আজকের নিবন্ধে বাংলাদেশে হাই-টেক বা হাই-টেকনোলজির উন্নয়ন, ব্যবহার এবং এর ভবিষ্যৎ পলিসি নিয়ে কথা বলব। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সর্বপ্রথম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আশির দশকে সকল সেক্টরে হাই-টেক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছিলেন। শিক্ষা গবেষণা থেকে শুরু করে, পরিবেশবান্ধব, কৃষি সম্প্রসারণে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল চোখে পড়ার মতো। দেশ যখন সম্মৃদ্ধির পথে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রয়োগে বিপুল সম্ভাবনা তৈরি করছিল তখনই দেশে বিদেশের ষড়যন্ত্রকারীরা ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে বারবার, যার কারণে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও আজ আমরা পৃথিবীর বুকে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় হাই-টেক প্রযুক্তি উন্নয়নে এবং ব্যবহারে অনেক পিছিয়ে আছি। যাই হোক আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু হাই-টেক যেমন এআই বা কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি উন্নয়নে আমাদের তথা বিএনপির কি ধরনের পলিসি হওয়া উচিত, তা নিয়ে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য তাদের সব ধরনের মডার্ন সুযোগ সৃষ্টি, এবং এ যুগের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কীভাবে হাই-টেক সম্পর্কিত আবিষ্কার করা যায়।
স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার সূত্রধরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফার রূপরেখায় প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। বিশেষ করে, এর ৩০তম দফাটি বাংলাদেশের জন্য একটি যুগোপযোগী ‘জাতীয় এআই কৌশল’ বা ন্যাশনাল হাই-টেক এবং এআই স্ট্র্যাটেজি প্রণয়নের ভিত্তিস্বরূপ। এই দফার মূল লক্ষ্য হলো তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গঠনমূলক এবং সৃজনশীল ব্যবহারের মাধ্যমে হাই-টেক শিল্পে বিপ্লব ঘটানো। আমরা এখানে হাই-টেক বলতে সুপারকম্পিউটিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, অটোনোমাস ইঞ্জিনিয়ারিং, রোবোটিক্স এবং অ্যাডভান্সড ইমারজিং টেকনোলজির ব্যবহারের কথা বলছি। যার মাধ্যমে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য উচ্চমানের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাদেরকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এবং হাই-টেক সলিউশন ব্যবহার করে বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ ব্যবস্থা ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরির ওপর এখানে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই ভিশন বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগে অ্যাডভান্সড ট্রেনিং, কর্মশালা ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে একটি দক্ষ জনশক্তি তৈরির অঙ্গীকার করা হয়েছে, যার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তির উৎকর্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ।
কিন্তু, এর পূর্ণ পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক হিসেবে আমরা বলতে চাই যে, হাই-টেক প্রযুক্তি প্রয়োগের ভবিষ্যৎমুখী পলিসি বা কর্মপন্থা একটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেরিতে হলেও সৌদি সরকার এই প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ২০২০ সালে সৌদি ডেটা ও এআই কর্তৃপক্ষ (এসডিএআইএ) নামে একটি সরকারি সংস্থা তৈরি করে যার মূল লক্ষ্য ছিল সেই দেশটিকে ডেটা-চালিত অর্থনীতির বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। এসডিএআইএ এর চেয়ারম্যান ক্রাউন প্রিন্স নিজেই এই কৌশলকে আমাদের বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সর্বোত্তম ব্যবহারের একটি মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই এসডিএআইএ সংস্থাটির তিনটি প্রধান ধাপ ছিল। ২০২১ সালের মধ্যে ‘জাতীয় সক্ষমকারী’ হিসেবে ভিশন ২০৩০-এর অগ্রাধিকারগুলো পূরণ করা, ২০২৫ সালের মধ্যে মূল ক্ষেত্রগুলোতে ‘বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করা, এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ডেটা ও কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা রপ্তানিকারক হিসেবে আন্তর্জাতিক হাই-টেক অঙ্গনে বিশেষ ভূমিকা রাখা। যেমন, বিশ্বের শীর্ষ ১৫টি দেশের মধ্যে সৌদি আরবকে নিয়ে আসা, ২০৩০ সালের মধ্যে ২০,০০০-এর বেশি ডেটা ও এআই বিশেষজ্ঞ এবং ৩০০টিরও বেশি স্টার্টআপ তৈরি করা এবং ডেটা ও এআই-এর জন্য একটি গ্লোবাল হাব গড়ে তোলা।
‘প্যান-কানাডিয়ান আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ স্ট্র্যাটেজির মাধ্যমে কানাডা সরকার দেশটির অর্থনীতি ও সমাজজুড়ে হাই-টেক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গ্রহণের গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিনিয়োগ করছে। এই কৌশলের দ্বিতীয় পর্যায়টি কানাডার বিশ্বমানের প্রতিভা ও গবেষণা সক্ষমতাকে বাণিজ্যিকীকরণ প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করছে, যাতে কানাডিয়ান ধারণা ও জ্ঞান দেশের ভেতরেই সফলভাবে কাজে লাগানো যায়। এই কৌশলের প্রথম স্তম্ভ বা বাণিজ্যিকীকরণের অধীনে ন্যাশনাল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইনস্টিটিউটসমূহ গবেষণাকে বাণিজ্যিক অ্যাপ্লিকেশনে রূপান্তর করতে এবং ব্যবসার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। পাশাপাশি, কানাডার গ্লোবাল ইনোভেশন ক্লাস্টারগুলো মূল শিল্পে কানাডায় তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি গ্রহণকে উৎসাহিত করছে এবং সেই দেশের সরকার এই উদ্যোগে ১২৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রদান করছে। এই কৌশলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তম্ভ যথাক্রমে মানদণ্ড এবং প্রতিভা ও গবেষণার ওপর জোর দেয়। মানদণ্ড বা স্ট্যান্ডার্ডস স্তম্ভের অধীনে, ‘স্ট্যান্ডার্ডস কাউন্সিল অফ কানাডা’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কিত মানদণ্ড উন্নয়ন ও গ্রহণে সহায়তা করছে, যার জন্য ৫ বছরে ৮.৬ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। তৃতীয় স্তম্ভে, কানাডা নতুন গবেষণা প্রতিষ্ঠান তৈরির লক্ষ্যে ১০ বছরের মেয়াদে ২০৮ মিলিয়ন ডলার খরচ করছে।
হাই-টেক পলিসি উন্নয়নে চীন গত অক্টোবরের শুরুতে একটি যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে শক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযুক্তি ত্বরান্বিত করার ঘোষণা দিয়েছে। এই নতুন কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার-এর ব্যাপক প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতে চীনকে বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ঘোষণা দিয়েছে। চীনা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পলিসি মূলত দেশটির লজিস্টিক্যাল বাধা দূরীকরণ এবং তাদের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য ‘সবুজ শক্তি’ কে কেন্দ্র করে আবর্তিত। বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আমেরিকার কৌশল যেখানে বিশাল বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর নির্ভরশীল, সেখানে চীনের কৌশল হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজনীয় শক্তির ইনপুটগুলোতে পুনঃবিনিয়োগ করা। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই পদ্ধতিটি দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকার চেয়ে বেশি কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের ২০২৫ সালের ‘জাতীয় এআই পরিকল্পনা’ দেশটির অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং বিকাশকে ত্বরান্বিত করার জন্য একটি সমন্বিত ও দূরদর্শী কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে। এই পরিকল্পনার মূল ভিত্তি তিনটি প্রধান লক্ষ্য: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুযোগগুলো কাজে লাগানো, এর সুবিধাগুলো সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং মানুষদেরকে নিরাপদ রাখা। দেশটির সরকার ডিজিটাল এবং ভৌত অবকাঠামো, যেমন- উন্নত ডেটা সেন্টার এবং হাই-স্পিড কানেক্টিভিটিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি বিশ্বমানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার হাই-টেক পলিসির মূল লক্ষ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফলগুলো ব্যবসা-বাণিজ্য এর কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলোর প্রযুক্তি গ্রহণের গুরুত্বারোপ, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করা। এছাড়া, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সরকারি পরিষেবাগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করে সেবার মানোন্নয়ন এবং কার্যকারিতা বাড়ানোর বিষয়টিও এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত। তৃতীয়ত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নৈতিকতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ান সরকার একটি ‘এআই সেফটি ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা ও ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করবে এবং নীতিনির্ধারকদের পরামর্শ দেবে। এ ছাড়াও বিদ্যমান আইনি কাঠামোর আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ক্ষতি, যেমন- গোপনীয়তা লঙ্ঘন, অ্যালগরিদমিক বৈষম্য, ঝুঁকি বা অনলাইনে ক্ষতিসাধন মোকাবিলা করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখানে প্রতীয়মান যে, দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চর্চা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার ওপর অস্ট্রেলিয়ান সরকার জোর দিয়েছে।
বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং হাই-টেক পলিসির ভিত্তিগুলো নিয়ে পরিকল্পনা করছে এবং যা মূলত বেশ কয়টি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ বিষয়ে আমাদের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী গবেষক দল কাজ করে চলছে। প্রথমত, দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প ও রোডম্যাপ নির্ধারণ এর দিকে গুরুত্বারোপ করা হবে। দ্বিতীয়ত, হাই-টেক অবকাঠামো ও বিনিয়োগের ওপর জোর দিয়ে দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিশেষ করে মানবসম্পদ উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে। তারপরে, খাতভিত্তিক হাই-টেক এবং কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের জন্য সৌর শক্তি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন এবং সৌদি আরবের মতো অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিতকরণের মতো কাজ করা জরুরি। তারপর, নিরাপত্তা, নৈতিকতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে শক্তিশালী আইনি কাঠামো পলিসির অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সর্বোপরি বলা যেতে পারে যে, বাংলাদেশের হাই-টেক ও কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা পলিসি হওয়া উচিত, আমাদের বিশাল জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর উপর ভিত্তি করে। কারণ জনসম্পদই হলো বিএনপির প্রথম অগ্রাধিকার খাত। বিএনপি জনগোষ্ঠীর সহমত এবং মানুষের প্রকৃত প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে মানুষকে নিয়েই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজে যা যা প্রয়োজন তা নিয়েই সামনে আসে, যেটা অতীতে প্রমাণিত।
বিএনপি বাংলাদেশের একটি মধ্যপন্থি রাজনৈতিক দল, যারা কিনা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি এবং ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ নিয়ে অসাম্প্রদায়িক ইনফ্লুয়েন্স ছড়ানোর চেষ্টা করে না। যা হোক, ঊনবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে প্রযুক্তি মানুষের জীবনের এবং সমাজের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। মানব সভ্যতার ইতিহাসে হাই-টেক প্রযুক্তির ক্রমবিকাশ কেবল কল-কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থাই নয়, বরং আমাদের সমাজ ও জীবনযাত্রার মানকেও আমূল বদলে দিয়েছে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে বাষ্পীয় ইঞ্জিনের আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে ‘ইন্ডাস্ট্রি ১.০’ কৃষিভিত্তিক সমাজকে যান্ত্রিক শিল্পভিত্তিক সমাজে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে এই পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল। আর আজ প্রযুক্তির এই যাত্রাপথ এখন ‘ইন্ডাস্ট্রি ৫.০’-এর দিকে ধাবিত হচ্ছে, যেখানে কেবল যান্ত্রিক দক্ষতা নয়, বরং রোবট ও হাই-টেক প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের সৃজনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধের মেলবন্ধন ঘটানো হচ্ছে। এই ধারাবাহিক প্রযুক্তিগত বিপ্লবের ফলশ্রুতিতেই আমরা আজকের এই আধুনিক, আন্তঃসংযুক্ত এবং টেকসই সমাজব্যবস্থায় উন্নত জীবনযাপনের কথা প্রত্যাশায় নিয়ে আসছি।
বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষের কল্যাণে হাই-টেক এবং কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করে চলছে। এই হাই-টেকনির্ভর কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি জ্ঞানভিত্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ ব্যবস্থায় উত্তরণ ঘটাতে সক্ষম হবে। যেমন বলা যেতে পারে যে, তরুণ সমাজ যখন হাই-টেক এবং কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফেক নিউজ শনাক্তকরণ এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিখবে, তখন তা দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।
বিএনপির এই উপরের রূপরেখা অনুযায়ী, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার সৃজনশীল ও ইতিবাচক প্রয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে এবং বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি আধুনিক, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামোসমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। তাই আগামী নির্বাচনে উপযুক্ত জনসমর্থনের মাধ্যমে বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই কর্মপ্রণালিগুলো সম্পন্ন করতে চায়। দেশের মানুষ এবং আপামর জনসাধারণের সমর্থন যদি বিএনপির পক্ষে থাকে, তাহলেই কেবল এই প্রত্যাশা যথাযথভাবে পূরণ করা সম্ভব। যা জাতির জন্য বয়ে আনতে পারে একটি অত্যন্ত কল্যাণকর, সার্বজনীন, দীর্ঘমেয়াদি টেকসই এবং উন্নত জীবনব্যবস্থাসম্পন্ন দেশ, যেখানে আমাদের সন্তানরা থাকবে নিরাপদ এবং একটি ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পৃথিবীতে। আসুন আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করি এই লক্ষ্য অর্জনে। ধন্যবাদ সবাইকে।
লেখক : প্রফেসর অফ বিজনেস এনালিটিক্স এন্ড অ্যাপ্লাইড এআই, নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া
কেকে/ আরআই