নীলফামারীতে ৮৬৮টি মণ্ডপে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। দুর্গোৎসব ঘিরে জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রহণ করেছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জেলার ৮৬৮ মণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপনে পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছাড়াও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারী জোরদার রয়েছে। পাশপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে চলছে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিনব্যাপী মহানবমীর পূজায় বিভিন্ন মণ্ডপে দেখা গেছে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড়।
জেলা শহরের শ্রী শ্রী কালিবাড়ি মন্দির, শীব মন্দির, বড় বাজার, বাড়াইপাড়া ও মিলনপল্লী মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। বিভিন্ন স্থান থেকে যানবাহনে অথবা পায়ে হেটে মন্দিরে মন্দিরে ঘুরতে দেখা গেছে নারী, পুরুষ ও শিশু দর্শনার্থীদের। একইভাবে শহরের অদূরে বাদিয়ার মোড়, কালিতলা, রামনগর, রামগঞ্জসহ গ্রামের বিভিন্ন মণ্ডপে প্রচুর ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আনাগোনার খবর পাওয়া গেছে।
শিবমন্দির দুর্গোৎসব কমিটির আহ্বায়ক পরিতোষ রায় বলেন, ‘প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এবারে ভক্তরা নির্বিঘ্নে উৎসব পালন করছে। পূজার ষষ্ঠী থেকে আজ নবমী পর্যন্ত বিভিন্ন মণ্ডপে ভক্ত এবং দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে।’
শহরের শ্রী শ্রী কালিবাড়ি মন্দির কমিটির সভাপতি অক্ষয় কুমার রায় জানান, প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তার কারণে ভক্তরা উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করছেন। আজ মহানবমীতে বক্তদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মনোয়ারুল ইসলাম জানান, জেলার ছয় উপজেলায় এবার ৮৬৮টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব পালিত হচ্ছে। সরকারিভাবে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই ৮৬৮টি মণ্পপের মধ্যে রয়েছে নীলফামারী সদরে ২৮৫টি, জলঢাকায় ১৮৫টি, কিশোরগঞ্জে ১২৭টি, ডোমারে ১০৫টি, সৈয়দপুরে ৮৮টি এবং ডিমলা উপজেলায় ৭৮টি।
জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়ন যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ জানান, দুর্গোৎসরে আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃড় করার জন্যপ্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল ও অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাররিন ইসলাম তুহিনের সহযোগিতা এ জেলায় দুঃস্থ মানুষের মধ্যে নতুন বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে উৎসবমুখর ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
এদিকে উৎসব উদযাপনে শিল্পপ্রতিষ্ঠান নীলসাগর গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আহসান হাবীব লেলিনের পক্ষ থেকে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে আর্থিক সহয়তা দেওয়া হয়েছে।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি) রংপুরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনজুর করিম বলেন, ‘পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক এসআরবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম চলবে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। এ ছাড়া প্রতিমা বিসর্জনের দিন নেওয়া হবে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।’
নীলফামারী পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন বলেন, ‘জেলার ৮৬৮টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপনে নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে পর্যপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আমরা নিজেরাও বিভিন্ন মণ্ডপে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত জেলায় সকল পূজা মণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপিত হচ্ছে। বাকি সময়টুকুও শান্তিপূর্ণভাবে কেটে যাবে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণেই বিভিন্ন মণ্ডবে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ভক্তদের উপচেপড়া ভীর পরিলক্ষিত হচ্ছে।’
কেকে/এমএ