মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর       কোনো রোগী যেন চিকিৎসার অভাবে দুর্ভোগে না পড়ে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী      রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণ      হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
ফ্যামিলি কার্ড, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিএনপির প্রচেষ্টা
রেজাউল করিম খোকন
প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:৪০ এএম আপডেট: ০৯.০৩.২০২৬ ১০:৪২ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ২০ দিনের মধ্যেই ১০ মার্চ, ২০২৬, মঙ্গলবার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনকল্যানমূলক কর্মসূচির একটি অন্যতম প্রকল্প ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। বিএনপি সরকার নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে।

১০ মার্চ থেকে পরীক্ষামূলক এই কার্ড দেওয়া হবে। যা ছিল এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রচারণায় চমকপ্রদ আকর্ষণ। একে একে দেশের সব পরিবারকে এই কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। 

ফ্যামিলি কার্ডের ব্যাপারে মানুষের মধ্যে বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। কারণ, দেশের মানুষ লম্বা সময় ধরে আর্থিক দুরবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বড় ধাক্কা এসেছিল করোনা মহামারির সময়। মানুষ কাজ হারায়, দারিদ্র্য বাড়ে। মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে। নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম বেড়ে যেতে দেখা যায়। অন্যদিকে দেশে চলমান প্রায় ১০০ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি দরিদ্র সব মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারেনি। এসব কর্মসূচিতে দ্বৈততা আছে, কাজের পুনরাবৃত্তি (ওভারল্যাপিং) আছে, সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ আছে। এ রকম একটি প্রেক্ষাপটে ফ্যামিলি কার্ড বড় ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু হওয়ার আগে থেকেই বিএনপি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর কথা বলে আসছিল। 

নির্বাচনি ইশতেহারে প্রধান প্রতিশ্রুতির শুরুতে ফ্যামিলি কার্ডের কথা আছে। এতে বলা হয়েছে, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থসেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কাজের অংশ হিসেবে পাইলটিং বা দিশারী প্রকল্প শুরু হয়েছে। ১৪টি স্থানে প্রকল্পের কাজ হবে। এলাকাগুলো হচ্ছে রাজধানীর কড়াইল বস্তি, ভাষানটেক বাগানবাড়ি বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ। 

প্রাথমিকভাবে নেওয়া প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন জায়গায় ডেটা এন্ট্রির কাজও প্রায় শেষ। আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজ শেষে ১০ মার্চ প্রাথমিকভাবে নেওয়া জায়গাগুলোতে এ কর্মসূচি শুরু করা হবে। ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করবেন। ওই দিনই সুবিধাভোগীদের কাছে মুঠোফোনে প্রথম মাসের নগদ সহায়তা পৌঁছে যাবে। উপকারভোগী নির্বাচনে ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে পাঁচ স্তরবিশিষ্ট কমিটি কাজ করবে। এ কর্মসূচির সরকারি নীতিপত্রে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড মূলত একীভূত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি। ব্রাজিলে এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে দারিদ্র্য কমেছে। ভারত, ইন্দোনেশিয়াতেও এ ধরনের পরিবারকেন্দ্রিক সহায়তা কর্মসূচি আছে, যাতে সফলতাও দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মূল দায়িত্বে থাকবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। তবে নারী ও শিশু, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থ, পরিকল্পনাসহ মোট ১৪টি মন্ত্রণালয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরাসরি যুক্ত থাকবে। 

এই মুহূর্তে পাইলটিং শুরু করা হবে। একপর্যায়ে দেশের সব পরিবার এই কার্ড পাবে। তবে এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবার। পরিবারে থাকা মা অথবা নারীপ্রধানের নামে এই কার্ড ইস্যু করবে সরকার। কার্ডের মালিকের বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে। কার্ডে নাগরিকের সব ধরনের তথ্য থাকবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই কার্ডকে ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রূপান্তর করার কথা বলা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে পরিবার নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবারের শ্রেণি (উচ্চ বা নিম্নবিত্ত) নির্ধারণ করা হবে। ভূমিহীন ও গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্যসংবলিত পরিবার, নারীপ্রধান পরিবার এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠী (হিজড়া, বেদে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী) আর্থিক বা খাদ্যপণ্য সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকা ছয়টি কর্মসূচির কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড আছে। প্রাথমিকভাবে নেওয়া চার মাসের প্রকল্পের সময় ৪০ হাজার পরিবারকে কার্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই চার মাসের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা। প্রকল্প শেষে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে অর্থ বিভাগ সে অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দ ও অর্থছাড় বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এ ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও বলেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। যেমন, নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অর্থনীতিতে সরবরাহ বৃদ্ধির প্রয়োজন হবে। প্রাথমিকভাবে নেওয়া প্রকল্প শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে ছোট পরিসরে গবেষণার কথাও বলা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় মনে করে, ফ্যামিলি কার্ডে অতিরিক্ত আর্থিক সংশ্লেষ থাকার কারণে তা বাজেটঘাটতি বৃদ্ধি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। যেমন কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো; ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাজেটঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা; অন্যান্য কর্মসূচির সঙ্গে দ্বৈততা এড়িয়ে ব্যয় কমানো এবং আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সমন্বয় করা। 

দেশে প্রায় ১০০ সামাজিক সুরক্ষা ও সহায়তা কর্মসূচি আছে। ফ্যামিলি কার্ড চালু হওয়ার পর সব নগদ ভাতা ও টিসিবি সহায়তা একক কার্ডের অধীনে আনা হবে। বর্তমানে চলমান সরকারি জনকল্যাণমূলক  সহায়তা কর্মসূচিতে বেশ কিছু ত্রুটি আছে। ইতঃপূর্বে  বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় দেওয়া সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা উপকারভোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব দেখা গেছে।  

এখন এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় টাকা বা খাদ্যপণ্য যা-ই হোক না কেন, তা যাবে নারীর হাতে। এখান থেকেই নারী সঞ্চয় করবেন। সহায়তা ও সঞ্চয় নারীর ক্ষমতায়ন ঘটাবে। এটা একটি চমকপ্রদ কর্মসূচি নিঃসন্দেহে। আমাদের দেশে অনেকেই মুখে মুখে নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার বিষয়ে অনেক অনেক বুলি আওড়ান। কিন্তু বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যায় খুব কম। কিন্তু এবারের বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড পরিবারের নারী সদস্যের নামে ইস্যু হওয়ার মাধ্যমে ঘরে তার যথার্থ মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে সুনিশ্চিতভাবেই। নব নির্বাচিত বিএনপি সরকারের এটি ভালো উদ্যোগ নিঃসন্দেহে। মনে রাখতে হবে, দেশে ১০০টির মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আছে, যেগুলো ২৫টির মতো মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করে। এতে দ্বৈততা, পুনরাবৃত্তি আছে। আছে দুর্নীতির অভিযোগ। ফ্যামিলি কার্ড চালুর মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোকে একই ধারায় করা যেতে পারে। 

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে। এর সঙ্গে আছে প্রশাসনিক ব্যয়। সে ক্ষেত্রে অর্থায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত নতুন সরকারের কর্মকাণ্ডের মধ্যে যেটা নতুন ও ইউনিক, তা হলো, তারেক রহমান বলেছেন, ‘উই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর দ্য পিপল, ফর দ্য কান্ট্রি’। এই পরিকল্পনার মূল উপাদান হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষক কার্ড চালু, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, ধর্মীয় নেতাদের কল্যাণ, পরিবেশ উন্নয়ন এবং বাধ্যতামূলক ক্রীড়া শিক্ষা। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। রাষ্ট্র পরিচালনায় কাঠামোগত সংস্কারে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং জনজীবনের মৌলিক সংকট মোকাবিলায় আটটি খাতভিত্তিক পরিকল্পনা করেছে বিএনপি। পরিকল্পনাগুলো হচ্ছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা, ক্রীড়া, পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীলতা এবং ধর্মীয় নেতাদের মর্যাদা ও কল্যাণ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি তাদের পরিকল্পিত জনকল্যানমূলক কর্মসূচির বিবরণ তুলে ধরতে গিয়ে এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। তখন বলা হয়, রাষ্ট্র মেরামতে বিএনপি যে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল, সেই অঙ্গীকারের ভেতরেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির ‘দ্য প্ল্যান’ সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই আটটি সামাজিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। এটিকে ভিন্ন ধরনের রাজনীতি বলেও  উল্লেখ করেছে তারা। 

খাতভিত্তিক পরিকল্পনা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবারকে মাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কার্ডটি থাকবে পরিবারের একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর নামে। কৃষকদের জন্য প্রস্তাবিত কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি প্রণোদনা, সহজ শর্তে ঋণ এবং বিমাসুবিধা থাকবে। জলবায়ুঝুঁকি, রোগবালাই ও বাজার অস্থিরতা মোকাবিলায় ফসল ও পশুপালন বিমাও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।স্বাস্থ্য খাতে বিএনপি এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাদের ৮০ শতাংশ হবেন নারী। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে সাধারণ রোগ সম্পর্কে ধারণা নেবেন। গ্রাম ও শহর উভয় এলাকায় নাগরিকদের দোরগোড়ায় প্রতিরোধমূলক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ২৪ ঘণ্টা বিনা মূল্যে ওষুধ, বড় রোগে স্বল্প মূল্যে চিকিৎসা, উপজেলা হাসপাতালে প্রসূতি সেবা সম্প্রসারণ এবং সারা বছর মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। 

শিক্ষা খাতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ পাঠ্যক্রম চালু এবং কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট এবং বিদেশি ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়নে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের কথা বলা হয়েছে। ক্রীড়া খাতে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা, চতুর্থ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক ক্রীড়া শিক্ষা, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মাধ্যমে ১২-১৪ বছর বয়সী মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, ৬৪ জেলায় ইনডোর সুবিধাসহ স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ, উপজেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগ, প্রতিটি বিভাগে বিকেএসপি শাখা, খেলার মাঠ সম্প্রসারণ এবং ক্রীড়া সরঞ্জাম শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। পরিবেশ খাতে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন বা পুনঃখনন, তিস্তা ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণ, সারা দেশে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বর্জ্য থেকে জ্বালানি ও জৈব সার উৎপাদনের পরিকল্পনা জানানো হয়। ধর্মীয় নেতাদের কল্যাণে মাসিক সম্মানী, উৎসব ভাতা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট শক্তিশালীকরণসহ অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ের প্রধানদের জন্যও অনুরূপ সুবিধার কথা বলা হয়। এগুলো শুধু নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল না; বরং রাষ্ট্র পরিচালনার ভবিষ্যৎ রূপকল্প বলা চলে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে সামনে রেখেই এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। 

আমাদের প্রত্যাশা, শুধুমাত্র কিছু পাইলট প্রকল্পের মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য এই কল্যাণমূলক কর্মসূচি সীমাবদ্ধ থাকবে না, খুব শিগগিরই এটি বাংলাদেশজুড়ে প্রত্যন্ত পল্লি, পার্বত্য অঞ্চল, চরাঞ্চলে বসবাসরত দরিদ্র, নিম্ন আয়ের অসচ্ছল পরিবার থেকে শুরু করে শহরাঞ্চলে বিভিন্ন বস্তি এলাকায় অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করা নিম্ন আয়ের অসচ্ছল পরিবার এই ফ্যামিলি কার্ডের সুফলভোগী হবে। তাহলেই এই চমৎকার উদ্যোগটি সার্থকতা লাভ করবে। মাঝপথে নানা অজুহাতে যদি এই কর্মসূচি দেশব্যাপী বিস্তৃতি লাভ করতে না পারে, তা হলে সেটা হবে একধরনের প্রহসন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দুঃখ দারিদ্র্য নিয়ে বিরাট উপহাস।
 
লেখক : কলামিস্ট

কেকে/এসএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ফ্যামিলি কার্ড   বিএনপি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close