গণতান্ত্রিক সরকার হচ্ছে জনগণের সরকার। সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন সুশাসনের অংশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করে ও জবাবদিহিতা এবং দায়িত্বশীল সরকারের পরিচয় দিয়েছেন। যা সংসদীয় এবং কার্যকরী সরকার ব্যবস্থার অন্যতম নিয়ামক। এ জন্য বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানাই।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হলো। প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারায় তিনি বলেছেন এটি ব্যক্তিগতভাবে তার জন্য যেমন একটি আবেগের দিন, তেমনি তার সরকার ও দল বিএনপির জন্য একটি ঐতিহাসিক, একটি আবেগের দিন।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, এ কর্মসূচির বিষয়টি নিয়ে বিএনপি বহু বছর ধরে পরিকল্পনা করেছে। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ব্যাপারে তার দল প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের এক মাসের কম সময়ের মধ্যে তারা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলেন। তাই আজ একটি স্মরণীয় দিন। ঐতিহাসিক দিন। পর্যায়ক্রমে সবার কাছে তারা এ কার্ড নিয়ে যেতে পারবেন বলে আশাবাদী। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে এই কার্ড চালু করা হলো।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে উপকারভোগী পরিবারগুলো ভাতা পাবে। ভাতার টাকা যাবে উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে। তারা ঘরে বসেই ভাতা পাবেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেলে সেগুলো বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা চলমান ভাতা নিতে পারবেন।
পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা, অনুদান, পেনশন পেয়ে থাকলে, নারী পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মচারী হিসেবে চাকরিরত থাকলে ওই পরিবার ভাতা পাওয়ার জন্য যোগ্য হবে না।
এ ছাড়া কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকলে বা বিলাসবহুল সম্পদ, যেমন গাড়ি, এসি থাকলে বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলেও ওই পরিবার ভাতা পাবে না। জানা গেছে ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে।
দীর্ঘ ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের ফ্যাসিবাদী শাসন, আঠারো মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসন এবং অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরষ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করে।
ইতোমধ্যে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করে তার ভালো কাজ শুরু করেছে। আমরা আশা করব, এ কার্ড বিতরণে যেন কোনো অনিয়ম এবং দুর্নীতি না হয়। প্রকৃত পরিবারই এই সুবিধা পাক। তাহলে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
কেকে/ এমএস