প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রেকর্ড গড়ার পর এবার আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন তাওহীদ হৃদয়। জাতীয় দলের হয়ে নিজের তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। সতীর্থদের একের পর এক উইকেট হারানোর হতাশার মধ্যে একপ্রান্ত আগলে রেখে দারুণ ব্যাটিং করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরে প্রথম টেস্টে হারের পর এই ম্যাচেও স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে সেই দুর্দশার চিত্র দেখা গেছে। তবে ব্যতিক্রম ছিলেন হৃদয়। তার দুর্দান্ত শতকের সুবাদেই দুইশ রানের গণ্ডি পেরিয়েছে বাংলাদেশ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) টেস্টের তৃতীয় দিনে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২০৫ রান। প্রথম ইনিংসে ক্যারিবীয়দের চেয়ে তখনও ১৫১ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা।
১৭১তম বলে চার মেরে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম শতকের দেখা পান হৃদয়। এরপর হেলমেট খুলে ব্যাটের হাতলে রেখে স্মরণীয় মুহূর্তটি উদযাপন করেন তিনি। বিরতিতে যাওয়ার আগে ১৭১ বলে ১১টি চার ও একটি ছক্কায় ১০০ রানে অপরাজিত ছিলেন এই ব্যাটার। বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ছিল মুশফিকুর রহিমের ৩৪।
এর আগে দিনের শুরুতে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। চতুর্থ উইকেটে হৃদয়ের সঙ্গে ৭৩ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন মুশফিক। তবে জোমেল ওয়ারিকানের ভাসানো বলে রাউন্ড দ্য উইকেটে শট খেলতে গিয়ে শর্ট কাভারে ক্যাচ দেন তিনি। ৩৪ রানে থামে তার ইনিংস।
এরপর ক্রিজে এসে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন লিটন দাস। দুটি বাউন্ডারি হাঁকালেও ওয়ারিকানের ফাঁদে পড়ে কাভারে ব্রেন্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
হৃদয়ের সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজের জুটিও আশা জাগিয়েছিল। তবে ৪১ রান যোগ করার পর রোস্টন চেজের বলে প্যাডেল শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন মিরাজ। প্রথম স্লিপ থেকে দৌড়ে এসে দুর্দান্তভাবে ক্যাচটি তালুবন্দী করেন জাস্টিন গ্রিভস। ১৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন মিরাজ।
এরপর দ্রুতই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। জোমেল ওয়ারিকানের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৬ রানে আউট হন হাসান মাহমুদ। ফলে ১৮৪ রানে সপ্তম উইকেট হারিয়ে আরও চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান হৃদয়। তার সঙ্গে ক্রিজে থেকে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যান তাইজুল ইসলাম, যিনি তখন ১ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাংলাদেশের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো হৃদয়ের এই শতককে কার্যকর সংগ্রহে রূপ দিতে বাকি ব্যাটারদের সহযোগিতা পাওয়া।
কেকে/সাশ