রক্তের কোনো সম্পর্ক নেই, নেই জন্মসূত্রের কোনো বন্ধন। তবুও মানুষের জীবনে সবচেয়ে গভীর ও নির্ভরতার সম্পর্কগুলোর একটি হলো বন্ধুত্ব। সুখ-দুঃখ, সাফল্য-ব্যর্থতা কিংবা জীবনের সবচেয়ে গোপন অনুভূতিগুলো যে মানুষের সঙ্গে নিঃসংকোচে ভাগ করে নেওয়া যায়, সেই মানুষটিই বন্ধু। আর এই অনন্য সম্পর্ককে উদযাপন করতেই আজ (২ আগস্ট) বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবস।
প্রখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন একবার বলেছিলেন, ‘সত্যিকারের ভালোবাসা যতই বিরল হোক, সত্যিকারের বন্ধুত্ব তার চেয়েও বিরল।’ এই উপলব্ধিই বন্ধুত্বের গভীরতা ও মূল্যকে নতুনভাবে উপলব্ধি করায়।
বন্ধুত্ব দিবসের তারিখ নিয়ে অনেকের মধ্যেই বিভ্রান্তি থাকে। কারণ বিশ্বজুড়ে দুটি ভিন্ন দিনে এ দিবস পালিত হয়। জাতিসংঘ ২০১১ সালে ৩০ জুলাইকে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর মূল লক্ষ্য বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদার করা।
অন্যদিকে বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে দীর্ঘদিন ধরে আগস্ট মাসের প্রথম রোববার বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবস উদযাপনের প্রচলন রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ২ আগস্ট দিবসটি পালিত হচ্ছে।
বন্ধুত্ব দিবসের ইতিহাস আরও পুরোনো। ১৯৫৮ সালে প্যারাগুয়ের চিকিৎসক ড. রামোন আরতেমিও ব্রাচো মানুষের মধ্যে শান্তি ও সৌহার্দ্য ছড়িয়ে দিতে ‘ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেড’ উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে এই ধারণা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং জাতিসংঘ তা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৩০-এর দশকে হলমার্ক কার্ডস-এর প্রতিষ্ঠাতা জয়স হল বন্ধুদের শুভেচ্ছা কার্ড বিনিময়ের মাধ্যমে ফ্রেন্ডশিপ ডে উদযাপনের ধারণা জনপ্রিয় করেন। নব্বইয়ের দশক থেকে বন্ধুত্বের ব্যান্ড, উপহার, আড্ডা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় দিনটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
বর্তমানে দিবসটি উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা বার্তা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, উপহার ও বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণের নানা আয়োজন দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে বন্ধুত্বের ব্যান্ড বিনিময়ের ঐতিহ্য এখনও জনপ্রিয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রকৃত বন্ধু মানুষের মানসিক সুস্থতা, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। গবেষণায়ও দেখা গেছে, শক্তিশালী সামাজিক সম্পর্ক মানসিক চাপ কমাতে এবং সুস্থ জীবনযাপনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবসের মূল বার্তা হলো—সম্পর্কের সেতুবন্ধন গড়ে তোলা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসকে শক্তিশালী করা এবং ভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষা ও ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা। তাই শুধু একটি দিন নয়, বছরের প্রতিটি দিনই বন্ধুত্বের মূল্যবোধ ধারণ ও চর্চার আহ্বান জানান সংশ্লিষ্টরা।
কেকে/ এমএস