নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে ‘স্যার’ না ডেকে ‘ভাইয়া’ বলে সম্বোধনের অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ভাইয়া ডাকলে ভালো লাগবে।”
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের র্যাডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলের মেজবান হলে ‘ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, “এ মুহূর্তে আমাদের বড় অ্যাডভান্টেজ হলো ইয়ুথ ফোর্স। আগামী ১৫-২০ বছর এই কর্মশক্তির সুবিধা আমরা পাব। বাংলাদেশকে আগামী দিনে কীভাবে সাজাতে চাই, সে বিষয়ে আমরা পরিকল্পনা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “সমস্যার কথা বললে অনেক বলা যায়। কিন্তু শুধু সমস্যা বললে সমাধান আসে না। অনেক সমস্যার সমাধানে আমরা কিছু প্ল্যান গ্রহণ করেছি। ভবিষ্যতে আপনারা যারা দেশ পরিচালনা করবেন, তারা কীভাবে দেশ পরিচালনা করবেন সেটাও আমরা শুনতে চাই।”
আলোচনায় প্রশ্নোত্তর পর্বে এক তরুণী নিজেকে পরিচয় দিয়ে ‘স্যার’ সম্বোধন করলে তারেক রহমান তাকে থামিয়ে বলেন, “একটু পজ দিই। আপনারা যারা প্রশ্ন করবেন, হয় আমাকে ভাইয়া বলতে পারেন…।” তখন ওই তরুণী ‘থ্যাংক ইউ স্যার’ বললে তারেক রহমান তার কথা শেষ করে বলেন, “বয়সের হিসেবে আঙ্কেলও ডাকতে পারেন। তবে আঙ্কেল ডাকটা খুব একটা পছন্দ করব না। ভাইয়া বললে ভালো লাগবে।”
এরপর ‘আচ্ছা ধন্যবাদ, ভাইয়া’ বলে প্রশ্ন শুরু করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তাসনুভা তাসরিন। তিনি জানান, ২০২০ সালে মহামারির সময় মাশরুমের ব্যবসা শুরু করলেও পুঁজির সংকটে তা ধরে রাখতে পারেননি। জামানতের জটিলতার কারণে তরুণ উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে গিয়ে যে সমস্যায় পড়েন, সে বিষয়ে বিএনপির পরিকল্পনা জানতে চান তিনি।
জবাবে তারেক রহমান বলেন, দেশে ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা রয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে আইন সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে পড়াশোনায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্টুডেন্ট লোন’ চালুর বিষয়েও ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ সময় চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ মোহাম্মদ রাফসান প্রশ্ন করতে উঠে তারেক রহমানের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলে তিনি বলেন, “একটু হালকা জ্বর আছে।”
পরবর্তী প্রশ্নে জলাবদ্ধতা, উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, “চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা। এটি নিরসনে খাল খননের বিকল্প নেই। বৃষ্টির পানি কোথাও তো যেতে হবে। সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে।”
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ও আশপাশের প্রায় ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ৩৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন।
কেকে/ আরআই