আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার আমেনা প্লাজার তৃতীয় তলায় অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমাদের বহু নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় এসে আবারও পুরোনো কৌশল ও অনৈতিক প্রথার আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জনগণের ভোটের ওপর আস্থা না রেখে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর নির্ভর করার চেষ্টা স্পষ্ট।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সারাদেশের মতো বাঞ্ছারামপুরেও নির্বাচনি অনিয়মের নানা আলামত দৃশ্যমান। অনুপস্থিত ভোটারের নামে ভোট প্রদান, আঙুলের কালি মুছে পুনরায় ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি, একই ব্যক্তিকে একাধিকবার ভোট দিতে সহায়তা এবং পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা চলছে।”
গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতা বলেন, “ভোট ব্যবস্থা বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা বারবার আহ্বান জানিয়েছি সব রাজনৈতিক দলকে জনগণের রায়ের ওপর আস্থা রাখতে হবে। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যেকোনো অপচেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে।”
তিনি আরও বলেন, “গত দুই দিন ধরে পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। কয়েকজন জামায়াত নেতা ও প্রার্থী প্রকাশ্যে কেন্দ্রে কেন্দ্রে বাঁশের লাঠি নিয়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এটি ভোটারদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টির শামিল। নির্বাচন আচরণবিধির এটি সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জোনায়েদ সাকি।
তিনি জানান, প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের তালিকা পর্যালোচনা করে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
কয়েকজন কর্মকর্তার সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি তাদের নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আবার বিতর্কিতভাবে কিছু প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে, অভিযোগ করেন তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, “প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও পেশাদার আচরণ করতে হবে। কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক ভূমিকা দেশের জনগণ মেনে নেবে না।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক ভিপি একে এম মুসা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ম. ম. ইলিয়াস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম সাজ্জাদ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালে মুসা, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ আকাশ, সাবেক আহ্বায়ক ভিপি মুজিবসহ প্রেসক্লাব বাঞ্ছারামপুরের সাংবাদিকবৃন্দ।
কেকে/এলএ