একসময় কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গ্রামগঞ্জের রাস্তার ধারে, খাল-বিলের পাড়ে কিংবা বাড়ির আঙিনায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে জন্মাতে দেখা যেত থানকুনি পাতা। এখন সেই পরিচিত সবুজ গাছটি ধীরে ধীরে চোখের আড়াল হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আগের মতো আর সহজে পাওয়া যায় না এই ভেষজ গাছ।
গ্রামবাংলায় বহুল পরিচিত একটি ভেষজ উদ্ভিদ থানকুনি। পেটের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক, আমাশয়, ক্ষত নিরাময় এমনকি স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে বহুদিন ধরে। বয়স্কদের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মও একসময় নিয়মিত থানকুনি পাতার রস বা ভর্তা খেতেন।
স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের বলেন—রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার, খাল-বিল ভরাট, জলাশয় কমে যাওয়া এবং অপরিকল্পিত বসতবাড়ি ও স্থাপনা নির্মাণের কারণে থানকুনির স্বাভাবিক আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানোর সুযোগ কমে যাচ্ছে।
ব্রাহ্মণপাড়া বাজারের একাধিক বিক্রেতা জানান, আগে আশপাশের এলাকা থেকেই থানকুনি সংগ্রহ করা যেত। এখন অনেক সময় বাইরে থেকে আনতে হয়। ফলে দামও তুলনামূলক বেড়েছে।
উপজেলার সচেতন নাগরিকরা বলেন, থানকুনি শুধু একটি গাছ নয়—এটি আমাদের ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক চিকিৎসার অংশ। বাড়ির আঙিনায় কিংবা টবে সহজেই চাষ করা সম্ভব। প্রয়োজন শুধু একটু উদ্যোগ ও সচেতনতা।
স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ভেষজ গাছ সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া হলে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে থানকুনি পাতা—এমনটাই প্রত্যাশা উপজেলা বাসীর।
কেকে/এলএ