মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৬ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
সরকারের ঘনিষ্ঠ হতে মরিয়া চীন-ভারত
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ফের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটেছে বাংলাদেশ। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় চীন ও ভারতও নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রত্যয় প্রকাশ করেছে। এই দুই দেশ বাংলাদেশের বৃহৎ প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। পাশাপাশি দুই দেশ নানা ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বীও। বাংলাদেশেও এই দুই দেশ নিজেদের প্রভাব বাড়াতে মরিয়া। ভারত চায় বাংলাদেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি ও আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে তার প্রভাব বজায় রাখতে, চীনেরও লক্ষ্য তা-ই। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক দ্বন্দ্বও বিদ্যমান। তাই দেশ দুটি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে চেষ্টা চালাচ্ছে।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বড় কোনো রাজনৈতিক টানপোড়েন না থাকলেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে চীনের প্রভাব সীমিত করতে চায়। এ বিষয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূত প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেছেন।

অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। দুই দেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বিশেষ করে ভারতীয় দিক থেকে বাংলাদেশ বিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত থাকে, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে তিক্ততা চরমে পৌঁছায়। ইতিহাসে এরকম বৈরী সম্পর্ক আগে দেখা যায়নি।

নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে। দেশটি নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে চাইছে। সরকারের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হচ্ছে।

গত জানুয়ারিতে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় উপস্থিত ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। যা সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল। পরে বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হলে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

গতকাল রোববার ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, “বৈঠকটি মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ ও প্রাথমিক মতবিনিময় হলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “ইতিবাচক ও ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গিতে জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতা জোরদার করতে চায় নয়াদিল্লি।”

প্রণয় ভার্মা আরও বলেন, “নির্বাচনের পরপরই ১৩ ফেব্রুয়ারি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠান এবং একই দিনে তাদের মধ্যে টেলিফোনে কথোপকথন হয়।”

এছাড়া ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার শপথ নেওয়ার সময় ভারতের লোকসভার স্পিকার ঢাকা সফর করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর একটি চিঠি হস্তান্তর করেন।

প্রণয় ভার্মা বলেন, “এসব উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগে বাংলাদেশ-ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে বহুমাত্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।”

এদিকে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় চীন।

গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, “চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে স্থাপিত হয়েছিল এবং পরে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে আরও উন্নয়ন হয়। তাই আমরা এখন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার জন্য উন্মুখ।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীন বাংলাদেশের পাশে আছে। আমি চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও ভালো হবে বলে নিশ্চিত।”

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  সরকার   চীন   ভারত  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close