যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। একই সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে দলটি। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য কংগ্রেসে বিরোধী দলের বাধার মুখে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এর মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটল। আগামী জানুয়ারি থেকে নতুন কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের মুখোমুখি হতে হবে।
নির্বাচনের ফলকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং সরকারের দুর্নীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। সংস্থাটির ভোটার জরিপে দেখা গেছে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোটার দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্ট বা ক্ষুব্ধ। একই সঙ্গে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি তাদের পরিবারে মাঝারি থেকে গুরুতর আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।
সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের জয় এসেছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পরাজিত করার মধ্য দিয়ে। আইওয়ায় জশ টুরেক রিপাবলিকান অ্যাশলে হিনসনকে হারিয়েছেন। কানসাসে অ্যাডাম হ্যামিল্টন পরাজিত করেছেন সিনেটর রজার মার্শালকে। টেক্সাসে জেমস তালারিকো হারিয়েছেন কেন প্যাক্সটনকে। এ ছাড়া ওহাইওতে শেরড ব্রাউন, নর্থ ক্যারোলাইনায় রয় কুপার এবং সাউথ ক্যারোলাইনায় অ্যানি অ্যান্ড্রুজ জয় পেয়েছেন। জর্জিয়ায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ।
প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটদের জয় নিশ্চিত হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ২৫২টি আসন পেতে পারে বলে এনবিসি নিউজের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা এখন গুরুত্বপূর্ণ কমিটির নেতৃত্ব, আইন প্রণয়নের আলোচ্যসূচি নির্ধারণ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন বিষয়ে তদন্তের সুযোগ পাবে।
নির্বাচনে পরাজয়ের পর ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য আইনগত উদ্যোগ ঠেকাতে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি ‘ভেটো’ লেখা একটি লাল টুপির ছবি পোস্ট করেন। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটি তাঁর ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ প্রচারের টুপির আদলে তৈরি।
নির্বাচনের ফল নিয়ে দায় নিতে চাননি ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তিনি নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন না এবং ভোটাররা রিপাবলিকান প্রার্থীদের পছন্দ করেননি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট নেতারা জানিয়েছেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং বিভিন্ন বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ডেমোক্র্যাটদের এই জয় ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে নীতিনির্ধারণী বিরোধ বাড়াতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা বহাল থাকায় আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা বা অচলাবস্থা—দুই পরিস্থিতিই তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকল
কেকে/সাশ