মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণ      হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      
খোলাকাগজ স্পেশাল
জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৯:৫২ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকার সরকারি আশ্বাস থাকলেও রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা দিয়েছে ডিজেলের কৃত্রিম সংকট। সরকার নির্ধারিত রেশনিং পদ্ধতির তুলনায় কম সরবরাহ পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন গণপরিবহন চালকরা। প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় লোকাল ও দূরপাল্লার বাস মালিকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সোমবারও জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটেছে। যেসব পাম্পে বিক্রি বন্ধ রয়েছে, সেসব স্থানেও ডিজেল, পেট্রল ও অকটেন পাওয়ার আশায় মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকেরা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

চালকদের ভাষ্য, গাড়ি নিয়ে অন্য পাম্পে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি অনেকের নেই। কারও গাড়ির তেল পুরোপুরি শেষ, আবার কারও প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা ছাড়া বিকল্প নেই। পাম্প ছেড়ে অন্যত্র গেলে মাঝপথে গাড়ি ঠেলে নিতে হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকে।

এ ছাড়া যেসব ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি চলছে, সেখানেও দীর্ঘ যানজটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহনের সারি এক থেকে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। চালকদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, দেড় থেকে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

সোমবার সকালে মিরপুর, কল্যাণপুর, মোহাম্মদপুর, বিজয়সরণি ও কালশী এলাকার অন্তত নয়টি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, এর মধ্যে তিনটিতে তেল বিক্রি বন্ধ। একটি পাম্পে শুধু ডিজেল এবং আরেকটিতে শুধু অকটেন বিক্রি করা হচ্ছিল। বাকি চারটি পাম্পে সীমিত পরিসরে ডিজেল ও অকটেন সরবরাহ করা হয়েছে।

সবচেয়ে দীর্ঘ সারি দেখা যায় বিজয়সরণি সংলগ্ন ট্রাস্ট পাম্পে। বেলা পৌনে ১১টার দিকে সেখানে প্রাইভেট কারের লাইন দেড় কিলোমিটারেরও বেশিদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। ব্যক্তিগত গাড়ির সারি জাহাঙ্গীরগেট ছাড়িয়ে মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল পর্যন্ত পৌঁছে যায়। একই পাম্পে মোটরসাইকেলের লাইন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূল ফটক পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়ায়।

এদিকে সরকার বলছে, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণেই সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার দশ দিনের মাথায় সোমবার ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে আরও চারটি ট্যাংকার আসার কথা রয়েছে, যেগুলোতে মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার ২০৫ টন ডিজেল রয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুর থেকে রাতেই বন্দর জলসীমায় পৌঁছেছে শিউ চি নামের ট্যাংকারটি। এটিতে ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল রয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ট্যাংকারটি এখন কুতুবদিয়ায় রয়েছে।

শিপিং এজেন্ট সূত্রে জানা গেছে, এরপর ধারাবাহিকভাবে আরও চারটি ট্যাংকার আসবে বন্দরে। সিঙ্গাপুর থেকে আজ রাতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে লিয়ান হুয়ান হু নামের ট্যাংকার। এটিতে প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এসপিটি থেমিস। এটিতে ৩০ হাজার ৪৮৪ টন ডিজেল রয়েছে। র‌্যাফেলস সামুরাই নামের ট্যাংকারটি পৌঁছানোর কথা আগামী শনিবার। একই সময়ে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে চ্যাং হ্যাং হং টু নামের ট্যাংকার। এই দুটিতে প্রায় ৩০ হাজার টন করে ডিজেল রয়েছে।

এই চারটি ট্যাংকারের স্থানীয় প্রতিনিধি প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চারটি ট্যাংকার এক সপ্তাহের মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বন্দর জলসীমায় পৌঁছানোর পর পালাক্রমে খালাস শুরু হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, দেশে ডিজেলের স্বাভাবিক চাহিদা ১২ হাজার টন। এ হিসাবে এই পাঁচ ট্যাংকারের পরিশোধিত ডিজেল দিয়ে ১২ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে। তবে গতকাল রোববার থেকে দিনে কমিয়ে ৯ হাজার ২২ লিটার করে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। তাতে ১৬ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে। দেশে মজুত থাকা ডিজেল দিয়ে চলবে আরও ১৬-১৭ দিন। অর্থাৎ আগামী এক মাসের চাহিদার সমান ডিজেল আসছে। বিপিসির হিসাবে, দেশের জ্বালানি চাহিদার ৭০ শতাংশ ডিজেল। ডিজেলের সিংহভাগ সরাসরি আমদানি করে মেটাতে হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নয়টি দেশ থেকে ২৩ লাখ ২৮ হাজার টন ডিজেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে ৭৮ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে কোনো ডিজেল আমদানি করা হয়নি। 

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  জ্বালানি তেল   কৃত্রিম সংকট  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close