স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৮০ জন, তাদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা গুরুতর।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ধ্বংসস্তূপে আরও মরদেহ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে উদ্ধার অভিযান চলছে।
স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে জানান, সামনে একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় রেনফে ট্রেনটির জন্য লাল সংকেত দেওয়া হয়েছিল। কম্পিউটার যোগাযোগব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে পরে ভুল সিদ্ধান্তে রেনফে ট্রেনটিকে আবার চলার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর দাঁড়িয়ে থাকা ইরিও ট্রেনের সঙ্গে সেটির সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনায় ট্রেনের কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বগিগুলোর ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। দুর্ঘটনার সময় ইরিও ট্রেনে ১৪৭ জন এবং রেনফে ট্রেনে ৩৯৭ জন যাত্রী ছিলেন বলে আঞ্চলিক সরকার জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় যাত্রীরা ছিটকে পড়েন। অনেকে জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন, আবার কেউ কেউ আসনগুলোর মধ্যে আটকে পড়েন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এ ঘটনাকে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি তদন্তে কোনো ত্রুটি উঠে এলে তা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এটি চলতি বছর স্পেনে দ্বিতীয় প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা। এর আগে জানুয়ারিতে একই রেলপথে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হন। নতুন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণে বিনিয়োগের ঘাটতি নিয়েও স্পেনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটি দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কে বছরে গড়ে প্রায় ১৫০ কোটি ইউরো ব্যয় করেছে। তবে এর মাত্র ১৬ শতাংশ বরাদ্দ ছিল রক্ষণাবেক্ষণ, নবায়ন ও উন্নয়নের জন্য।
দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ-আন্দালুসিয়া দ্রুতগতির রেলপথে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত টিকিট বিক্রি স্থগিত করেছে রেনফে।
সূত্র: রয়টার্স
কেকে/সাশ