নতুন বছরের প্রথম দিনটির সমাপ্তি ঘটছে, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-এর রেশ এখনই কাটবে বলে মনে হয় না। তারিখ ভুল করতে করতে করতে একদিন আমরা একটানে লিখে ফেলতে পারব ...২০২৬। শীত আর শোকের যূথবদ্ধতায় বাংলাদেশের মানুষ ঘটনাবহুল ২০২৫ কে বিদায় জানিয়েছে।
বেগম জিয়ার মৃত্যু, কনকনে শীত আর আসন্ন নির্বাচনের উত্তেজনার ভেতর দিয়ে শেষ হয়েছে ২০২৫। জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালে ভেঙে পড়া অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলাব্যবস্থা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় এগিয়ে নেওয়ার দায় ছিল অন্তর্বর্তী সরকারে। এ লক্ষ্যে সরকার বেশ কয়েকটি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। কমিশনগুলো প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর যাত্রা শুরু হয়এছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের।
জুলাইয়ের পক্ষের প্রায় সব কটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐকমত্য কমিশন আলোচনার পর তৈরি হয় জুলাই সনদ। প্রথম পর্যায়ে ৩৩টি এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩০টি দলের সঙ্গে দীর্ঘ সংলাপের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সত্যিকার অর্থেই একটি বিরল ঘটনা। এটি যেমন একটি আশার বার্তা দেয় আমাদের তেমনি দেশজুড়ে সামাজিক নিরাপত্তার অভাব, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, মব ভায়োলেন্স, বেকারত্ব, সহনশীলতার অভাব, রাজনৈতিক অস্থিতীশীলতায় কেটেছে বছরটি। গত এক বছরে চার হাজারেরও বেশি মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবেও বছরটি ছিল তাৎপর্যময়। ফিলিস্তিন ইসরাইলের যুদ্ধ বিরতি, ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক সহযোগিতা থেকে সরে যাওয়া সুদানের গৃহযুদ্ধ, এআই বিপ্লব সবমিলিয়ে একটি ঘটনাবহুল বছর ছিল ২০২৫।
২০২৬ বাংলাদেশের মব সহিংসতা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বন্ধে, এবং সামাজিক ন্যায়বিচার ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রশ্নে আশা তৈরি করে করেছে। বছরটিকে ঘিরে দেশের মানুষের সব থেকে বড় প্রত্যাশা হলো ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনটি যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে হয়। একইসঙ্গে আমাদের একজন বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে মনে রাখতে হবে আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এমন একপর্যায়ে আছি যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়েছে। নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা হোক প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে একে নিজের সৃজনশীল কাজের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা। ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে বাস্তব জীবনে সময় দেওয়া। সহনশীল হওয়া, জাতীয় উন্নতিতে অবদান রাখা। আমরা একটি বিপন্ন পরিবেশের মধ্যে বাস করছি।
ফলে ২০২৬ সালে আমাদের ব্যক্তিগত পর্যায়ে সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার হওয়া উচিত পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন। পলিথিন বা প্লাস্টিকের ব্যবহার বর্জন করা, বাড়ির আঙিনায় বা ছাদে গাছ লাগানো এবং বিদ্যুৎ ও পানির অপচয় রোধ করার মাধ্যমে আমরা আগামীর জন্য একটি সুস্থ পৃথিবী রেখে যাওয়ার প্রত্যাশা করি। আমাদের প্রত্যাশা হোক আগামী প্রজনম্নের জন্য আমরা যাতে একটি বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যেতে পারি। ২৬ সাল হোক আমাদের প্রত্যেকের জন্য শুদ্ধতা, সমৃদ্ধি আর সফলতার বছর। সবার শান্তি আর সুস্বাস্থ্য কামনায়। বাংলাদেশ এগিয়ে যাক এ প্রত্যাশায়...
কেকে/এজে