বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬,
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে রাতেও চলছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন      বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ শিক্ষামন্ত্রীর      সংসদ ভবনের সামনে পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া      প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর সংসদ ভবনে জরুরি বৈঠক      সাইন্সল্যাব থেকে সংসদ অভিমুখে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা      শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও অবরোধে স্থবির রাজধানী      শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর      
খোলাকাগজ স্পেশাল
এলপিজি নিয়ে নৈরাজ্য
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:২৮ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। এতে দিনভর ভোগান্তিতে পড়েন গ্রাহকরা। এর আগেও দ্বিগুণ দামে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে গ্রাহকদের। সব মিলিয়ে এক সপ্তাহ ধরে এলপিজি নিয়ে দেশজুড়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 

এদিকে চলমান সংকট নিরসনে পাঁচটি উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এতে এলপিজির আমদানি বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে বাজারে সরবরাহ সংকট কমে আসবে। তবে সরবরাহ সংকট কাটতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকেরা। 

জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, এলপিজির আমদানি বাড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুল্ক কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এলসি (ঋণপত্র খোলা) সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাঁচটি কোম্পানিকে বাড়তি আমদানির অনুমতি দিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) গতকাল চিঠি পাঠানো হয়। 

এদিকে গতকাল সকাল থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীরা। এতে  ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে এলপিজি সিলিন্ডারের বিক্রি সকাল থেকে বন্ধ ছিল। 

তবে দুপুরের পর সেই ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম খান সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। বৈঠকে নেতারা তিনটি দাবি উত্থাপন করেন—সারা দেশে চলমান প্রশাসনিক অভিযান বন্ধ করা, বিতরণকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ বৃদ্ধি করা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। 

বৈঠকে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ আশ্বস্ত করেছেন যে চলমান অভিযানের বিষয়ে তারা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন এবং চার্জ বাড়াতে আইনগত পদক্ষেপ নেবেন। জালাল আহমেদ আরও বলেন, এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন জানিয়েছে যে, জাহাজ সংকটের মধ্যেও পণ্য আমদানির জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহের সংকট কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।

তবে ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি সেলিম খান বলেন, অপারেটরদের কাছ থেকে সিলিন্ডার কিনতেই তাদের ১ হাজার ৩০০ টাকার বেশি দিতে হচ্ছে। তাই ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার দেড় হাজার টাকার কম দামে বিক্রি করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

এদিকে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, জানুয়ারি মাসের জন্য নির্ধারিত ১ হাজার ৩০৬ টাকার বেশি দামে পণ্য বিক্রির কোনো যুক্তি তিনি দেখছেন না।

ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে দাম বাড়িয়েছেন: এলপিজির মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কারসাজিকে দায়ী করলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি মনে করেন, এটা সাময়িক এবং ধীরে ধীরে কমে যাবে। 

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, অস্বাভাবিকভাবে এলপিজির দাম বাড়ানো ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট করা হচ্ছে। যারা দোকান বন্ধ রেখেছেন, সেগুলোও খোলার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি বিভাগের পাঁচ উদ্যোগে যা আছে— 

১. বাংলাদেশ ব্যাংককে ঋণপ্রাপ্তির আবেদন ও এলসি খোলার প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ করে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

২. সবুজ জ্বালানি বিবেচনায় এলপিজি-সংশ্লিষ্ট উৎপাদন ও আমদানি পর্যায়ে আরোপিত ভ্যাট কমানোর জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতে আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর উৎপাদন পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

৩. আমদানির সিলিং বৃদ্ধির জন্য ওমেরা, মেঘনা, যমুনা, ইউনাইটেড আই গ্যাস ও ডেল্টা থেকে পাওয়া আবেদনের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি দিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে বিইআরসিকে অনুরোধ করা হয়েছে। 

৪. জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে যেকোনো কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে মন্ত্রিসভা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

৫. অপারেটরদের আমদানি করা এলপিজির প্রকৃত চিত্র জানার জন্য চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরসংলগ্ন স্টোরেজ পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অফিস আদেশ প্রদান করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, যাতে এলপিজির আমদানি ও ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে সাপ্লাই চেইনের প্রকৃত অবস্থা জানা যায়।

কেকে/এজে


আরও সংবাদ   বিষয়:  এলপিজি   নৈরাজ্য  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close