মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে সংবিধান সংশোধন কমিটি, বিরোধীদের ওয়াকআউট      তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা      ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
সরকার ও নাগরিকের দায়িত্বশীল ভূমিকা দরকার
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:১৬ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। বিগত সময়ের তিনটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ব্যতীত সকল দল এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ফলে এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চিত রাজনৈতিক অনাস্থা, বিভক্তি ও সন্দেহ কাটিয়ে ওঠার একটি বড় সুযোগ। কিন্তু সেই সুযোগটি নস্যাৎ করতে দেশি-বিদেশি নানান ষড়যন্ত্র বিদ্যমান। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে তৈরি হচ্ছে নানা চ্যালেঞ্জ, যা সময়মতো মোকাবিলা করা না গেলে নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি উভয়ই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

ত্রয়োদশ নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আস্থার সংকট। নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও সেটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে উপস্থাপনের একটি প্রবণতা আগেভাগেই দৃশ্যমান। দেশি ও বিদেশি নানা উৎস থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিশ্লেষণ ও ন্যারেটিভ ছড়ানো হচ্ছে, যা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগেই জনমনে সন্দেহ ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এই অবিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই নির্বাচনের পর পরিস্থিতি ঘোলাটে করার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো সহিংসতার ঝুঁকি। বিশেষ করে যেসব এলাকায় রাজনৈতিক শক্তির ব্যবধান কম, বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতি রয়েছে বা অতীতে সংঘাতের নজির আছে-সেসব এলাকায় উত্তেজনা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা বা পক্ষপাতের অভিযোগ এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের করণীয় অত্যন্ত স্পষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের প্রধান দায়িত্ব হলো নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ স¦চ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা নিশ্চিত করা। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাদার ভূমিকা পালনে বাধ্য করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।

একই সঙ্গে ত্রয়োদশ নির্বাচনের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে ডিজিটাল বিভ্রান্তি ও অপতথ্য যেটাকে ডিপ ফেক বলা হয়। এআই দিয়ে বানানো নানান ভিডিও কনটেন্ট এখন এত বেশি নিখুঁত যে এটিকে খুব সহজেই বিশ্বাসযোগ্যতার সাথে উপস্থাপন করা যায়। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব, ভুয়া তথ্য ও উসকানিমূলক কনটেন্ট নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রেখেই এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এক কঠিন কিন্তু অনিবার্য দায়িত্ব।

তবে এই নির্বাচন শুধু সরকারের একক দায়িত্ব নয়। নাগরিকদের ভূমিকাও এখানে সমান গুরুত্বপূর্ণ। সচেতন ভোটার হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণ, যাচাই ছাড়া তথ্য শেয়ার না করা, রাজনৈতিক মতভিন্নতা সত্ত্বেও সহনশীলতা বজায় রাখা এবং সহিংস উসকানি প্রত্যাখ্যান করা- এসবই নাগরিকের মৌলিক করণীয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চ্যালেঞ্জ কম নয়। কিন্তু এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব। অন্তর্বর্তী সরকার ও নাগরিক- উভয়ের সম্মিলিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সব নীলনকশা ব্যর্থ করা যেতে পারে। গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সরকার ও নাগরিকের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই।

কেকে/ আরআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  জাতীয় সংসদ নির্বাচন   সরকার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close