ব্যক্তিগত প্রত্যাশা ও সাফল্যের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ এবং বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে দক্ষ ও জনবান্ধব বাহিনী গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।’
রোববার (১ নভেম্বর) ৪৫তম বিসিএস (আনসার) ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া ১৯ জন কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের পর বাহিনীর সদর দপ্তরে গেলে তাদের স্বাগত জানান মহাপরিচালক। এ উপলক্ষে সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত পরিচিতি ও স্বাগত সভায় তিনি এসব দিকনির্দেশনা দেন।
সভায় মহাপরিচালক বলেন, ‘বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের বৃহত্তম জনসম্পৃক্ত শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী। প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের এই বাহিনীতে ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, সাধারণ আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপির সদস্যরা রয়েছেন। সদস্যদের দায়িত্ব ও কাজের ক্ষেত্র আলাদা হলেও জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনকল্যাণে সবার সম্মিলিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এই জনবলকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগিয়ে বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিভেদে চিন্তা, প্রত্যাশা ও কর্মজীবনের লক্ষ্য আলাদা হতে পারে। তবে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষাকে বাহিনীর আদর্শ, প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য ও দায়িত্বের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।’
ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি সাংগঠনিক উন্নতি এবং দেশের কল্যাণে অবদান রাখার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাজ শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বা নিরাপত্তা কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা, স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নেও বাহিনী ভূমিকা রাখছে। এসব ক্ষেত্রে সদস্যদের আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে।’
নবীন কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা ও সক্ষমতা বুঝে কাজে লাগাতে হবে। বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সুসংগঠিত, দক্ষ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিতে হবে।’
সভায় নবযোগদানকারী কর্মকর্তাদের নিজেদের জ্ঞান, মেধা ও কর্মদক্ষতা কাজে লাগিয়ে বাহিনীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় অবদান আরও বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ জানান মহাপরিচালক।
অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এআই