ময়মনসিংহের ভালুকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়িতে হামলা চালিয়ে এক শিক্ষককে মারধর করে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মহিলা দলের এক নেত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ সময় শিক্ষকের স্ত্রীকেও মারধর, স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং গাছপালা কেটে ক্ষতিসাধনের অভিযোগ করা হয়েছে। আহত শিক্ষক কে.এম. সাদেক হোসেন (৫৩) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গত ৩১ অক্টোবর দুপুরে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম ঝালপাজা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় সোমবার (২ নভেম্বর) ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ভালুকা মডেল থানায় মামলা করেছেন আহত শিক্ষকের ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম খান।
আহত সাদেক হোসেন বড়চালা হুসাইনিয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক। তিনি পশ্চিম ঝালপাজা এলাকার মৃত হাফিজ উদ্দিন খানের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জমি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে শিক্ষক পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে ঘটনার দিন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দা, কুড়াল, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সাদেক হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা শিক্ষক ও তাঁর স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়।
শিক্ষকের ভাই রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, একপর্যায়ে অভিযুক্ত শান্ত মিয়া দা দিয়ে সাদেক হোসেনের মাথায় আঘাত করেন। আত্মরক্ষায় ডান হাত দিয়ে আঘাত ঠেকাতে গেলে তাঁর হাতের কনুইয়ের নিচের হাড় ভেঙে যায়।
এ ছাড়া জেসমিন আক্তারের গলায় থাকা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বাড়ির গাছপালা কেটে অন্তত ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন এবং তাঁদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সাদেকের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মামলায় অভিযুক্ত ছয়জন হলেন কে এম শান্ত মিয়া (২৭), মো. ফরিদুল ইসলাম খান (৫৮), মোছা. শিরিনা আক্তার (৫০), এমদাদুল হক খান (৪৮), মো. হারুনুর রশিদ (৪৩) ও মোছা. রিয়া আক্তার (২৩)। তাঁরা সবাই পশ্চিম ঝালপাজা এলাকার বাসিন্দা।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/সাশ