সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ      ঢাবিতে ভর্তি আবেদন ১১ নভেম্বর থেকে, পরীক্ষা শুরু ৫ ডিসেম্বর      সব বেসরকারি দাখিল-আলিম মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি বাতিল      ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭০ টাকা      ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু      দুবাইয়ের জেল থেকে মুক্তি পেলেন বেনজীর      ঢাকার চারপাশের নৌ-পথ সচলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      
ফিচার
ফরিদপুরে প্রকৃতিতে ফুটে উঠেছে ভাটি ফুল
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ২:১৩ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

শীতের শেষে ও বসন্তের শুরুতে গ্রামীণ বাংলার আনাচে-কানাচে বা সড়কের পাশে অযত্নে শোভা ছড়াচ্ছে ফুটে থাকা ভাটি ফুল। স্থানভেদে এটির নাম ভাটি ফুল, ভাটফুল, ঘেটু ফুল, ভাত ফুল, ঘণ্টাকর্ণ থাকলেও ফরিদপুর অঞ্চলে ‘ভাটিফুল’ নামেই পরিচিত। 

উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, ভাট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Clerodendrun in Fortunatun এবং এটি Lamiaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি সপুষ্পক ঝোপ জাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণত গাছটি তিন থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। এর কাণ্ড সবুজাভ ও শক্ত প্রকৃতির। পাতা বড় ডিম্বাকার এবং কিছুটা রুক্ষ। পাতায় এক প্রকার তীব্র গন্ধ রয়েছে। ভাট গাছের ফুল সাদা ও হালকা গোলাপি আভাযুক্ত এবং গুচ্ছাকারে ফোটে। ফুলের মাঝখানে লম্বা পুংকেশর বেরিয়ে থাকে যা দেখতে খুব আকর্ষণীয়। ভাটফল প্রথমে সবুজ এবং পাকার পর নীলচে কালো রং ধারণ করে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বসন্তের আগমনে পলাশ-শিমুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এ ফুল ফোঁটে। এ ফুল ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে ফুটতে দেখা যায়। বিশেষ করে পরিত্যক্ত মাঠ, বন, রাস্তা কিংবা জলাশয়ের পাশে ভাঁট ফুলের ঝোঁপ চোখে পড়ে। ভাঁট গাছের প্রধান কান্ড সোজাভাবে দন্ডায়মান। সাধারণত ২ থেকে ৪ মিটার লম্বা হয় এ ফুলের গাছ।এ গাছের পাতা দেখতে কিছুটা পানপাতার আকৃতির ও খসখসে। ডালের শীর্ষে পুষ্পদন্ডে ফুল ফোঁটে। পাপড়ির রং সাদা এবং এতে বেগুনি রঙের মিশ্রণ আছে। বসন্ত থেকে গ্রীষ্ম অবধি ফুল ফোঁটে। এ ফুলের রয়েছে মিষ্টি সৌরভ। রাতে বেশ সুঘ্রাণ ছড়ায় এ ফুল। ফুল ফোঁটার পর মৌমাছিরা ভাঁট ফুলের মধু সংগ্রহ করে।
  
ফরিদপুরসহ দেশের সর্বত্রই ভাটিফুলের কম বেশি দেখা মেলে। অযত্নে অবহেলায় ফুটে থাকা ভাঁটি যেন বিশাল ফুলের তোড়া। চৈত্রের প্রথম থেকেই দেখা মিলছে এই ভাঁটি ফুলের। এটাকে অনেকে বন জুঁই বা ঘেটু ফুল নামেও চেনে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, বর্তমান সময়ে ভাঁটি আগের তুলনায় কম দেখা যাচ্ছে।

প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশও পড়েছিলেন ভাঁটি ফুলের প্রেমে। তাইতো কবি তার ‘বাংলার মুখ’কবিতায় লিখেছেন, ‘ছিন্ন খঞ্জনার মতো যখন সে নেচেছিল ইন্দ্রের সভায়/ বাংলার নদী মাঠ ভাঁট ফুল ঘুঙুরের মতো তার কেঁদেছিল পায়।’

ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্র বর্ত্তী বলেন, ‘ভাটি ফুল সৌন্দর্যপ্রিয় মানুষের মনের খোরাক জোগায়। রাস্তার পাশে, পরিত্যক্ত জমিতে অনাদর অবহেলায় বেড়ে ওঠা ভাট গাছের ফুল বসন্তে প্রাকৃতিক সৈন্দর্যে যোগ করে বাড়তি মাত্র। পথচারীরা উপভোগ করেন আবহমান বাংলার আদি বুনো ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য।’

অর্ক চক্রবর্ত্তী নামে এক স্কুল ছাত্র বলেন, ‘ফাল্গুন মাস এলেই প্রকৃতিতে ফোটে ভাটি ফুল । এতে পরিবেশে নতুন এক মাত্রা যোগ হয়।বসন্তের আগমনে পলাশ-শিমুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই ফুল ফোঁটে। এই ফুল ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে দেখা যায়। বিশেষ করে রাস্তার দুপাশ, পরিত্যক্ত মাঠ, বন কিংবা জলাশয়ের পাশে।’

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

ফিচার- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close