবে উৎসবের আনন্দের মধ্যেই বাজতে শুরু করেছে বিদায়ের সুর। আগামীকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন এবং নৌকায় চড়ে বিদায় নেবেন। দেবীর আগমন ও গমনের বাহন নিয়ে প্রচলিত শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা ও লোকবিশ্বাসে নানা তাৎপর্য রয়েছে। ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে অশুভ শক্তির বিনাশ হবে এবং পৃথিবীতে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হবে।
দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি মহানবমী। হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, এদিন দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে পরাজিত করে শুভ শক্তির বিজয় প্রতিষ্ঠা করেন। অন্যদিকে, রামায়ণের কাহিনি অনুযায়ী, দেবী দুর্গার আশীর্বাদ নিয়ে শ্রীরামচন্দ্র রাবণকে বধ করেছিলেন। এসব ধর্মীয় তাৎপর্যকে সামনে রেখে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বিশেষ পূজা ও যজ্ঞের আয়োজন করা হয়।
শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, নবমীতে কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে দেবীর আরাধনা করা হয়। ষোড়শ উপাচারে পূজার পাশাপাশি নীল অপরাজিতা ফুল, বেলপাতা, আমকাঠ ও ঘি দিয়ে যজ্ঞের আয়োজন করা হয়। প্রচলিত আচার অনুযায়ী, ১০৮টি নীলপদ্ম নিবেদনেরও বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ভক্তরা পরিবার-পরিজনের মঙ্গল, ব্যক্তিগত মনোবাসনা পূরণ ও বিশ্বশান্তি কামনায় দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন।
মহাষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত সন্ধিপূজাও দুর্গোৎসবের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। এ সময় দেবীকে চামুণ্ডারূপে পূজা করা হয়। ধর্মীয় কাহিনি অনুসারে, চণ্ড ও মুণ্ড নামের দুই অসুরকে বধ করেন দেবী চামুণ্ডা। অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে এ পূজার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
নবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভক্তরা অঞ্জলি নিবেদন করবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মণ্ডপে প্রসাদ বিতরণ ও অন্যান্য ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপিত হবে।
নবমীর পরদিন বিজয়া দশমী। এদিন দেবীর দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। অনেক মণ্ডপে বিবাহিত নারীরা দেবীকে সিঁদুর পরিয়ে এবং পরস্পরের কপালে সিঁদুর লাগিয়ে সিঁদুর খেলায় অংশ নেবেন। এ আচারকে ঘিরে স্বামী, পরিবার ও প্রিয়জনদের মঙ্গল কামনা করবেন তাঁরা।
সিঁদুর খেলা ও বিদায়পর্বে পূজামণ্ডপগুলোতে তৈরি হবে আবেগঘন পরিবেশ। আনন্দ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও নানা আয়োজনে দেবীকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা। তাদের প্রত্যাশা, আগামী বছর আবারও নতুন আনন্দ ও আশীর্বাদ নিয়ে মর্ত্যে ফিরে আসবেন দেবী দুর্গা।
বিজয়া দশমী উপলক্ষে বুধবার ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। তবে পূজার আনন্দ, মিলনমেলা ও ধর্মীয় স্মৃতি ধারণ করে ভক্তরা অপেক্ষা করবেন আগামী বছরের শারদীয় উৎসবের।
অশুভ শক্তির বিনাশ, শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তাই মহানবমী ও বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য।
কেকে/সাশ