অভাব, দারিদ্র্য আর শত প্রতিকূলতা কখনও জয়ের পথে বাধা হতে পারে না; তা আবারও প্রমাণ করলেন বরগুনার মেয়ে সাওদা। কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। তার এই সাফল্যে কেবল পরিবারেই নয়, পুরো এলাকায় বইছে আনন্দের জোয়ার।
সাওদা বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এবার এইসএসসি পরিক্ষায় অংশ নেয়। বাবা আবদুল কুদ্দুস হাওলাদার একজন দরিদ্র বর্গাচাষি এবং মা গৃহিণী। বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার পূর্ব কেওড়াবুনিয়া গ্রামে।
জানা যায়, সাওদার পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতার ছিল না বললেই চলে। ছোটবেলা থেকেই চরম আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন সে। বাবা অন্যের জমি বর্গা চাষ করে কোনোমতে সংসার ও পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। হাজারও সংকটের মাঝেও পড়াশোনা ছাড়েননি সাওদা। ২০২৪ সালে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। সেবার রেজাল্ট আশানুরূপ না এলেও ৪ পয়েন্ট ৭৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।
এসএসসির ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি ভর্তি হন বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজে। আর এইচএসসিতে এসে তাক লাগিয়ে দেন অভাবনীয় ফলাফল করে। এবার তিনি সব বাধা পেরিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। মেয়ের এই অভাবনীয় সাফল্যে আবেগাপ্লুত ও গর্বিত তার বাবা-মা। স্বজন ও প্রতিবেশীরাও সাওদার বাড়িতে ভিড় করছেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সাওদা বলেন, ‘বাবার কষ্টের সংসার ও সংগ্রামের কথা মাথায় রেখেই আমি পড়াশোনা চালিয়ে গেছি। অভাব কখনও আমার ইচ্ছাশক্তিকে দমাতে পারেনি। শিক্ষক ও বাবা-মার অনুপ্রেরণায় আজকের এই সাফল্য পেয়েছি।’
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে সাওদা জানান, তিনি এখানেই থেমে থাকতে চান না। সামনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উচ্চশিক্ষা শেষ করে একজন সফল বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করাই তার মূল স্বপ্ন।
সাওদার মতো অদম্য মেধাবীরা সমাজের একেকটি আলোকবর্তিকা। সরকারি বা বেসরকারিভাবে একটু সহযোগিতা পেলে এই তরুণী তার স্বপ্নের চূড়ায় পৌঁছাতে পারবেন বলে বিশ্বাস স্থানীয়দের।
কেকে/এআই