মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
নির্যাতন, নির্বাসনের পর রাষ্ট্র ক্ষমতায় তারেক রহমান
রাকিবুল ইসলাম
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

ইতিহাসের রাস্তাটা কখনোই মসৃণ বা একরৈখিক হয় না। এর পরতে পরতে মিশে থাকে ভাঙাগড়া কখনো গভীর অমানিশা, আবার কখনো রক্তভেজা পথ মাড়িয়ে আসা নতুন প্রভাত। নাটকীয় এই পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়েই লেখা হয় সময়ের আসল গল্প। বাংলাদেশের রাজনীতির গত কয়েক দশকে যে মানুষটি সবচেয়ে বেশি ঝড়-ঝাপটার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এবং সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে যিনি বিস্ময়করভাবে ফিরে এসেছেন, তার নাম তারেক রহমান। 

গ্রিক পুরাণে ‘ফিনিক্স’ পাখির কথা বলা হয়েছে, যে পাখি নিজের ভস্ম থেকে পুনরায় জীবন লাভ করে। পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার পরও যে আবার ডানা মেলে আকাশে ওড়ে। তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন যেন সেই ফিনিক্স পাখিরই মূর্ত প্রতীক। ২০০৭ সালের ১/১১-এর বিপর্যয়, রিমান্ডের অমানবিক নির্যাতন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন ও এক রাজসিক প্রত্যাবর্তন এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, মাটি থেকে নেতাকে বিচ্ছিন্ন করা যায়, শরীরকে ক্ষতবিক্ষত করা যায়, কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে তাকে মুছে ফেলা যায় না।

১৯৬৭ সালের ২০ নভেম্বর। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে তারেক রহমানের জন্ম। পিতা জিয়াউর রহমান তখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অফিসার, আর মা বেগম খালেদা জিয়া এক সাধারণ গৃহবধূ। তারেক রহমানের শৈশব কেটেছে এক উত্তাল সময়ে। তখনো তিনি বোঝেননি রাজনীতি কী, কিন্তু দেখেছেন বাবার ব্যস্ততা, দেখেছেন মায়ের উৎকণ্ঠা।

১৯৭১ সাল। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলো। শিশু তারেক মায়ের সঙ্গে ঘরবন্দি হলেন। শুনেছেন স্বাধীনতার ঘোষণা দেখেছেন যুদ্ধের ভয়াবহতা। কিন্তু তার জীবনের সত্যিকারের আকাশ ভেঙে পড়ে ১৯৮১ সালের ৩০ মে। তখন তিনি কিশোর। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক বর্বরোচিত সামরিক অভ্যুত্থানে নির্মমভাবে নিহত হন তার পিতা, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

সেই দিনটি ছিল তারেক রহমানের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া দিন। বাবার কফিনের দৃশ্য, মায়ের পাথরের মতো মুখ, আর লাখো মানুষের কান্না সব মিলিয়ে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। পিতার রক্তাক্ত মরদেহ দেখার সুযোগ হয়তো তার হয়নি, কিন্তু সেই মৃত্যু তার কিশোর মনে যে গভীর ক্ষত ও শূন্যতা তৈরি করেছিল, তা-ই হয়ত তাকে ভবিষ্যতে ইস্পাতকঠিন হতে শিখিয়েছিল। তিনি বুঝেছিলেন, রাজনীতি কোনো ফুলের বিছানা নয়; এখানে পদে পদে মৃত্যু আর বিশ্বাসঘাতকতা ওত পেতে থাকে।

পিতা মারা যাওয়ার পর তিনি দেখেছেন ক্ষমতার পালাবদল। দেখেছেন কীভাবে তার মা, একজন লাজুক গৃহবধূ থেকে ধীরে ধীরে ‘আপসহীন নেত্রী’ হয়ে উঠছেন। মা যখন রাস্তায় নামলেন স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে, কিশোর তারেক তখনো রাজনীতির মঞ্চে আসেননি। তিনি ছিলেন মায়ের ছায়া। তিনি তখন নিজের পড়াশোনা সামলাচ্ছেন আর মানসিকভাবে মাকে শক্তি জোগাচ্ছেন। তিনি দেখেছিলেন, বাবার সহকর্মীরা অনেকেই তাদের ছেড়ে চলে গেছে, আবার অনেকে জীবন বাজি রেখে মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দোলাচল তিনি শিখেছেন কৈশোরেই।

আশির দশক ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির এক অগ্নিগর্ভ। রাজপথে তখন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে। অনেকেই ভেবেছিলেন, জিয়াউর রহমানের ছেলে হিসেবে তিনি হয়ত সরাসরি দলের বড় কোনো পদ দখল করে বসবেন। কিন্তু তারেক রহমান ছিলেন ভিন্ন ধাচের মানুষ। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া নেতৃত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয় না। শিকড় শক্ত করতে হলে মাটিতে নামতে হবে।

১৯৮৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তোলা, স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় এবং আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন। এরশাদ সরকারের পতনের পেছনে যে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম চলেছিল, তাতে তিনি অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের একজন ছিলেন।

১৯৯১ সালের নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাইলফলক। দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের পর গণতন্ত্রের মুক্তি। এই নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পেছনে তার মা বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন ইমেজের পাশাপাশি তারুণ্যের যে শক্তি কাজ করেছিল, তারেক রহমান ছিলেন তার নেপথ্য কারিগর। তিনি তখনো মঞ্চের আলোয় আসেননি। তিনি কাজ করেছেন ব্যাকস্টেজে। তিনি তরুণদের সংগঠিত করেছেন, নির্বাচনি কৌশল সাজিয়েছেন এবং দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ ঘটিয়েছেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি যখন সরকার গঠন করল, তারেক রহমান তখনো ক্ষমতার বাইরে থেকে দলকে সুসংগঠিত করার কাজে মনোনিবেশ করলেন।

১৯৯০-এর দশকের শুরুতে তিনি বগুড়া অঞ্চলে দলীয় সংগঠনকে গণতান্ত্রিক কাঠামোয় শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেন। বগুড়া জেলা ইউনিটে তিনি একটি সম্মেলনের আয়োজন করেন, যেখানে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়- যা দলীয় কাঠামোয় অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া জোরদারে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে অন্যান্য জেলা ইউনিটকেও একই পদ্ধতিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে উৎসাহিত করা হয়।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত, বর্ণাঢ্য এবং একইসঙ্গে সমালোচিত অধ্যায়টির সূচনা হয় ২০০১ সালে। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে। এই বিজয়ের পেছনে তারেক রহমানের নির্বাচনি কৌশল ছিল অনবদ্য। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, কেবল আবেগের ওপর ভর করে রাজনীতি চলে না; প্রয়োজন ডেটা, গবেষণা এবং তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের সরাসরি যোগাযোগ।

দলীয় প্রধানের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তিনি মন্ত্রিত্ব বা সংসদ সদস্যপদ গ্রহণ না করে সংগঠন শক্তিশালী করার কাজেই মনোযোগ দেন এমনটি তার সমর্থকদের বক্তব্যে উঠে আসে। সংগঠন পরিচালনায় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০২ সালে দলের স্থায়ী কমিটি তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করে।

এটি ছিল তার সরাসরি দলীয় নেতৃত্বে আসার প্রথম বড় পদক্ষেপ। তিনি গতানুগতিক ‘ড্রয়িং রুম পলিটিক্স’-এর ধারা ভেঙে রাজনীতির মাঠকে বেছে নেন। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া- দেশের প্রতিটি প্রান্তে তিনি ছুটে গেছেন। মাইলের পর মাইল পথ চলেছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মীদের নাম ধরে ডাকার মতো বিরল স্মৃতিশক্তি এবং সংযোগ তাকে দলের কর্মীদের কাছে অকল্পনীয় জনপ্রিয় করে তোলে। তিনি চেয়েছিলেন দলের ভেতরে গণতন্ত্র চর্চা হোক, কর্মীরাই তাদের নেতা নির্বাচন করুক।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেমে আসে এক কালো অধ্যায়। মঈন ইউ আহমেদ ও ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা দখল করে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’। অর্থাৎ, রাজনীতি থেকে দুই নেত্রী- শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া। কিন্তু এই ফর্মুলার পথে তাদের সবচেয়ে বড় বাধা এবং ভয়ের কারণ মনে করা হতো তারেক রহমানকে।

৭ মার্চ ২০০৭। গভীর রাতে যৌথ বাহিনী তারেক রহমানকে গ্রেফতার করে। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় অজ্ঞাত স্থানে। এরপর শুরু হয় রিমান্ডের নামে এক ভয়াবহ ও পৈশাচিক অধ্যায়, যা সভ্য সমাজের কল্পনাকেও হার মানায়। তাকে কেবল জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি; তার ওপর চালানো হয়েছিল মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন। দিনের পর দিন চালানো হয়েছে অসহনীয় নির্যাতন। নির্যাতনকারীদের উদ্দেশ্য ছিল কেবল স্বীকারোক্তি আদায় নয়, বরং তাকে শারীরিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া। তারা চেয়েছিল তারেক রহমানের মেরুদণ্ড এমনভাবে ভেঙে দিতে, যাতে তিনি আর কোনোদিন সোজা হয়ে দাঁড়াতে না পারেন, আর কোনোদিন রাজনীতিতে ফিরতে না পারেন।

একই সময়ে তার বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়। রাষ্ট্রযন্ত্র, মিডিয়া এবং বিচার বিভাগ সবকিছু ব্যবহার করা হয় তাকে একজন ‘খলনায়ক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। মা বেগম খালেদা জিয়াকেও গ্রেফতার করা হয়। ১৮ মাস কারাবাসের পর, ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামিনে মুক্তি পান। ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০৮- বিশেষ কারাগার থেকে বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পুত্র তারেককে দেখতে যান হাসপাতালে। সেদিন রাতেই তারেক রহমান উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

যুদ্ধ ছিল নিজের শরীরের সঙ্গে। ব্যথার সঙ্গে তার নিত্য বসবাস শুরু হয়। কিন্তু শারীরিক যন্ত্রণার চেয়েও বড় ছিল মানসিক যন্ত্রণা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বিরোধী দলের ওপর যে দমন-পীড়ন শুরু করে, তা ছিল নজিরবিহীন।

তারেক রহমান যখন দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে। অনেকে ভেবেছিলেন, লন্ডনের আয়েশি জীবনে তিনি রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাবেন। কিন্তু তিনি প্রমাণ করলেন, আধুনিক যুগে নেতা হতে হলে দেশেই থাকতে হবে এমন কোনো কথা নেই; প্রয়োজন শুধু সংযোগ, মেধা আর দেশপ্রেম। তিনি লন্ডনকে তার রাজনৈতিক সদর দপ্তরে রূপান্তর করলেন।

তিনি নিজেকে নতুন করে গড়ে তুললেন। একজন ‘তাত্ত্বিক নেতা’ হিসেবে তিনি পড়াশোনা শুরু করলেন। পশ্চিমা গণতন্ত্র, রাষ্ট্রকাঠামো, পররাষ্ট্রনীতি এবং উন্নয়নের মডেলগুলো নিয়ে তিনি গভীর গবেষণা করলেন। স্কাইপ, জুম, হোয়াটসঅ্যাপ প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি দলের তৃণমূলের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ স্থাপন করলেন। যখন দেশে বিএনপির সমাবেশ করা নিষিদ্ধ ছিল, তখন তারেক রহমানের ভিডিও বার্তা কর্মীদের উজ্জীবিত করত।

তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, কেবল হরতাল-অবরোধ বা জ্বালাও-পোড়াও দিয়ে একবিংশ শতাব্দীর রাজনীতি করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে লবিং শুরু করলেন। শাসকদল তাকে ‘ফেরারি আসামি’ বলে যত ব্যঙ্গ করেছে, ‘পলাতক’ বলে যত উপহাস করেছে, তিনি ততই দলের কর্মীদের কাছে অপরিহার্য হয়ে উঠেছেন। তিনি হয়ে উঠলেন বিএনপির ঐক্যের প্রতীক।

রাজনীতির কঠিন বাস্তবতা অনেক সময় মানুষের একেবারে ব্যক্তিগত মুহূর্তকেও নির্মমভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। তারেক রহমানের জীবনে তার ছোট ভাইয়ের মৃত্যু ছিল তেমনই এক ক্ষত- যা শুধু পারিবারিক শোক নয়, প্রবাস ও রাজনীতির নির্মম দূরত্বের প্রতীক হয়ে আছে।

২৪ জানুয়ারি ২০১৫। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে হৃদ্ররোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আরাফাত রহমান কোকো। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। বনানী কবরস্থানে দাফনের সময় হাজারো মানুষ উপস্থিত থাকলেও অনুপস্থিত ছিলেন বড় ভাই তারেক রহমান- যিনি তখন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন।

ভাইয়ের মৃত্যু মানুষের জীবনে এমন এক মুহূর্ত, যখন সব দূরত্ব ভেঙে যাওয়ার কথা। কিন্তু তারেক রহমানের ক্ষেত্রে সেই স্বাভাবিক মানবিক প্রত্যাবর্তন ঘটেনি। চলমান মামলা, সাজা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা তাকে দেশে ফেরার পথ থেকে বিরত রাখে। শেষবারের মতো ভাইয়ের মুখ দেখা, কাঁধে লাশের খাটিয়া তোলা কিংবা কবরে মাটি দেওয়ার মতো চিরচেনা সামাজিক-ধর্মীয় আচার থেকেও তিনি বঞ্চিত হন।

এ দৃশ্য ছিল গভীরভাবে প্রতীকী- একটি পরিবার শোকে নিমজ্জিত, কিন্তু রাষ্ট্র ও রাজনীতির জটিলতা সেই শোককে সম্পূর্ণ হতে দেয়নি। দূরদেশে বসে তিনি শোকবার্তা দেন, দোয়া চান, স্মৃতিচারণ করেন- কিন্তু শোকের যে নীরব আলিঙ্গন, তা তার নাগালের বাইরে রয়ে যায়।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখেছেন; সমর্থকরা দেখেছেন এক নির্মম বাস্তবতা হিসেবে। তবে যে দিকটি অনস্বীকার্য, তা হলো- এই মৃত্যু তারেক রহমানের ব্যক্তিজীবনে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করে। প্রবাস জীবনের দীর্ঘ অধ্যায়ে এটি ছিল সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি।

ভাইয়ের কবরের সামনে দাঁড়াতে না পারার যন্ত্রণা কেবল একজন রাজনীতিকের নয়; এটি এক ভাইয়ের অপূর্ণ বিদায়ের গল্প। রাজনীতি কখনো কখনো মানুষকে ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়, আবার কখনো তাকে নিজের ঘরের দোরগোড়ায় ফিরতেও বাধা দেয়। আর সেই বাধার ভেতরেই জমা থাকে না বলা কান্না, অদেখা অশ্রু, আর অসমাপ্ত বিদায়ের।

২০১৮ খালেদা জিয়া জেলে বন্দি থাকাকালীন দেশের রাজনীতি এক চরম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যখন দমনচক্র এবং বাধাবিপত্তিতে পূর্ণ, তখন দলের নেতৃত্বের ভার বিদেশে থেকে কার্যকরভাবে গ্রহণ করেন তারেক রহমান। নির্বাসিত অবস্থাতেও তিনি দলের সাংগঠনিক কাঠামো, নির্বাচনি কৌশল এবং নেতাকর্মীর মনোবল সংরক্ষণে এক অনন্য ভূমিকা পালন করেন।

তারেক রহমান নিয়মিতভাবে ভার্চুয়াল যোগাযোগ, ব্যক্তিগত প্রতিনিধি ও দলীয় মাধ্যমে বিএনপির সিদ্ধান্ত, নীতি এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি সংহত রাখতেন। তিনি বিদেশ থেকে দলের সব স্তরের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে স্থিতিশীল সংযোগ বজায় রাখেন এবং জেলবন্দি নেত্রীর নির্দেশনা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরামর্শগুলো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করান। এই সময়ে দলের স্থানীয় ও জাতীয় কার্যক্রমের সমন্বয়, নির্বাচনি প্রস্তুতি, গণসংযোগ এবং আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ- সবই তার নেতৃত্বে সম্পন্ন হয়।

জেল জীবনের কঠিনতা এবং রাজনৈতিক শিকল বাংলাদেশে দলের স্থিতিশীলতা হুমকির মধ্যে ফেলেছিল। কিন্তু তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থান দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, কর্মীপ্রেরণা এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি শক্ত রাখে। তিনি দলকে একটি সুসংহত ও সক্রিয় কাঠামো হিসেবে পরিচালনা করেন, যাতে দেশ-বিদেশে দলের অবস্থান দৃঢ় থাকে এবং নেতা তথা দলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক শূন্যতা বা দুর্বলতা না পড়ে।

এই পরিস্থিতিতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত বন্দিত্বের যন্ত্রণা যেমন দলকে দুর্বল করতে পারেনি, তেমনি তারেক রহমানের দূরবর্তী নেতৃত্ব দলকে পরিচালনা, একতাবদ্ধকরণ এবং রাজনৈতিক প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

২০২৪-এর জুলাই মাসে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন। শুরুতে এটি ছিল একটি অরাজনৈতিক দাবি। কিন্তু সরকারের দমন-পীড়ন, গুলিবর্ষণ এবং ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে এটি দ্রুত সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে রূপ নেয়। এই সময়ে তারেক রহমান ছিলেন অত্যন্ত কৌশলী। তিনি জানতেন, বিএনপির ব্যানার সামনে এলে সরকার একে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে চালিয়ে দেবে। তাই তিনি নির্দেশ দেন দলীয় পরিচয় গোপন রেখে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে থাকার। তিনি ছাত্রনেতাদের সঙ্গে নেপথ্যে যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং আন্তর্জাতিক মহলে সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরেন। তার এই কৌশল সফল হয়। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার উত্তাল জোয়ারে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে। ততকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালান।

সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়। দেশের বিধ্বস্ত অর্থনীতি, ভঙ্গুর বিচার ব্যবস্থা এবং প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে সময় লাগে। একইসঙ্গে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সকল মামলা আইনি প্রক্রিয়ায় প্রত্যাহার হতে থাকে। অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত হয়।

২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর। শীতের সেই সকালে ঢাকার আকাশ ছিল কুয়াশচ্ছন্ন, কিন্তু মানুষের মনে ছিল বসন্তের উচ্ছ্বাস। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে যখন এমিরেটসের ফ্লাইটটি অবতরণ করল, তখন রানওয়ের বাইরে কেবল জনসমুদ্র। ১৭ বছর আগে যে নেতা হুইলচেয়ারে করে, ভেঙে পড়া শরীর নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন, আজ তিনি ফিরলেন বীরের।

বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট রাস্তা হয়ে পূর্বাচল পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য। রাস্তার দুপাশে লক্ষ মানুষের স্লোগানে প্রকম্পিত পুরো ঢাকা। কারও হাতে ধানের শীষ, কারও হাতে জাতীয় পতাকা কারও হাতে দলীয় পতাকা। পূর্বাচল ৩০০ ফিটের   আয়োজন করা হয়েছিল এক বিশাল গণসংবর্ধনা। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান যখন হাত নাড়লেন, তখন লাখো জনতার গর্জনে মনে হলো ইতিহাস কথা বলছে। তিনি তার বক্তৃতায় কোনো প্রতিহিংসার কথা বলেননি বিশৃঙ্খলা পরিহার করে দেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানালেন তিনি।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের আনন্দ, সেই উৎসবের আমেজ স্থায়ী হলো মাত্র কয়েক ঘণ্টা। বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনা স্থল হয়ে তিনি সরাসরি ছুটে যান রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানে হাসপাতালের শ্বেতশুভ্র বিছানায়, সিসিইউ-তে (ঈঈট) জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছিলেন তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা ও হৃদরোগে ভুগছিলেন তিনি। হাসপাতালের সেই কেবিনে মা ও ছেলের সাক্ষাতের দৃশ্য ছিল হৃদয়বিদারক। চিকিৎসকরা জানালেন, মা হয়ত ছেলের ফেরার অপেক্ষাতেই এত দিন প্রাণবায়ু ধরে রেখেছিলেন।

২৫ ডিসেম্বর ছেলে ফিরলেন, আর ৩০ ডিসেম্বর ভোররাতে এভারকেয়ার হাসপাতালেই বেগম খালেদা জিয়া পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেন। তারেক রহমান দেশে ফেরার মাত্র ৫ দিনের মধ্যে হারালেন তার জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থলকে। ‘ফিরোজা’ বাসভবনের সেই পরিচিত আঙিনায় নয়, হাসপাতালের চার দেওয়ালে শেষ হলো আপসহীন নেত্রীর জীবনাবসান।
সারা দেশে নেমে এলো শোকের ছায়া। হাসপাতালের সামনে হাজার হাজার নেতাকর্মীর কান্না। কিন্তু এই শোক তারেক রহমানকে ভেঙে দেয়নি, বরং তাকে আরও ইস্পাতকঠিন করল। মায়ের মৃত্যুর পর ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে খুব বেশি সময় শোক পালনের সুযোগ পেলেন না তিনি। সামনে জাতীয় নির্বাচন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে শুরু করেন নির্বাচনি প্রচারণা।

জানুয়ারি মাসজুড়ে তারেক রহমান এক ঝটিকা সফরে সারা দেশে ছুটে বেড়ান। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত নিরলস, ক্লান্তিহীন ও বাধাহীনভাবে তিনি সকাল থেকে গভীর রাত, কখনো ভোর পর্যন্ত জনসংযোগ ও জনসভায় অংশ নেন। প্রতিটি সমাবেশই জনসমুদ্রে রূপ নেয়; বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় তার উপস্থিতি ঘিরে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যায়। তার গাড়িবহর যে সড়কপথ অতিক্রম করেছে, সেসব স্থানে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি চোখে পড়েছে; অনেক জায়গায় তা জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে।

এই সফরের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে একটি স্মার্ট, জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। বক্তব্যে তিনি প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবাপ্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা এসব বিষয় ধারাবাহিকভাবে আলোচনায় আসে। বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় দুটি প্রস্তাব ফ্যামেলি কার্ড ও কৃষি কার্ড।

এই সফরে আবেগের চেয়ে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা ও কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রশাসনিক জবাবদিহি, ডিজিটাল ডাটাবেইস ব্যবস্থাপনা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

সব মিলিয়ে জানুয়ারিজুড়ে এই ঝটিকা সফর ছিল সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন ও নীতিগত দিকনির্দেশনার সমন্বিত প্রয়াস।
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শীতের আমেজ তখনো কাটেনি। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে মানুষের দীর্ঘ সারি। বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। গত দুই দশকে যারা ভোট দিতে পারেনি, তারা এই দিনটিকে বেছে নিয়েছিল নিজেদের মত প্রকাশের দিন হিসেবে। কোনো সহিংসতা ছাড়াই, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলো।

সন্ধ্যার পর থেকে ফলাফল আসতে শুরু করে। রাত যত গভীর হয়, বিজয়ের পাল্লা তত ভারী হতে থাকল। তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে এবং ঢাকা-১৭ আসনে বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুটি আসনের সাংসদ নির্বাচিত হয়। কেবল তারেক রহমান নন,তার দল বিএনপি এবং সমমনা জোট ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে জানিয়ে দিল, তারা পরিবর্তন চায়, তারা তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন দিনের সূচনা চায়।

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বসন্তের আলো ঝলমলে সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথগ্রহণ করেন। তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ শেষে সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় তারেক রহমান সর্বসম্মতিক্রমে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়। একইদিন বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তাকে প্রধানমন্ত্রীর শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আজ দেশবাসীর প্রত্যাশা আকাশচুম্বী, আর আমার নিজের প্রত্যাশাও তার ব্যতিক্রম নয়। দীর্ঘ সংগ্রামের পথ বেয়ে উঠে আসা এই নেতার কাছে আমি চাই- মত প্রকাশের এমন এক অবাধ স্বাধীনতা, যেখানে সাংবাদিক, শিক্ষার্থী বা সাধারণ নাগরিক কেউ সত্য বলতে কুণ্ঠাবোধ করবে না। ভয়ের সংস্কৃতিকে উপড়ে ফেলে তিনি গড়ে তুলবেন এক নির্ভীক সমাজ, যেখানে ভিন্নমত হবে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, কোনো অপরাধ নয়।

আমার প্রত্যাশা, রাষ্ট্রীয় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি অনিয়ম ও স্বার্থান্বেষী মহলের শিকড় উপড়ে ফেলবেন। সরকারি দফতর থেকে শুরু করে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়- সর্বত্র প্রতিষ্ঠিত হবে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা। দুর্নীতি যেন অতীতের দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকে, আর সততা হয় নতুন দিনের চালিকাশক্তি। জনগণ যেন তার প্রতিটি পদক্ষেপে দেখতে পায় কথার সঙ্গে কাজের মিল।

আমি চাই, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের লড়াইকে তিনি সহজ করবেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করে তিনি ফিরিয়ে আনবেন অর্থনৈতিক স্বস্তি। একইসঙ্গে, তারুণ্যের যে শক্তি তাকে ক্ষমতায় এনেছে, সেই শক্তিকে কাজে লাগাতে তিনি নিশ্চিত করবেন মেধার সঠিক মূল্যায়ন ও ব্যাপক কর্মসংস্থান। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ হয়ে উঠুক নতুন উদ্যোক্তা ও দক্ষ জনশক্তির এক অফুরন্ত ভাণ্ডার।

আমি চাই, তার শাসনামলে কোনো নারী বা শিশুকে যেন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে না হয়। পথে-ঘাটে, কর্মক্ষেত্রে বা শিক্ষাঙ্গনে নারীরা চলাফেরা করবেন মাথা উঁচু করে, নির্ভয়ে। আইনের শাসনের পাশাপাশি তিনি জাগ্রত করবেন সামাজিক মূল্যবোধ, যা একটি সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয়।

সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে থাকবেন পর্বতের মতো অটল ও আপসহীন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কোনো শক্তির সঙ্গে তিনি আপস করবেন না, বরং শহীদ জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী আদর্শকে ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি তিনি শুধু একজন সরকারপ্রধান হবেন না, বরং হয়ে উঠবেন ইতিহাসের এক নতুন নির্মাতা। তার হাত ধরেই রচিত হবে সেই বাংলাদেশের সোনালী অধ্যায়, যেখানে গণতন্ত্রের ভিত্তি হবে সুদৃঢ়, সমাজে বইবে ন্যায়বিচারের সুবাতাস।

লেখক : লেখক ও গবেষক



আরও সংবাদ   বিষয়:  নির্যাতন   নির্বাসন    রাষ্ট্র ক্ষমতা    তারেক রহমান  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close